OrdinaryITPostAd

অনলাইনে জমির নামজারি বা মিউটেশন আবেদন করার সহজ উপায়

🏡 জমি কিনেছেন বা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন? নামজারি না করলে সেই জমি কাগজে আপনার হয় না!

অনেকেই নামজারির নাম শুনেই ভয় পান, ভাবেন ভূমি অফিসে দিনের পর দিন ঘুরতে হবে। অথচ এখন ঘরে বসে অনলাইনেই এই আবেদন করা যায়। শুধু সঠিক নিয়ম আর কাগজপত্র জানা থাকলেই কাজটি সহজ হয়ে যায়।

এই পোস্টে ধাপে ধাপে সহজ ভাষায় জানতে পারবেন নামজারি কেন জরুরি, কী কী কাগজ লাগবে, অনলাইনে কীভাবে আবেদন করবেন, কত টাকা ফি লাগবে এবং আবেদনের অবস্থা কীভাবে দেখবেন। তাই ভবিষ্যতের ঝামেলা এড়াতে এবং সময় বাঁচাতে পুরো পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন। 👇

অনলাইনে জমির নামজারি বা মিউটেশন আবেদন করার সহজ নিয়ম।

📝 নামজারি বা মিউটেশন কী?

নামজারি বা মিউটেশন হলো জমির মালিকানা পরিবর্তনের একটি আইনি প্রক্রিয়া। সহজ কথায়, কোনো জমি বিক্রি, দান, উত্তরাধিকার বা অন্য কোনো কারণে এক ব্যক্তির নাম থেকে অন্য ব্যক্তির নামে স্থানান্তরিত হলে ভূমি অফিসে সেই পরিবর্তনটি লিপিবদ্ধ করাকেই নামজারি বলা হয়। এটি ভূমি রেকর্ড সংশোধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

বাংলাদেশের ভূমি আইন অনুযায়ী জমির খতিয়ানে বর্তমান মালিকের নাম লেখা থাকে। জমি হস্তান্তরের পর নামজারি না করালে খতিয়ানে এখনও পুরোনো মালিকের নামই দেখাবে। নামজারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নতুন মালিকের নাম খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং একটি নতুন খতিয়ান ইস্যু করা হয়। এই নতুন খতিয়ানই প্রমাণ করে যে আপনি ওই জমির বৈধ মালিক।

নামজারি মানেই হলো ভূমি রাজস্ব রেকর্ডে মালিকের নাম পরিবর্তন। এটি জমির দলিল বা ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি নয় — দলিল হলো মালিকানা হস্তান্তরের প্রমাণ, আর নামজারি হলো সেই পরিবর্তনটিকে সরকারি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া। দুটি পৃথক কিন্তু পরস্পর সম্পর্কিত ধাপ।

সংক্ষেপে: নামজারি = সরকারি ভূমি রেকর্ডে জমির নতুন মালিকের নাম লেখানো। এটি মালিকানার আইনি স্বীকৃতি।

⚠️ নামজারি কেন জরুরি?

জমি কেনার পর নামজারি না করালে আপনি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে ওই জমির পূর্ণ মালিক নন। ক্রয়-বিক্রয়ের দলিল থাকলেও খতিয়ানে নাম না থাকলে সরকারি রেকর্ডে আপনার মালিকানা স্বীকৃত নয়। ফলে ভবিষ্যতে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান: নামজারি না হলে পুরোনো মালিকের নামে করের দাখিলা আসে। আপনি নিজ নামে কর দিতে পারবেন না। ফলে ক্রমশ করের বকেয়া জমা হতে থাকে এবং পরবর্তীতে জমি ক্রয়-বিক্রয়ে বড় বাধা সৃষ্টি করে।

ভবিষ্যতে জমি বিক্রি করতে সমস্যা: আপনি যদি কখনো ওই জমি বিক্রি করতে চান, ক্রেতা অবশ্যই বর্তমান খতিয়ান দেখতে চাইবেন। খতিয়ানে আপনার নাম না থাকলে কেউ জমি কিনবে না। এমনকি ব্যাংক ঋণ বা কোনো সরকারি সুবিধা পেতেও নামজারি বাধ্যতামূলক।

মামলা ও বিরোধ এড়ানো: নামজারি না থাকলে পুরোনো মালিক বা তার উত্তরসূরিরা ভবিষ্যতে জমি নিয়ে দাবি করতে পারেন। আইনি লড়াইয়ে আপনার অবস্থান দুর্বল হবে। তাই জমি হস্তান্তরের পর যত দ্রুত সম্ভব নামজারি করা আপনার নিজের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

মনে রাখুন: দলিল হস্তান্তর মাত্র পূর্ণ মালিকানা নয়। খতিয়ানে নামজারি না করালে জমি আপনার নামে স্থায়ীভাবে নথিভুক্ত হবে না।

🔄 কোন কোন ক্ষেত্রে নামজারি করতে হয়?

জমির মালিকানা পরিবর্তনের বিভিন্ন কারণ রয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে নামজারি করার নিয়ম ও পদ্ধতি সামান্য ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু প্রয়োজনীয়তা সব ক্ষেত্রে সমান। নিচে প্রধান ক্ষেত্রগুলো উল্লেখ করা হলো:

✅ ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে: জমি কেনার পর ক্রেতার নামে নামজারি করতে হয়। এটি সবচেয়ে সাধারণ ক্ষেত্র। ক্রয়-বিক্রয়ের দলিল নিয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে আবেদন করতে হয়।

✅ উত্তরাধিকার সূত্রে: মালিকের মৃত্যুর পর তার সন্তান বা বৈধ উত্তরাধিকারীদের নামে জমি নামজারি করতে হয়। এক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ ও মৃত্যু নামজারি প্রয়োজন।

✅ দানপত্রের মাধ্যমে: কোনো ব্যক্তি তার জমি অন্য কাউকে দান করলে দানপত্র নামজারি করতে হয়। সাধারণত পরিবারের সদস্যদের মাঝে এ পদ্ধতি বেশি ব্যবহৃত হয়।

✅ বন্দোবস্ত ও আইনি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে: সরকারি বন্দোবস্ত, আদালতের রায় বা পার্টিশন মামলার মাধ্যমে জমি প্রাপ্ত হলেও নামজারি করা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া বিবাহবিচ্ছেদ বা পারিবারিক বন্টনের ক্ষেত্রেও নামজারি প্রয়োজন হয়।

মূল কারণগুলো: ক্রয়-বিক্রয় | উত্তরাধিকার | দানপত্র | বন্টন/পার্টিশন | আদালতের রায়।

📋 প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

নামজারির জন্য কিছু মূল কাগজপত্র সর্বদা প্রয়োজন হয়, কিছু কাগজ ক্ষেত্রভেদে আলাদা হয়। সব কাগজের মূল কপি ও ফটোকপি সংগ্রহ করে রাখুন। ফটোকপি সঠিকভাবে সত্যায়িত করা বাঞ্ছনীয়।

সাধারণ কাগজপত্র: নামজারির আবেদনপত্র, জমির ক্রয়-বিক্রয় দলিলের কপি, পুরোনো ও নতুন খতিয়ানের কপি, দাগ নম্বর ও মৌজা সংশ্লিষ্ট তথ্য, আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে।

ক্ষেত্রভেদে অতিরিক্ত কাগজ: উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ ও মৃত্যু নামজারি প্রয়োজন। দানপত্রের ক্ষেত্রে দানপত্রের দলিল। বন্টনের ক্ষেত্রে পার্টিশন ডিডি বা পারিবারিক বন্টনপত্র। ভূমি উন্নয়ন করের সর্বশেষ দাখিলা রশিদও সাধারণত চাওয়া হয়।

কোনো কাগজ না থাকলে বা হারিয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে পুনরায় সংগ্রহ করুন। অসম্পূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে আবেদন করলে তা প্রত্যাখ্যান হতে পারে বা প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে।

চেকলিস্ট: আবেদনপত্র | ক্রয়-দান/দলিল | পুরোনো খতিয়ান | জাতীয় পরিচয়পত্র | ছবি | করের রশিদ | প্রয়োজনে ওয়ারিশ সনদ।

💻 অনলাইনে আবেদনের নিয়ম (ধাপে ধাপে)

বর্তমানে বাংলাদেশ ভূমি সেবা পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে নামজারির আবেদন করা যায়। এজন্য আপনার প্রয়োজন হবে একটি স্মার্টফোন বা কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সংযোগ। নিচে ধাপে ধাপে পুরো পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হলো:

ধাপ ১, পোর্টালে প্রবেশ: বাংলাদেশ ভূমি সেবার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট land.gov.bd এ যান। নিজের জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন/ওয়ার্ড নির্বাচন করুন। সঠিকভাবে এলাকা বেছে নিন, কারণ ভুল এলাকা বেছে নিলে আপনার আবেদন সঠিক স্থানে পৌঁছাবে না।

ধাপ ২, অ্যাকাউন্ট তৈরি ও লগইন: প্রথমবার আবেদন করলে নিজের নাম, মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলুন। মোবাইলে একটি OTP কোড আসবে, তা দিয়ে নম্বর নিশ্চিত করুন এবং পাসওয়ার্ড সেট করুন। এরপর লগইন করুন।

ধাপ ৩, নামজারি সেবা নির্বাচন: সেবা তালিকা থেকে 'নামজারি' বা 'মিউটেশন' সেবা বেছে নিন। আপনার জমির মৌজা, দাগ নম্বর ও খতিয়ান নম্বর লিখুন। সঠিক তথ্য দিন — সামান্য ভুলেও ভিন্ন জমি দেখাতে পারে।

ধাপ ৪, আবেদনপত্র পূরণ ও কাগজ আপলোড: নামজারির ধরন বেছে নিন — ক্রয়, উত্তরাধিকার বা দান। নতুন মালিকের ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করুন। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করুন। প্রতিটি কাগজ স্পষ্ট ও পাঠযোগ্য হওয়া নিশ্চিত করুন।

ধাপ ৫, আবেদন জমা ও ফি পরিশোধ: সব তথ্য আরেকবে যাচাই করুন, তারপর আবেদন জমা দিন। নামজারির নির্ধারিত ফি অনলাইনে পরিশোধ করুন। ফি প্রদানের পর একটি আবেদন নম্বর পাবেন — এটি সংরক্ষণ করুন। এই নম্বর দিয়ে পরবর্তীতে আবেদনের অগ্রগতি জানতে পারবেন।

অনলাইন আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তা আপনার আবেদন পর্যালোচনা করবেন। প্রয়োজনে তারা স্থানীয়ভাবে তথ্য যাচাই করতে পারেন। সবকিছু ঠিক থাকলে নামজারি কার্যাদেশ দেওয়া হবে এবং নতুন খতিয়ান ইস্যু করা হবে। নিয়মিত পোর্টাল চেক করুন, কোনো অতিরিক্ত কাগজ চাওয়া হলে দ্রুত সরবরাহ করুন।

ধাপগুলো: land.gov.bd এ যান → অ্যাকাউন্ট খুলুন → নামজারি সেবা বেছে নিন → ফরম পূরণ ও কাগজ আপলোড → ফি দিয়ে আবেদন জমা → অপেক্ষা করুন ও স্ট্যাটাস চেক করুন।

📝 নামজারি বা মিউটেশন কী?

নামজারি বা মিউটেশন হলো জমির মালিকানা পরিবর্তনের একটি আইনি প্রক্রিয়া। সহজ কথায়, কোনো জমি বিক্রি, দান, উত্তরাধিকার বা অন্য কোনো কারণে এক ব্যক্তির নাম থেকে অন্য ব্যক্তির নামে স্থানান্তরিত হলে ভূমি অফিসে সেই পরিবর্তনটি লিপিবদ্ধ করাকেই নামজারি বলা হয়। এটি ভূমি রেকর্ড সংশোধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

বাংলাদেশের ভূমি আইন অনুযায়ী জমির খতিয়ানে বর্তমান মালিকের নাম লেখা থাকে। জমি হস্তান্তরের পর নামজারি না করালে খতিয়ানে এখনও পুরোনো মালিকের নামই দেখাবে। নামজারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নতুন মালিকের নাম খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং একটি নতুন খতিয়ান ইস্যু করা হয়। এই নতুন খতিয়ানই প্রমাণ করে যে আপনি ওই জমির বৈধ মালিক।

নামজারি মানেই হলো ভূমি রাজস্ব রেকর্ডে মালিকের নাম পরিবর্তন। এটি জমির দলিল বা ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি নয় — দলিল হলো মালিকানা হস্তান্তরের প্রমাণ, আর নামজারি হলো সেই পরিবর্তনটিকে সরকারি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া। দুটি পৃথক কিন্তু পরস্পর সম্পর্কিত ধাপ।

সংক্ষেপে: নামজারি = সরকারি ভূমি রেকর্ডে জমির নতুন মালিকের নাম লেখানো। এটি মালিকানার আইনি স্বীকৃতি।

⚠️ নামজারি কেন জরুরি?

জমি কেনার পর নামজারি না করালে আপনি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে ওই জমির পূর্ণ মালিক নন। ক্রয়-বিক্রয়ের দলিল থাকলেও খতিয়ানে নাম না থাকলে সরকারি রেকর্ডে আপনার মালিকানা স্বীকৃত নয়। ফলে ভবিষ্যতে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান: নামজারি না হলে পুরোনো মালিকের নামে করের দাখিলা আসে। আপনি নিজ নামে কর দিতে পারবেন না। ফলে ক্রমশ করের বকেয়া জমা হতে থাকে এবং পরবর্তীতে জমি ক্রয়-বিক্রয়ে বড় বাধা সৃষ্টি করে।

ভবিষ্যতে জমি বিক্রি করতে সমস্যা: আপনি যদি কখনো ওই জমি বিক্রি করতে চান, ক্রেতা অবশ্যই বর্তমান খতিয়ান দেখতে চাইবেন। খতিয়ানে আপনার নাম না থাকলে কেউ জমি কিনবে না। এমনকি ব্যাংক ঋণ বা কোনো সরকারি সুবিধা পেতেও নামজারি বাধ্যতামূলক।

মামলা ও বিরোধ এড়ানো: নামজারি না থাকলে পুরোনো মালিক বা তার উত্তরসূরিরা ভবিষ্যতে জমি নিয়ে দাবি করতে পারেন। আইনি লড়াইয়ে আপনার অবস্থান দুর্বল হবে। তাই জমি হস্তান্তরের পর যত দ্রুত সম্ভব নামজারি করা আপনার নিজের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

মনে রাখুন: দলিল হস্তান্তর মাত্র পূর্ণ মালিকানা নয়। খতিয়ানে নামজারি না করালে জমি আপনার নামে স্থায়ীভাবে নথিভুক্ত হবে না।

🔄 কোন কোন ক্ষেত্রে নামজারি করতে হয়?

জমির মালিকানা পরিবর্তনের বিভিন্ন কারণ রয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে নামজারি করার নিয়ম ও পদ্ধতি সামান্য ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু প্রয়োজনীয়তা সব ক্ষেত্রে সমান। নিচে প্রধান ক্ষেত্রগুলো উল্লেখ করা হলো:

✅ ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে: জমি কেনার পর ক্রেতার নামে নামজারি করতে হয়। এটি সবচেয়ে সাধারণ ক্ষেত্র। ক্রয়-বিক্রয়ের দলিল নিয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে আবেদন করতে হয়।

✅ উত্তরাধিকার সূত্রে: মালিকের মৃত্যুর পর তার সন্তান বা বৈধ উত্তরাধিকারীদের নামে জমি নামজারি করতে হয়। এক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ ও মৃত্যু নামজারি প্রয়োজন।

✅ দানপত্রের মাধ্যমে: কোনো ব্যক্তি তার জমি অন্য কাউকে দান করলে দানপত্র নামজারি করতে হয়। সাধারণত পরিবারের সদস্যদের মাঝে এ পদ্ধতি বেশি ব্যবহৃত হয়।

✅ বন্দোবস্ত ও আইনি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে: সরকারি বন্দোবস্ত, আদালতের রায় বা পার্টিশন মামলার মাধ্যমে জমি প্রাপ্ত হলেও নামজারি করা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া বিবাহবিচ্ছেদ বা পারিবারিক বন্টনের ক্ষেত্রেও নামজারি প্রয়োজন হয়।

মূল কারণগুলো: ক্রয়-বিক্রয় | উত্তরাধিকার | দানপত্র | বন্টন/পার্টিশন | আদালতের রায়।

📋 প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

নামজারির জন্য কিছু মূল কাগজপত্র সর্বদা প্রয়োজন হয়, কিছু কাগজ ক্ষেত্রভেদে আলাদা হয়। সব কাগজের মূল কপি ও ফটোকপি সংগ্রহ করে রাখুন। ফটোকপি সঠিকভাবে সত্যায়িত করা বাঞ্ছনীয়।

সাধারণ কাগজপত্র: নামজারির আবেদনপত্র, জমির ক্রয়-বিক্রয় দলিলের কপি, পুরোনো ও নতুন খতিয়ানের কপি, দাগ নম্বর ও মৌজা সংশ্লিষ্ট তথ্য, আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে।

ক্ষেত্রভেদে অতিরিক্ত কাগজ: উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ ও মৃত্যু নামজারি প্রয়োজন। দানপত্রের ক্ষেত্রে দানপত্রের দলিল। বন্টনের ক্ষেত্রে পার্টিশন ডিডি বা পারিবারিক বন্টনপত্র। ভূমি উন্নয়ন করের সর্বশেষ দাখিলা রশিদও সাধারণত চাওয়া হয়।

কোনো কাগজ না থাকলে বা হারিয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে পুনরায় সংগ্রহ করুন। অসম্পূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে আবেদন করলে তা প্রত্যাখ্যান হতে পারে বা প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে।

চেকলিস্ট: আবেদনপত্র | ক্রয়-দান/দলিল | পুরোনো খতিয়ান | জাতীয় পরিচয়পত্র | ছবি | করের রশিদ | প্রয়োজনে ওয়ারিশ সনদ।

💻 অনলাইনে আবেদনের নিয়ম (ধাপে ধাপে)

বর্তমানে বাংলাদেশ ভূমি সেবা পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে নামজারির আবেদন করা যায়। এজন্য আপনার প্রয়োজন হবে একটি স্মার্টফোন বা কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সংযোগ। নিচে ধাপে ধাপে পুরো পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হলো:

ধাপ ১, পোর্টালে প্রবেশ: বাংলাদেশ ভূমি সেবার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট land.gov.bd এ যান। নিজের জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন/ওয়ার্ড নির্বাচন করুন। সঠিকভাবে এলাকা বেছে নিন, কারণ ভুল এলাকা বেছে নিলে আপনার আবেদন সঠিক স্থানে পৌঁছাবে না।

ধাপ ২, অ্যাকাউন্ট তৈরি ও লগইন: প্রথমবার আবেদন করলে নিজের নাম, মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলুন। মোবাইলে একটি OTP কোড আসবে, তা দিয়ে নম্বর নিশ্চিত করুন এবং পাসওয়ার্ড সেট করুন। এরপর লগইন করুন।

ধাপ ৩, নামজারি সেবা নির্বাচন: সেবা তালিকা থেকে 'নামজারি' বা 'মিউটেশন' সেবা বেছে নিন। আপনার জমির মৌজা, দাগ নম্বর ও খতিয়ান নম্বর লিখুন। সঠিক তথ্য দিন — সামান্য ভুলেও ভিন্ন জমি দেখাতে পারে।

ধাপ ৪, আবেদনপত্র পূরণ ও কাগজ আপলোড: নামজারির ধরন বেছে নিন — ক্রয়, উত্তরাধিকার বা দান। নতুন মালিকের ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করুন। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করুন। প্রতিটি কাগজ স্পষ্ট ও পাঠযোগ্য হওয়া নিশ্চিত করুন।

ধাপ ৫, আবেদন জমা ও ফি পরিশোধ: সব তথ্য আরেকবে যাচাই করুন, তারপর আবেদন জমা দিন। নামজারির নির্ধারিত ফি অনলাইনে পরিশোধ করুন। ফি প্রদানের পর একটি আবেদন নম্বর পাবেন — এটি সংরক্ষণ করুন। এই নম্বর দিয়ে পরবর্তীতে আবেদনের অগ্রগতি জানতে পারবেন।

অনলাইন আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তা আপনার আবেদন পর্যালোচনা করবেন। প্রয়োজনে তারা স্থানীয়ভাবে তথ্য যাচাই করতে পারেন। সবকিছু ঠিক থাকলে নামজারি কার্যাদেশ দেওয়া হবে এবং নতুন খতিয়ান ইস্যু করা হবে। নিয়মিত পোর্টাল চেক করুন, কোনো অতিরিক্ত কাগজ চাওয়া হলে দ্রুত সরবরাহ করুন।

ধাপগুলো: land.gov.bd এ যান → অ্যাকাউন্ট খুলুন → নামজারি সেবা বেছে নিন → ফরম পূরণ ও কাগজ আপলোড → ফি দিয়ে আবেদন জমা → অপেক্ষা করুন ও স্ট্যাটাস চেক করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪