OrdinaryITPostAd

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে ১০ মিনিটে ফিরে পাবেন যেভাবে

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে ১০ মিনিটে ফিরে পাবেন যেভাবে

আপনার প্রোফাইল যখন ঝুঁকির মধ্যে — প্রতিটি সেকেন্ডই গুরুত্বপূর্ণ। এই পোষ্টে আমরা ধাপে ধাপে এমন প্রমাণভিত্তিক, সহজ ও কার্যকর উপায় দেখাবো যার বেশিরভাগই আপনি নিজেই ১০ মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন করে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারবেন। এখনই পড়ে নিন — কারণ দ্রুত কাজ করলে ক্ষতি কমে, আর শান্তি ফিরে আসে।

√ দ্রুত করণীয় • √ নিরাপদ নির্দেশনা • √ বাস্তব উদাহরন 

📑 বিষয়বস্তু (সূচিপত্র)

১. হ্যাক অ্যাকাউন্ট সাথে সাথে রিপোর্ট করুন
২. পাসওয়ার্ড রিসেট করার চেষ্টা করুন
৩. ইমেইল ও ফোন নম্বর চেক করুন
৪. পরিচয় যাচাই (ID Verification) দিন
৫. টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করুন
৬. Trusted Contacts ব্যবহার করুন
৭. Security Checkup করুন
✅ সুরক্ষার টিপস ও করণীয়,

১. হ্যাক অ্যাকাউন্ট সাথে সাথে রিপোর্ট করুন

অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে বুঝতে পারলেই সময় নষ্ট না করে রিপোর্ট করাই প্রথম কাজ। দ্রুত রিপোর্ট করলে ফেসবুক আপনার প্রোফাইলে নিরাপত্তা স্ক্যান চালায়, সন্দেহজনক লগইন ব্লক করে এবং পুনরুদ্ধারের ধাপগুলো শুরু করে। এতে হ্যাকার আরও ক্ষতি করার আগেই আপনি নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ পান।

রিপোর্ট করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পাথ হলো facebook.com/hacked (Report Compromised Account)। এখানে গিয়ে আপনার লগইন ইমেইল/ফোন দিন, তারপর “My account was compromised” অপশনটি সিলেক্ট করে অন-স্ক্রীন নির্দেশনা অনুসরণ করুন। সিস্টেম আপনার পরিচয় যাচাই করতে কোড পাঠাতে পারে, সাম্প্রতিক কার্যকলাপ দেখাতে পারে এবং সন্দেহজনক সেটিংস ঠিক করার জন্য স্টেপ-বাই-স্টেপ গাইড দেবে।

যদি হ্যাকার আপনার ইমেইল বা ফোন নম্বর বদলে দেয়, তাহলে “No longer have access to these?” অপশন বেছে নিন। নতুন একটি কনট্যাক্ট (ইমেইল/ফোন) দিন যাতে ফেসবুক আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে। প্রয়োজনে জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্ট দিয়ে ID Verification চাওয়া হতে পারে—সেক্ষেত্রে স্পষ্ট ছবি আপলোড করুন এবং নাম-জন্ম তারিখ অ্যাকাউন্টের তথ্যের সঙ্গে মিল আছে কিনা নিশ্চিত করুন।

আরো পড়ুন: আপনার নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলেছে- করনীয় কি?

রিপোর্ট সাবমিট করার পর Support Inbox (facebook.com/support) নজরে রাখুন। এখানে কেসের স্ট্যাটাস, অতিরিক্ত ভেরিফিকেশন কিংবা নিরাপত্তা নির্দেশনা দেখতে পাবেন। এসময় কোনো ফিশিং লিংকে ক্লিক করবেন না এবং নিজেকে ফেসবুক সাপোর্ট বলে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিকে কোড/পাসওয়ার্ড দেবেন না—ফেসবুক কখনোই ইনবক্সে পাসওয়ার্ড চায় না।

রিপোর্টের সাথে সাথে আপনার যুক্ত ইমেইল অ্যাকাউন্টগুলোর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন এবং যেসব তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ/ওয়েবসাইটে ফেসবুক দিয়ে লগইন করেছিলেন সেগুলোর অ্যাক্সেস সাময়িকভাবে রিভোক করুন। এতে হ্যাকার অন্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবার ঢোকার ঝুঁকি কমে।

সংক্ষেপে, অফিশিয়াল রিপোর্ট + পরিচয় যাচাই + নিরাপত্তা স্ক্যান—এই তিনটি ধাপ যত দ্রুত করবেন, ততই ১০ মিনিটের মধ্যে অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। পরের সেকশনে দেখানো হবে কিভাবে পাসওয়ার্ড রিসেটসহ বাকি নিরাপত্তা ধাপগুলো সম্পন্ন করবেন।

২. পাসওয়ার্ড রিসেট করার চেষ্টা করুন

অ্যাকাউন্ট হ্যাক বা সন্দেহজনক কার্যক্রমের পর পাসওয়ার্ড রিসেট করা হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শুরুতে facebook.com/login/identify এ যান এবং আপনার রেজিস্টার্ড ইমেইল বা ফোন নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুঁজুন। সঠিক অ্যাকাউন্ট পেলে “Send code” বা “Reset password” অপশন দিয়ে নিশ্চিত করুন যে ফেসবুক আপনার কাছে ভেরিফিকেশন কোড পাঠাচ্ছে।

যদি আপনার ইমেইল/ফোন বদলে গেছে তবে “No longer have access to these?” বা লগইন আইডেন্টিফায়ার ফর্মে দেওয়া বিকল্পগুলো ব্যবহার করুন। কখনোই তৃতীয় পক্ষের সরঞ্জাম থেকে পাঠানো লিঙ্কে ক্লিক করে পাসওয়ার্ড দিননি—অফিশিয়াল পেজেই কোড ব্যবহার করে রিসেট করুন।

নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির সময় নিম্নলিখিত নিয়মগুলো মেনে চলুন:

  • দীর্ঘ এবং জটিল হতে হবে — অন্তত ১২ অক্ষর, বড়-ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা ও সিম্বল মিক্স করুন।
  • পূর্বের পাসওয়ার্ড বা সহজ অনুমেয় তথ্য (জন্মতারিখ, নাম) ব্যবহার করবেন না।
  • প্রতিটি প্রধান সার্ভিসের জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড রাখুন — পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করলে সুবিধা পাবেন।

রিসেট সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিচের অতি জরুরি কাজগুলো করুন:

  1. ফেসবুক সেশানগুলো চেক করে সব অচেনা ডিভাইস থেকে লগ আউট করুন (Settings → Security and Login → Where You're Logged In)।
  2. আপনার রেজিস্টার্ড ইমেইল অ্যাকাউন্টটির পাসওয়ার্ডও তৎক্ষণাত বদলান — কারণ ইমেইল মারফত হ্যাকার আবার অ্যাক্সেস পেতে পারে।
  3. যে সব তৃতীয়-পক্ষ অ্যাপ বা সাইটে Facebook Login ব্যবহার করেছিলেন, সেগুলোর অ্যাক্সেস রিভোক করুন (Settings → Apps and Websites)।

পাসওয়ার্ড রিসেট সম্পর্কিত নিরাপত্তা টিপস:

  • কোনো ভেরিফিকেশন কোড কাউকে শেয়ার করবেন না। ফেসবুক কখনোই আপনার পাসওয়ার্ড ইনবক্সে চায় না।
  • পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করলে শক্ত পাসওয়ার্ড সঞ্চয় ও স্বয়ংক্রিয় প্রবেশ সুবিধা দুটোই মেলে।
  • পাবলিক/অজনপ্রবেশযোগ্য ওয়াইফাই তে লগইন করার সময় সতর্ক থাকুন—সেটিংসে ব্রাউজার/কুকি ক্লিয়ার করে নিন যদি সন্দেহ থাকে।

আরো পড়ুন: যেসব ভুলের কারনে আপনার ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল হয় না 

পাসওয়ার্ড সফলভাবে রিসেট করে সেশন, ইমেইল ও অ্যাপস চেক করলে আপনার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ দ্রুত ফিরে আসবে। পরবর্তী ধাপে আমরা দেখাবো কিভাবে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করে ভবিষ্যতে পুনরায় হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি কমানো যায়।

৩. ইমেইল ও ফোন নম্বর চেক করুন

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে প্রথমেই হ্যাকাররা সাধারণত প্রোফাইলের সাথে যুক্ত ইমেইল এবং ফোন নম্বর পরিবর্তন করে নেয়। কারণ এগুলো নিয়ন্ত্রণ করলে সহজেই পাসওয়ার্ড রিসেট করা যায় এবং আসল মালিককে অ্যাকাউন্ট থেকে বের করে দেওয়া সম্ভব হয়। তাই অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আপনার প্রাইমারি ইমেইল ও ফোন নম্বর ঠিক আছে কিনা সেটি যাচাই করা জরুরি।

যাচাই করার জন্য:

  • Settings → Security and Login → Account Information এ যান।
  • এখানে যুক্ত Primary Email এবং Phone Number চেক করুন।
  • যদি কোনো অপরিচিত ইমেইল বা ফোন নম্বর যুক্ত থাকে, তাৎক্ষণিকভাবে Remove করুন।
  • নিজের নির্ভরযোগ্য ইমেইল এবং ফোন নম্বর যোগ করুন ও সেগুলো ভেরিফাই করুন।

অনেক সময় হ্যাকার আপনার রিকভারি অপশন (backup email বা secondary number) পরিবর্তন করে দিতে পারে। এজন্য Contact Information সেকশনেও নজর দিন। যদি কোনো অচেনা তথ্য পান তবে দ্রুত মুছে ফেলুন।

মনে রাখবেন, নিরাপদ ইমেইল ও ফোন নম্বর অ্যাকাউন্টের জন্য লাইফলাইন। এগুলো ছাড়া ফেসবুক আপনার পরিচয় যাচাই করতে এবং পাসওয়ার্ড রিসেট করাতে পারবে না। তাই রিকভারি তথ্য সর্বদা আপডেট রাখুন এবং যেসব ইমেইল বা নম্বর ব্যবহার করেন না সেগুলো সরিয়ে ফেলুন।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—যদি আপনি সন্দেহ করেন যে হ্যাকার আপনার ইমেইল একাউন্ট (যেমন Gmail, Yahoo, Outlook) হ্যাক করেছে, তবে সেখানকার পাসওয়ার্ডও অবশ্যই বদলান। অন্যথায় হ্যাকার আবার ফেসবুকের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।

সংক্ষেপে, ফেসবুক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় সঠিক ইমেইল ও ফোন নম্বর নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি ধাপ। এগুলো সঠিকভাবে আপডেট করলে ফেসবুক আপনার পরিচয় যাচাই সহজে করতে পারবে এবং ভবিষ্যতে হ্যাক হওয়ার ঝুঁকিও কমে যাবে।

৪. পরিচয় যাচাই (ID Verification) দিন

যদি আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে থাকে এবং পাসওয়ার্ড রিসেট বা ইমেইল-ফোন নম্বর পরিবর্তনের কারণে লগইন করতে না পারেন, তবে ফেসবুক ID Verification প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপনার পরিচয় নিশ্চিত করে অ্যাকাউন্ট ফিরিয়ে দিতে পারে। এটি হলো সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়, যেখানে আপনাকে সরকার স্বীকৃত পরিচয়পত্র (যেমন জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স) জমা দিতে হয়।

আরো পড়ুন: ফেসবুক প্রোফাইল হ্যাক থেকে বাঁচার উপায়!

পরিচয় যাচাই করার জন্য:

  • প্রথমে Facebook Help Center এ যান।
  • Upload an ID” বা “Confirm Your Identity” অপশন নির্বাচন করুন।
  • সেখানে একটি Clear & High-quality ছবি আপলোড করুন, যেখানে আপনার নাম, জন্মতারিখ এবং ছবিটি স্পষ্ট দেখা যায়।
  • আপলোডের পর ফেসবুকের সিকিউরিটি টিম আপনার তথ্য যাচাই করবে এবং সাধারণত ২৪–৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবে।

মনে রাখবেন, আপনার আইডিতে থাকা তথ্য অবশ্যই আপনার ফেসবুক প্রোফাইলের তথ্যের সাথে মিলে যেতে হবে। যেমন নাম, জন্মতারিখ বা ছবিতে বড় কোনো পার্থক্য থাকলে ভেরিফিকেশন নাও হতে পারে। তাই প্রোফাইল তথ্য সবসময় আসল অনুযায়ী রাখুন

আইডি জমা দেওয়ার সময় নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন:

  • অস্পষ্ট বা কেটে যাওয়া ছবি ব্যবহার করবেন না।
  • আইডির তথ্য গোপন রাখতে অপ্রয়োজনীয় অংশ ঢেকে দিতে পারেন, তবে নাম, জন্মতারিখ ও ছবি স্পষ্ট থাকতে হবে।
  • অফিশিয়াল চ্যানেল ছাড়া অন্য কোথাও আইডি আপলোড করবেন না।

ID Verification সফল হলে ফেসবুক আপনার অ্যাকাউন্টে পুনরায় প্রবেশাধিকার দেবে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সেটিংস চালু করার সুযোগ দেবে। এই ধাপটি বিশেষত কার্যকর যখন হ্যাকার আপনার সব রিকভারি অপশন পরিবর্তন করে দেয় এবং অন্য কোনো উপায়ে লগইন সম্ভব হয় না।

৫. টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করুন

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের পর সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (Two-Factor Authentication বা 2FA) চালু করা। এটি একটি অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্তর যা নিশ্চিত করে যে শুধু পাসওয়ার্ড জানলেই কেউ আপনার একাউন্টে ঢুকতে পারবে না। লগইনের সময় আপনাকে একটি ভেরিফিকেশন কোড দিতে হবে যা আপনার ফোনে বা অথেনটিকেটর অ্যাপে আসবে। ফলে হ্যাকার পাসওয়ার্ড পেলেও আপনার অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করতে পারবে না।

টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করার ধাপগুলো:

  1. ফেসবুক মেনুতে গিয়ে Settings → Security and Login নির্বাচন করুন।
  2. Two-Factor Authentication” অপশন খুঁজে বের করুন এবং Get Started এ ক্লিক করুন।
  3. আপনার পছন্দ অনুযায়ী Authentication Method বেছে নিন:
    • SMS Code: ফোন নম্বরে কোড আসবে।
    • Authenticator App: Google Authenticator বা Authy ব্যবহার করে কোড জেনারেট হবে।
    • Security Key: ফিজিক্যাল সিকিউরিটি কী ব্যবহার করে লগইন ভেরিফাই করা যাবে।
  4. সেটআপ শেষ হলে প্রতিবার নতুন ডিভাইস থেকে লগইন করার সময় পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি কোড দিতে হবে।

টু-ফ্যাক্টর চালু করলে আপনার অ্যাকাউন্টের সুরক্ষা বহুগুণ বেড়ে যায়। হ্যাকার যদি আপনার পাসওয়ার্ড জেনে ফেলেও, আপনার ফোন বা অথেনটিকেটর অ্যাপ ছাড়া লগইন করতে পারবে না। তাই এটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।

অতিরিক্ত টিপস:

  • ব্যাকআপ কোড ডাউনলোড করে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করুন।
  • অ্যাকাউন্টে Trusted Devices যোগ করুন যাতে আপনার ব্যক্তিগত ডিভাইসে বারবার কোড না আসে।
  • ফিশিং মেসেজে পাওয়া ভুয়া লিঙ্কে কখনো কোড লিখবেন না।

সংক্ষেপে, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করা মানে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি অতিরিক্ত তালা লাগানো। এটি শুধু বর্তমান নিরাপত্তা নয়, ভবিষ্যতেও আপনার প্রোফাইলকে হ্যাকিং থেকে সুরক্ষিত রাখবে।

৬. Trusted Contacts ব্যবহার করুন

ফেসবুক হ্যাক হলে আপনার অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো Trusted Contacts ফিচার। এটি এমন একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেখানে আপনি আগেই কয়েকজন নির্ভরযোগ্য বন্ধু নির্বাচন করে রাখেন। প্রয়োজনে তারা আপনাকে বিশেষ রিকভারি কোড পাঠাতে পারবে, যা ব্যবহার করে সহজেই অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবেন।

Trusted Contacts সেটআপ করার নিয়ম:

  1. ফেসবুক মেনুতে যান → Settings → Security and Login
  2. Choose Friends to Contact if You Are Locked Out” অপশনটি সিলেক্ট করুন।
  3. কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ জন বিশ্বাসযোগ্য বন্ধু নির্বাচন করুন।
  4. নির্বাচিত বন্ধুদের নাম ফেসবুক সংরক্ষণ করে রাখবে এবং প্রয়োজনে তাদের মাধ্যমে আপনাকে রিকভারি কোড পাঠাবে।

যখন আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হবে এবং লগইন করতে পারবেন না, তখন ফেসবুক Trusted Contacts থেকে কোড নেওয়ার অপশন দেবে। প্রতিটি বন্ধুর কাছ থেকে একটি করে কোড সংগ্রহ করুন এবং সেগুলো একত্রে ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করুন।

Trusted Contacts নির্বাচন করার সময় অবশ্যই এমন বন্ধু বেছে নিন যাদের সঙ্গে আপনার সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে এবং যারা নির্ভরযোগ্য। ভুল ব্যক্তিকে যোগ করলে ভবিষ্যতে আপনার অ্যাকাউন্ট আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই শুধুমাত্র বিশ্বস্ত বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

আরো পড়ুন: আজকের দিনে ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ডস-কি নিয়ে সরগরম ইন্টারনেট ?

সংক্ষেপে, Trusted Contacts হলো এমন একটি নিরাপত্তা ফিচার যা আপনাকে হ্যাকড অ্যাকাউন্ট খুব দ্রুত ফিরে পেতে সাহায্য করে। এটি আগেই সেটআপ করলে ভবিষ্যতে বড় সমস্যায় পড়লে বন্ধুরা আপনার রিকভারি প্রক্রিয়ায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

৭. Security Checkup করুন

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের পর সর্বশেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো Security Checkup করা। এটি ফেসবুকের একটি বিল্ট-ইন সিকিউরিটি টুল যা আপনার একাউন্টের নিরাপত্তা অবস্থা পরীক্ষা করে এবং অপরিচিত লগইন, ডিভাইস, অ্যাপস এবং সেটিংস দ্রুত শনাক্ত করতে সাহায্য করে।

Security Checkup করার ধাপ:

  1. facebook.com/security/checkup এ যান।
  2. এখানে আপনার সাম্প্রতিক লগইন কার্যকলাপ দেখাবে — যদি কোনো অপরিচিত ডিভাইস থাকে, সাথে সাথে Log Out করুন।
  3. পাসওয়ার্ড শক্তিশালী কিনা চেক করুন, দুর্বল হলে নতুন ও জটিল পাসওয়ার্ড দিন।
  4. টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।
  5. তৃতীয় পক্ষের অ্যাপস এবং ওয়েবসাইট যেগুলোতে Facebook Login ব্যবহার করেছেন, সেগুলোর অনুমতি রিভিউ করুন এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ মুছে ফেলুন।

Security Checkup এর মাধ্যমে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন হ্যাকার এখনও আপনার অ্যাকাউন্টে সক্রিয় আছে কিনা। একইসাথে এটি আপনাকে ভবিষ্যতের জন্য সঠিক নিরাপত্তা সেটিংস সাজেস্ট করবে, যা আপনার অ্যাকাউন্টকে আরও শক্তিশালী করবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত Security Checkup করলে আপনার একাউন্ট হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। এটি কেবল হ্যাকড অ্যাকাউন্ট রিকভারি নয়, বরং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবেও কাজ করে।

সংক্ষেপে, ফেসবুকের Security Checkup হলো একটি সম্পূর্ণ নিরাপত্তা স্ক্যানার যা আপনার একাউন্টের সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং ভবিষ্যতে আবার হ্যাক হওয়া থেকে রক্ষা করে। তাই পুনরুদ্ধারের পর অবশ্যই এই ধাপটি সম্পন্ন করুন।

✅ সুরক্ষার টিপস ও করণীয়

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের পর সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো ভবিষ্যতে যেন এটি আর হ্যাক না হয়, সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এজন্য কিছু সুরক্ষার টিপস ও করণীয় রয়েছে যা নিয়মিত অনুসরণ করলে আপনার একাউন্ট অনেক বেশি নিরাপদ থাকবে। শুধু পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করলেই কাজ শেষ নয়, বরং সচেতন থেকে সঠিক সেটিংস ব্যবহার করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সুরক্ষার জন্য করণীয়:

  • শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন: বড় অক্ষর, ছোট অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন দিয়ে জটিল পাসওয়ার্ড তৈরি করুন।
  • টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখুন: এতে পাসওয়ার্ড ফাঁস হলেও হ্যাকার সহজে প্রবেশ করতে পারবে না।
  • অপরিচিত লিংক এড়িয়ে চলুন: ইমেইল বা মেসেজে সন্দেহজনক লিংক পেলে ক্লিক করবেন না।
  • অ্যাকাউন্ট লগইন অ্যালার্ট চালু করুন: নতুন ডিভাইস থেকে লগইন হলে ফেসবুক নোটিফিকেশন পাঠাবে।
  • বিশ্বস্ত ডিভাইস ব্যবহার করুন: সাইবার ক্যাফে বা পাবলিক কম্পিউটার থেকে লগইন করা এড়িয়ে চলুন।
  • অ্যাপস ও গেমস চেক করুন: যেসব থার্ড-পার্টি অ্যাপ অপ্রয়োজনীয়, সেগুলো মুছে ফেলুন।
  • ইমেইল অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখুন: ফেসবুকের সাথে যুক্ত ইমেইলও যেন হ্যাক না হয় তা নিশ্চিত করুন।
  • প্রোফাইল প্রাইভেসি সেটিংস ঠিক করুন: কে আপনার তথ্য দেখতে পারবে তা নিয়মিত রিভিউ করুন।

অতিরিক্ত টিপস: সময়ে সময়ে আপনার অ্যাকাউন্টের Security Checkup করুন এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ নজরে এলে দ্রুত পদক্ষেপ নিন। এছাড়াও, আপনার ব্যক্তিগত তথ্য যেমন জন্মতারিখ, ফোন নম্বর ইত্যাদি অপ্রয়োজনীয়ভাবে সর্বজনীন করবেন না।

আরো পড়ুন:২০২৫ সালে ফেসবুক নিরাপত্তা: হ্যাক ঠেকাতে এই ৫টি সেটিং এখনই চালু করুন 

সার্বিকভাবে, ফেসবুক সুরক্ষার মূল মন্ত্র হলো সচেতনতা ও নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাই। উপরোক্ত টিপসগুলো মেনে চললে আপনার ফেসবুক একাউন্ট অনেকাংশে নিরাপদ থাকবে এবং ভবিষ্যতে হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি কমে যাবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪