এনআইডি হারিয়ে গেলে অনলাইনে কপি সংগ্রহ করার উপায়
😟 জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) হারিয়ে ফেলেছেন? দুশ্চিন্তার কিছু নেই!
ব্যাংক, মোবাইল সিম, পাসপোর্ট কিংবা সরকারি সেবা নেওয়ার সময় এনআইডি ছাড়া কাজ আটকে যায়। কিন্তু ঘরে বসেই অনলাইনে সঠিক নিয়মে আবেদন করলে হারানো কার্ডের কপি সংগ্রহ করা সম্ভব।
এই পোস্টে ধাপে ধাপে সহজ ভাষায় জানতে পারবেন প্রথমে কী করবেন, কী কী কাগজপত্র লাগবে, কীভাবে আবেদন করবেন এবং ভুল এড়াতে কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন। তাই পুরো পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে শেষ পর্যন্ত পড়ুন, এতে বারবার অফিসে ঘোরার ঝামেলা অনেকটাই কমে যাবে। 👇
🔎 এনআইডি হারিয়ে গেলে প্রথমে কী করবেন?
এনআইডি হারিয়ে গেলে প্রথমে শান্ত থাকুন এবং ভালোভাবে খুঁজে দেখুন। অনেক সময় কার্ডটি ব্যাগ, জামার পকেট, গাড়ির সিট বা অফিসের ড্রয়ারে পাওয়া যায়। কিছুক্ষণ খুঁজেও না পেলে ধরে নিন কার্ডটি হারিয়ে গেছে এবং পরের ধাপগুলো শুরু করুন।
দ্বিতীয় কাজ হলো এনআইডি নম্বর খুঁজে বের করা, কারণ এই নম্বর ছাড়া পোর্টালে আবেদন করা কঠিন। পুরোনো ব্যাংক হিসাবের ফর্ম, পাসপোর্টের আবেদন, সিম নিবন্ধনের কাগজ বা পরিবারের কারও কাছে থাকা ফটোকপিতে নম্বরটি লেখা থাকতে পারে। মোবাইলের গ্যালারি ও ইমেইলে পুরোনো স্ক্যান কপিও দেখে নিন।
তৃতীয়ত, কার্ডের অপব্যবহারের ঝুঁকি বিবেচনা করুন। এনআইডিতে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য থাকে, তাই অন্য কেউ ভুয়া সিম, ব্যাংক হিসাব বা ঋণের জন্য এটি ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে। কার্ডটি চুরি হয়েছে বলে সন্দেহ হলে থানায় জানিয়ে রাখা নিরাপদ। ব্যাংক বা মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে আপনার এনআইডি যুক্ত থাকলে নিজের হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেন বা সিম নিবন্ধন হয়েছে কি না, সেদিকেও নজর রাখুন।
চতুর্থ ধাপ হলো অনলাইনে রিইস্যুর আবেদনের প্রস্তুতি নেওয়া। এখন হারানো এনআইডি তুলতে জিডি বাধ্যতামূলক নয়। স্মার্টফোন, ইন্টারনেট, সচল মোবাইল নম্বর এবং ফি দেওয়ার জন্য মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট প্রস্তুত রাখুন। এরপর নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল এনআইডি সেবা পোর্টালে গিয়ে আবেদন শুরু করুন।
📝 জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করার নিয়ম
জিডি হলো থানায় নথিভুক্ত করা একটি সাধারণ ডায়েরি, যেখানে কোনো জিনিস হারানোর কথা লিখে রাখা হয়। আগে এনআইডি হারালে নতুন কার্ড তুলতে জিডির কপি দিতে হতো। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এই বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়েছে। এখন অনলাইনে আবেদন করে নির্ধারিত ফি জমা দিলেই হারানো এনআইডি তোলা যায়।
তাহলে কি জিডি একেবারেই অপ্রয়োজনীয়? না। কমিশনের জন্য বাধ্যতামূলক না হলেও নিজের নিরাপত্তার জন্য জিডি করা ভালো, বিশেষ করে যদি সন্দেহ হয় কার্ডটি চুরি হয়েছে বা অন্য কারও হাতে পড়েছে। ভবিষ্যতে কেউ কার্ডটি অপব্যবহার করলে জিডির কপি প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগতে পারে। কিছু ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান নিজেদের কাজের জন্যও জিডির কপি চাইতে পারে।
জিডি করতে চাইলে নিকটস্থ থানায় যান। একটি সাদা কাগজে সংক্ষেপে লিখুন আপনার নাম, পিতা ও মাতার নাম, বর্তমান ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, এনআইডি নম্বর এবং কোথায় ও কখন কার্ডটি হারিয়েছে। সঙ্গে অন্য কোনো পরিচয়পত্র বা এনআইডির ফটোকপি থাকলে ভালো। থানা আপনার আবেদন নথিভুক্ত করে একটি জিডি নম্বর দেবে। সেই নম্বরসহ কপিটি যত্ন করে সংরক্ষণ করুন।
কিছু থানায় অনলাইনে জিডির সুযোগ থাকতে পারে। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে নিজের এলাকার থানার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। জিডির জন্য অন্যায্যভাবে টাকা চাওয়া হলে সতর্ক হোন এবং উপরের কর্মকর্তাকে জানান।
💻 অনলাইনে এনআইডি কপি সংগ্রহের উপায়
অনলাইনে এনআইডি কপি সংগ্রহের মূল পথ হলো নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টাল। পুরো প্রক্রিয়া মোটামুটি পাঁচ ধাপে সম্পন্ন হয়: রেজিস্ট্রেশন, লগইন, রিইস্যুর আবেদন, ফি পরিশোধ এবং অনুমোদনের পর ডাউনলোড।
প্রথমে পোর্টালে নিজের অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। অ্যাকাউন্ট থাকলে লগইন করে ড্যাশবোর্ডে যান। সেখান থেকে হারানো বা নষ্ট কার্ডের জন্য রিইস্যু অপশন বেছে নিন। সাধারণ বা জরুরি সেবা নির্বাচন করুন এবং পর্দায় দেখানো আপনার তথ্য ভালোভাবে যাচাই করুন।
তথ্য ঠিক থাকলে ফি পরিশোধ করুন। ফি জমা হলে আবেদনটি যাচাইয়ের জন্য যায়। কমিশন আবেদন অনুমোদন করলে আপনার মোবাইলে বা ইমেইলে বার্তা আসে। তখন আবার পোর্টালে ঢুকে ডাউনলোড অপশন থেকে এনআইডি কপি নামিয়ে নিন। কপিটি সাধারণত পিডিএফ আকারে পাওয়া যায়, তাই সেটি সংরক্ষণ করে প্রয়োজনে প্রিন্ট করে নিন।
এই পদ্ধতির সুবিধা হলো ঘরে বসে স্মার্টফোন দিয়েই কাজটি করা যায়, ফলে সময় ও যাতায়াত খরচ বাঁচে এবং দালালের ওপর নির্ভর করতে হয় না। তবে ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল থাকলে বা পোর্টালে চাপ বেশি থাকলে কাজ ধীর হতে পারে। তখন সকালে বা রাতে আবার চেষ্টা করুন।
আরেকটি বিষয়, হারানো কার্ড তোলা এবং তথ্য সংশোধন একসঙ্গে করা যায় না। আগে কার্ডটি তুলে নিন, পরে প্রয়োজন হলে ভুল তথ্য সংশোধনের আবেদন করুন।
📋 প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র
আবেদনের আগে কিছু তথ্য ও উপকরণ হাতের কাছে রাখলে কাজ দ্রুত শেষ হয়। এই কাজে বড় কোনো কাগজের ফাইল লাগে না, বরং কয়েকটি সঠিক তথ্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে জরুরি তথ্য হলো আপনার এনআইডি নম্বর। যদি কার্ড হাতে না পেয়ে থাকেন, তাহলে ভোটার নিবন্ধনের সময় পাওয়া ফর্ম নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ থাকে। পুরোনো ১৩ সংখ্যার এনআইডি হলে অনেক ক্ষেত্রে জন্মসাল যুক্ত করে ১৭ সংখ্যা করতে হয়। পোর্টালে যে নির্দেশনা থাকবে, সেটি অনুসরণ করুন।
এরপর লাগবে জন্মতারিখ, যা কার্ড তৈরির সময় দেওয়া তথ্যের সঙ্গে হুবহু মিলতে হবে। এ ছাড়া একটি সচল মোবাইল নম্বর লাগবে, যেখানে ওটিপি ও অনুমোদনের বার্তা আসবে। নম্বরটি এমন হওয়া ভালো, যা সবসময় আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে। একটি ইমেইল ঠিকানা থাকলে বার্তা পাওয়ার আরেকটি পথ থাকে।
প্রযুক্তির দিক থেকে লাগবে স্মার্টফোন বা কম্পিউটার, স্থির ইন্টারনেট সংযোগ এবং ক্যামেরা, কারণ মুখমণ্ডল যাচাইয়ের জন্য ক্যামেরা ব্যবহার করতে হতে পারে। ফি দেওয়ার জন্য বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো একটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে প্রয়োজনীয় টাকা রাখুন।
সবশেষে নিজের পরিবারের তথ্য, যেমন পিতা-মাতার নাম ও স্থায়ী ঠিকানা, মনে রাখুন। তথ্য মিলিয়ে দেখার সময় এগুলো কাজে লাগতে পারে। পোর্টাল কোনো অতিরিক্ত তথ্য বা প্রমাণ চাইলে তা সময়মতো দিন।
🔐 এনআইডি পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন ও লগইন
এনআইডি পোর্টালের ঠিকানা services.nidw.gov.bd। ঠিকানাটি ব্রাউজারে সরাসরি লিখে প্রবেশ করুন। সার্চে আসা অচেনা সাইট বা ভুয়া লিংকে ঢুকবেন না, কারণ সেখানে তথ্য দিলে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ও টাকা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
হোম পেজে ‘রেজিস্ট্রেশন’ বা নিবন্ধন অপশনে ক্লিক করুন। প্রথমে এনআইডি নম্বর বা ফর্ম নম্বর দিন, এরপর জন্মতারিখ লিখুন এবং ক্যাপচা কোড পূরণ করে সাবমিট করুন। পোর্টাল আপনার তথ্য যাচাই করে পরের ধাপে নিয়ে যাবে।
এরপর মোবাইল নম্বর দিতে হবে, যেখানে ওটিপি যাবে। ওটিপি বসিয়ে নম্বরটি নিশ্চিত করুন। কিছু ক্ষেত্রে মুখমণ্ডল যাচাইয়ের জন্য এনআইডি ওয়ালেট অ্যাপ ডাউনলোড করে পোর্টালে দেখানো কিউআর কোড স্ক্যান করতে হয়। অ্যাপের নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যাপ্ত আলোতে সামনে তাকিয়ে মুখ যাচাই সম্পন্ন করুন।
যাচাই শেষ হলে পাসওয়ার্ড সেট করার ধাপ আসবে। অক্ষর, সংখ্যা ও চিহ্ন মিশিয়ে একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দিন। পাসওয়ার্ডটি নিরাপদ জায়গায় লিখে রাখুন, কিন্তু অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না।
অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে লগইন পেজে পোর্টালের নির্ধারিত লগইন তথ্য, সাধারণত মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড, এবং ক্যাপচা দিয়ে প্রবেশ করুন। লগইনের পর ড্যাশবোর্ড দেখতে পাবেন, যেখান থেকে রিইস্যু আবেদন, স্ট্যাটাস দেখা ও ডাউনলোডসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়া যায়। পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে লগইন পেজে পুনরুদ্ধারের অপশন দেখুন।
ডুপ্লিকেট (রিইস্যু) কার্ডের আবেদন পদ্ধতি
এনআইডি হারিয়ে গেলে নতুন কার্ডের জন্য আবেদনের পদ্ধতিকে বলা হয় রিইস্যু বা পুনরায় মুদ্রণ। সুখবর হলো, নির্বাচন কমিশন হারানো এনআইডি তোলার ক্ষেত্রে থানায় জিডি করার বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়েছে। এখন ঘরে বসে অনলাইনে ফি জমা দিয়েই আবেদন করা যায়, তাই থানায় ঘোরাঘুরির প্রয়োজন নেই।
প্রথমে স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের ব্রাউজারে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টাল services.nidw.gov.bd খুলুন। আগে অ্যাকাউন্ট না থাকলে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এ জন্য এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও ক্যাপচা কোড লাগবে। যাঁরা কার্ড হাতে পাননি, তাঁরা এনআইডি নম্বরের বদলে ফর্ম নম্বর দিতে পারেন। এরপর মোবাইল নম্বর যাচাই করে পাসওয়ার্ড সেট করুন এবং লগইন করুন। প্রয়োজনে মুখমণ্ডল যাচাইয়ের জন্য এনআইডি ওয়ালেট অ্যাপ ব্যবহার করতে হতে পারে।
লগইনের পর ড্যাশবোর্ড থেকে ‘রিইস্যু’ অপশনটি বেছে নিন। এখানে সাধারণ বা জরুরি সেবার মধ্যে একটি নির্বাচন করতে হয়। সাধারণ সেবায় ফি কম, তবে সময় বেশি লাগতে পারে। জরুরি সেবায় ফি বেশি, কিন্তু কার্ড দ্রুত পাওয়ার সুযোগ থাকে। এরপর পর্দায় আপনার তথ্য দেখা যাবে। নাম, জন্মতারিখ ও অন্যান্য তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নিন।
এরপর আসবে ফি পরিশোধের ধাপ। ফি জমা দেওয়ার পর আবেদনটি জমা হয়ে যাবে। আবেদনের তথ্য ও রসিদের স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করুন। আবেদন অনুমোদিত হলে আপনার মোবাইলে বা ইমেইলে বার্তা পাঠানো হবে। তখন একই পোর্টাল থেকে এনআইডি কপি ডাউনলোড করতে পারবেন।
একটি বিষয় মনে রাখবেন, হারানো কার্ড তোলা এবং তথ্য সংশোধন একই সঙ্গে করা যায় না। আগে হারানো কার্ড উত্তোলন করতে হবে, তারপর প্রয়োজন হলে সংশোধনের আবেদন করা যাবে।
ফি ও পেমেন্ট পদ্ধতি
রিইস্যুর ফি নির্ভর করে আপনি আগে কতবার কার্ড হারিয়ে নতুন করে তুলেছেন তার ওপর। প্রথমবার ফি তুলনামূলক কম থাকে, দ্বিতীয়বার বেশি এবং পরের প্রতিবার আরও বাড়ে। জরুরি সেবার ফি সাধারণ সেবার চেয়ে বেশি।
সাম্প্রতিক কয়েকটি গাইডে সাধারণ রিইস্যুর প্রথমবারের ফি ভ্যাটসহ ৩৪৫ টাকা এবং জরুরি সেবার ফি ৫৭৫ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন সময়ে সময়ে ফি পরিবর্তন করে, আর বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ভিন্ন ভিন্ন অঙ্ক দেখা যায়। তাই কোনো ব্লগ বা ভিডিও দেখে নয়, পেমেন্টের পর্দায় পোর্টাল যে অঙ্ক দেখাবে সেটিকেই চূড়ান্ত ধরুন।
ফি পরিশোধ করা যায় বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যমে। পোর্টালে পেমেন্ট অপশন বেছে নিলে নির্ধারিত পেমেন্ট পেজ খুলবে। সেখানে মোবাইল নম্বর, ওটিপি ও পিন দিয়ে লেনদেন সম্পন্ন করুন। শুধু পোর্টালের ভেতর থেকে আসা লিংকেই পেমেন্ট করুন।
পেমেন্টের সময় সবচেয়ে বড় ভুল হলো ভুল এনআইডি নম্বর বা ভুল সেবার ধরন বেছে নেওয়া। টাকা কেটে যাওয়ার পর তা ঠিক করা ঝামেলার হতে পারে। তাই ‘কনফার্ম’ চাপার আগে এনআইডি নম্বর, সেবার ধরন ও টাকার অঙ্ক আরেকবার দেখে নিন। লেনদেন শেষে ট্রানজ্যাকশন আইডি বা রসিদ সংরক্ষণ করুন।
আবেদনের স্ট্যাটাস দেখা ও কার্ড সংগ্রহ
আবেদন জমা দেওয়ার পর অনেকেই জানতে চান আবেদনটি এখন কোন অবস্থায় আছে। এ জন্য এনআইডি সেবা পোর্টালে লগইন করে আপনার আবেদনের তালিকা বা স্ট্যাটাস অংশ দেখুন। সেখানে আবেদনটি জমা, যাচাই চলছে, অনুমোদিত বা বাতিল, এমন অবস্থা দেখা যেতে পারে।
আবেদন অনুমোদিত হলে নির্বাচন কমিশন আপনার নিবন্ধিত মোবাইলে বা ইমেইলে বার্তা পাঠায়। তাই আবেদনের সময় সচল মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা দিন। বার্তা না এলে ইমেইলের স্প্যাম ফোল্ডারও দেখে নিন।
বার্তা পাওয়ার পর পোর্টালে লগইন করে ডাউনলোড অপশন থেকে এনআইডি কপি নামিয়ে নিন। সাধারণত এটি পিডিএফ আকারে পাওয়া যায়। ফাইলটি ফোনে সংরক্ষণ করুন, ইমেইলে একটি ব্যাকআপ রাখুন এবং প্রয়োজনে প্রিন্ট করে নিন। এতে ভবিষ্যতে আবার কার্ড হারালেও দ্রুত কপি হাতে পাবেন।
প্লাস্টিক বা স্মার্ট কার্ডের ফিজিক্যাল কপি সংগ্রহের নিয়ম আবেদনের ধরন ও সময়ের ওপর নির্ভর করতে পারে। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে নিকটস্থ উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন। সঙ্গে আবেদনের তথ্য ও এনআইডি নম্বর রাখুন।
সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
রিইস্যুর আবেদনের সময় কিছু সমস্যা প্রায়ই দেখা যায়। এগুলোর সমাধান আগে থেকে জানা থাকলে সময় ও টাকা দুটোই বাঁচবে।
তথ্য না মেলা: এনআইডি নম্বর বা ফর্ম নম্বর এবং জন্মতারিখ ঠিক না থাকলে অ্যাকাউন্ট খোলা যায় না। পুরোনো কাগজপত্র, ব্যাংক হিসাবের ফর্ম বা পাসপোর্ট আবেদনের কপিতে নম্বরটি লেখা থাকতে পারে। সেখান থেকে মিলিয়ে নিন। নম্বর একদমই না পেলে স্থানীয় নির্বাচন অফিসের সহায়তা নিন।
ওটিপি বা বার্তা না আসা: প্রথমে দেখুন মোবাইলে নেটওয়ার্ক ঠিক আছে কি না এবং নম্বরটি সচল কি না। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে আবার চেষ্টা করুন। পোর্টালে চাপ বেশি থাকলে বিলম্ব হতে পারে, তাই কিছুক্ষণ পর বা অন্য সময়ে চেষ্টা করা ভালো।
মুখমণ্ডল যাচাইয়ে সমস্যা: পর্যাপ্ত আলোতে ফোন ধরে মুখ স্পষ্ট রাখুন। চশমা বা মাস্ক খুলে নিন এবং ক্যামেরার অনুমতি চালু রাখুন। এনআইডি ওয়ালেট অ্যাপ হালনাগাদ রাখাও জরুরি।
টাকা কেটে গেলেও আবেদন না দেখানো: ঘাবড়াবেন না। কিছুক্ষণ পর পোর্টালে আবার লগইন করে স্ট্যাটাস দেখুন। সমাধান না হলে ট্রানজ্যাকশন আইডি, স্ক্রিনশট ও এনআইডি নম্বর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সহায়তা কেন্দ্রে বা স্থানীয় নির্বাচন অফিসে জানান।
আবেদন বাতিল বা আটকে থাকা: বাতিলের কারণ মনোযোগ দিয়ে পড়ুন, তথ্য ঠিক করে নতুন করে আবেদন করুন। মনে রাখবেন, একই সঙ্গে হারানো কার্ড তোলা ও সংশোধনের আবেদন করা যায় না।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
❓ হারানো এনআইডি তুলতে কি জিডি লাগবে?
না। নির্বাচন কমিশন হারানো এনআইডি উত্তোলনের ক্ষেত্রে জিডি করার নিয়ম তুলে দিয়েছে। অনলাইনে রিইস্যুর আবেদন করে নির্ধারিত ফি দিলেই হবে। তবে কার্ডটি অন্য কারও হাতে পড়ার আশঙ্কা থাকলে নিজের নিরাপত্তার জন্য থানায় জানিয়ে রাখতে পারেন।
❓ রিইস্যুর ফি কত টাকা?
ফি নির্ভর করে আগে কতবার রিইস্যু করা হয়েছে এবং সাধারণ বা জরুরি সেবা বেছে নেওয়া হয়েছে কি না, তার ওপর। সাম্প্রতিক গাইডে সাধারণ সেবার প্রথমবার ৩৪৫ টাকা উল্লেখ আছে। তবে পেমেন্টের আগে পোর্টালে দেখানো চূড়ান্ত অঙ্কটি মিলিয়ে নিন।
❓ কার্ড বা কপি পেতে কত দিন লাগে?
সময় সব ক্ষেত্রে এক নয়। জরুরি সেবায় তুলনামূলক দ্রুত পাওয়ার কথা, সাধারণ সেবায় বেশি সময় লাগতে পারে। আবেদনের স্ট্যাটাস পোর্টালে দেখুন এবং অনুমোদনের বার্তার অপেক্ষা করুন।
❓ এনআইডি নম্বর মনে না থাকলে কী করব?
আগে ফর্ম নম্বর বা পুরোনো কাগজপত্র খুঁজে দেখুন। ব্যাংক হিসাবের ফর্ম, পাসপোর্টের আবেদন বা অন্য সরকারি কাগজে নম্বর লেখা থাকতে পারে। কিছুই না পেলে স্থানীয় উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে গিয়ে সহায়তা চান।
❓ ডাউনলোড করা কপি কি সব জায়গায় চলবে?
অনেক প্রতিষ্ঠান অনলাইন কপি গ্রহণ করে, তবে নিয়ম সব জায়গায় এক নয়। কোনো ব্যাংক, দূতাবাস বা অফিস ফিজিক্যাল কার্ড চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ম আগে জেনে নিন।
❓ হারানো কার্ড তোলার সঙ্গে সঙ্গে কি তথ্য সংশোধন করা যাবে?
না। আগে হারানো কার্ড উত্তোলন করতে হবে, এরপর প্রয়োজন হলে সংশোধনের আবেদন করা যাবে।


অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url