OrdinaryITPostAd

কেন জিলহজ মাস ইসলামের অন্যতম সেরা এবং বরকতময় মাস?

ইসলামি বর্ষপঞ্জিতে বারোটি মাসের মধ্যে জিলহজ মাস একটি অত্যন্ত বিশেষ ও মর্যাদাপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে। এই মাসে এমন কিছু দিন ও রাত রয়েছে যেগুলোতে ইবাদত করলে সারা বছরের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। স্বয়ং আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে এই মাসের দশটি রাতের কসম খেয়েছেন, যা এই মাসের অসাধারণ মর্যাদার প্রমাণ।

জিলহজ মাসেই পালিত হয় ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হজ, পাশাপাশি রয়েছে ঈদুল আযহা ও কোরবানির মতো মহান ইবাদত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এই মাসের প্রথম দশ দিনে করা নেক আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় — এমনকি জিহাদের চেয়েও। অথচ আমাদের অনেকেই এই মাসের অফুরন্ত ফজিলত ও আমল সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ।

✅ এই পোস্টটি পড়লে আপনি জানতে পারবেন —
জিলহজ মাসের বিশেষ মর্যাদা কোরআন ও হাদিসে কীভাবে বর্ণিত হয়েছে
📿 প্রথম দশ দিনে কোন আমলগুলো সবচেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ
🌙 আরাফার দিনের রোজা ও বিশেষ ইবাদতের নিয়মকানুন
🐄 কোরবানির সঠিক নিয়ম ও এর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
📖 তাকবিরে তাশরিক ও জিকিরের গুরুত্ব ও পদ্ধতি
⚠️ এই মাসে কোন কাজগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে

জিলহজ মাস হলো আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ। এই সুযোগ বছরে মাত্র একবারই আসে। তাই এই মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে পুরো পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং আজই আমলের প্রস্তুতি নিন।

📋 পেজ সূচিপত্র

  1. জিলহজ মাস কী এবং ইসলামে এর বিশেষ মর্যাদা কেন
  2. কোরআন ও হাদিসে জিলহজ মাসের ফজিলত ও গুরুত্ব
  3. জিলহজের প্রথম দশ দিন কেন সারা বছরের সেরা দিন
  4. আরাফার দিন বা ৯ই জিলহজের বিশেষ ফজিলত ও আমল
  5. ঈদুল আযহা ও কোরবানির তাৎপর্য এবং ইসলামিক শিক্ষা
  6. হজ পালনের গুরুত্ব ও এই মাসে হজের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
  7. জিলহজ মাসে রোজা রাখার ফজিলত ও নিয়মকানুন
  8. তাকবিরে তাশরিক ও জিকিরের বিশেষ গুরুত্ব এই মাসে
  9. জিলহজ মাসে যে আমলগুলো বেশি বেশি করা উচিত
  10. জিলহজ মাসে যে কাজগুলো থেকে বিরত থাকা জরুরি
  11. জিলহজ মাস নিয়ে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
  12. উপসংহার: জিলহজ মাসকে যেভাবে সর্বোচ্চ কাজে লাগাবেন

১. জিলহজ মাস কী এবং ইসলামে এর বিশেষ মর্যাদা কেন

জিলহজ হলো ইসলামি হিজরি বর্ষপঞ্জির বারোতম ও সর্বশেষ মাস। আরবি শব্দ "জিলহজ" এর অর্থ হলো হজের মাস। এই মাসে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সমাবেশ হজ অনুষ্ঠিত হয় এবং ঈদুল আযহা উদযাপিত হয়। ইসলামের দৃষ্টিতে এই মাসটি অত্যন্ত পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ কারণ আল্লাহ তাআলা নিজেই এই মাসকে সম্মানিত চারটি মাসের একটি হিসেবে ঘোষণা করেছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন নিশ্চয়ই আল্লাহর বিধানে মাসের সংখ্যা বারোটি এবং এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত।

জিলহজ মাসের বিশেষ মর্যাদার পেছনে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এই মাসেই ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হজ পালিত হয় যা প্রতিটি সক্ষম মুসলিমের জীবনে একবার হলেও পালন করা ফরজ। এই মাসেই কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অনন্য সুযোগ আসে। ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম ও ইসমাইল আলাইহিস সালামের মহান ত্যাগের স্মৃতি এই মাসকে আরও বেশি তাৎপর্যমণ্ডিত করে তোলে। এছাড়া এই মাসের প্রথম দশটি দিন সারা বছরের সেরা দিন হিসেবে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তাই প্রতিটি মুসলিমের উচিত এই মাসকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আমলের মাধ্যমে কাটানো।

২. কোরআন ও হাদিসে জিলহজ মাসের ফজিলত ও গুরুত্ব

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা সূরা আল-ফজরের শুরুতে ফজরের শপথ করার পর দশ রাতের শপথ করেছেন। তাফসিরকারীদের বিশুদ্ধ মতানুসারে এই দশ রাত হলো জিলহজ মাসের প্রথম দশ রাত। আল্লাহ তাআলা তাঁর কালামে এই রাতগুলোর কসম খাওয়া থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায় যে এই দিনগুলো কতটা মহিমান্বিত ও বরকতময়। এছাড়া সূরা হজে আল্লাহ হজের বিধান ও এর গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন।

হাদিসে জিলহজ মাসের ফজিলত সম্পর্কে অসংখ্য বর্ণনা এসেছে। বিখ্যাত হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুনিয়ার দিনগুলোর মধ্যে জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনে নেক আমল করা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও কি এর চেয়ে উত্তম নয়? রাসুলুল্লাহ বললেন, না, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়। তবে সেই ব্যক্তি ছাড়া যে তার জান ও মাল নিয়ে বের হয়েছে এবং কিছুই নিয়ে ফেরেনি। এই হাদিস থেকে জিলহজের প্রথম দশ দিনের আমলের অতুলনীয় গুরুত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। আরেকটি হাদিসে বলা হয়েছে, জিলহজ মাসের দশ দিনে রোজা রাখা এক বছর রোজা রাখার সমতুল্য।

৩. জিলহজের প্রথম দশ দিন কেন সারা বছরের সেরা দিন

ইসলামি পণ্ডিতরা একমত যে জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন সারা বছরের সেরা দিন। এই দিনগুলোতে একসাথে হজ, কোরবানি, রোজা, নামাজ, জিকির ও দানসদকাসহ সব ধরনের ইবাদত একত্রিত হয় যা বছরের অন্য কোনো সময়ে হয় না। ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, জিলহজের প্রথম দশ দিন বছরের সেরা দিন এবং রমজানের শেষ দশ রাত বছরের সেরা রাত।

এই দশ দিনে আমলের বিশেষ ফজিলতের পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ। প্রথমত এই দিনগুলোতে বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মুসলিম হজ পালন করেন এবং আরাফার ময়দানে একত্রিত হন। দ্বিতীয়ত এই দিনগুলোতে কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ থাকে। তৃতীয়ত আল্লাহ তাআলা এই দিনগুলোতে বিশেষ রহমত বর্ষণ করেন এবং বান্দার তওবা ও দোয়া কবুল করেন। এই দিনগুলোতে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তাই এই মূল্যবান দিনগুলো যেন অলসতায় ও গাফিলতিতে নষ্ট না হয় সেদিকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য।

৪. আরাফার দিন বা ৯ই জিলহজের বিশেষ ফজিলত ও আমল

জিলহজ মাসের নবম তারিখ অর্থাৎ আরাফার দিন ইসলামের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোর একটি। এই দিনটিকে ইয়াওমুল আরাফা বলা হয়। হজ পালনকারীরা এই দিনে আরাফার ময়দানে অবস্থান করেন যা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হজ হলো আরাফা। অর্থাৎ আরাফার ময়দানে অবস্থান ছাড়া হজ পূর্ণ হয় না।

যারা হজে যেতে পারেননি তাদের জন্য এই দিনে রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে আমি আশা রাখি যে আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে বিগত এক বছরের এবং আগামী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন। এটি ইসলামের ইতিহাসে সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ রোজাগুলোর একটি। এই দিনে বেশি বেশি দোয়া, জিকির, তওবা ও ইস্তিগফার করা উচিত। আল্লাহ এই দিনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

৫. ঈদুল আযহা ও কোরবানির তাৎপর্য এবং ইসলামিক শিক্ষা

জিলহজ মাসের দশম তারিখে সারা বিশ্বের মুসলিমরা ঈদুল আযহা উদযাপন করেন। এই ঈদকে কোরবানির ঈদও বলা হয়। ঈদুল আযহার মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর জন্য সব কিছু ত্যাগ করার প্রস্তুতি রাখা। হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম আল্লাহর নির্দেশে তাঁর প্রিয় পুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালামকে কোরবানি দিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। আল্লাহ তাঁর এই আনুগত্যে সন্তুষ্ট হয়ে ইসমাইলের পরিবর্তে একটি পশু কোরবানির বিধান দিলেন। এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে প্রতি বছর কোরবানি পালিত হয়।

কোরবানির পশুর রক্ত ও গোশত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না বরং পৌঁছায় কোরবানিদাতার তাকওয়া ও আন্তরিকতা। এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক পশু জবাই নয়, এটি হলো নিজের মনের পশুত্ব ও লোভ-লালসাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিসর্জন দেওয়ার প্রতীক। কোরবানির গোশত তিন ভাগ করে একভাগ নিজে রাখা, একভাগ আত্মীয়স্বজনকে দেওয়া এবং একভাগ গরিব-দুঃখীদের মধ্যে বিতরণ করা সুন্নত। এই বিধানের মাধ্যমে ইসলাম সমাজে অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।

৬. হজ পালনের গুরুত্ব ও এই মাসে হজের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

হজ ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি এবং শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রতিটি মুসলিমের জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কবুল হজের প্রতিদান হলো জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়। হজ পালনের মাধ্যমে একজন মুসলিম যাবতীয় গুনাহ থেকে পবিত্র হয়ে নবজাতকের মতো নিষ্পাপ হয়ে যান। হজ পালনকারী ব্যক্তিকে হাজি বলা হয় এবং তাঁর মর্যাদা ইসলামে অত্যন্ত উচ্চে।

হজের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। মক্কায় গিয়ে কাবা শরিফ তাওয়াফ করা, সাফা-মারওয়া সাঈ করা, আরাফার ময়দানে অবস্থান করা, মুজদালিফায় রাত কাটানো এবং মিনায় শয়তানকে পাথর মারার মাধ্যমে একজন হাজি সম্পূর্ণ আল্লাহমুখী হয়ে পড়েন। হজের প্রতিটি আমলে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক শিক্ষা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মুসলিম একত্রিত হওয়ার মাধ্যমে ইসলামের ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের অপূর্ব দৃশ্য তৈরি হয় যা মুসলিম উম্মাহর শক্তি ও সংহতির প্রতীক। হজ একজন মুসলিমকে দুনিয়ার মোহ থেকে মুক্ত করে আখিরাতমুখী জীবনযাপনে অনুপ্রাণিত করে।

৭. জিলহজ মাসে রোজা রাখার ফজিলত ও নিয়মকানুন

জিলহজ মাসের প্রথম নয় দিন রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিলহজ মাসের প্রথম নয় দিন রোজা রাখতেন বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। হাদিসে এসেছে যে জিলহজের প্রতিটি দিনের রোজা এক বছরের রোজার সমতুল্য এবং প্রতিটি রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদতের সমান। এই অসাধারণ ফজিলতের কারণে এই দিনগুলোতে রোজা রাখা একজন মুসলিমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষভাবে নবম জিলহজ অর্থাৎ আরাফার দিনের রোজার ফজিলত সবচেয়ে বেশি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আরাফার দিনের রোজার বিষয়ে আমি আশা করি আল্লাহ তাআলা বিগত এক বছরের এবং আগামী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন। তবে যারা হজে আছেন তাদের জন্য আরাফার দিনে রোজা রাখা মুস্তাহাব নয় কারণ হাজিদের শক্তি সঞ্চয় করে ইবাদতে মনোযোগ দেওয়াটাই উত্তম। জিলহজের দশম তারিখ অর্থাৎ ঈদের দিন এবং তার পরের তিনটি দিন অর্থাৎ ১১, ১২ ও ১৩ই জিলহজ রোজা রাখা নিষিদ্ধ। তাই সঠিক নিয়মে জিলহজের প্রথম থেকে নবম তারিখ পর্যন্ত রোজা রাখার চেষ্টা করুন এবং এই বিশাল সওয়াব অর্জনের সুযোগ কাজে লাগান।

৮. তাকবিরে তাশরিক ও জিকিরের বিশেষ গুরুত্ব এই মাসে

জিলহজ মাসে বিশেষভাবে তাকবির পাঠ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, তোমরা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করো। তাফসিরকারীদের মতে এই নির্দিষ্ট দিনগুলো হলো জিলহজের প্রথম দশ দিন। এই দিনগুলোতে বেশি বেশি তাকবির অর্থাৎ আল্লাহু আকবার, তাহলিল অর্থাৎ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং তাহমিদ অর্থাৎ আলহামদুলিল্লাহ পাঠ করা উচিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিরা এই দিনগুলোতে বাজারে, রাস্তায় ও সর্বত্র উচ্চস্বরে তাকবির পাঠ করতেন।

তাকবিরে তাশরিক হলো ৯ই জিলহজের ফজর নামাজ থেকে শুরু করে ১৩ই জিলহজের আসর নামাজ পর্যন্ত প্রতিটি ফরজ নামাজের পর একবার করে পাঠ করা। তাকবিরে তাশরিকের বাক্য হলো আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ। পুরুষদের জন্য উচ্চস্বরে এবং মহিলাদের জন্য নিচু স্বরে তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা ওয়াজিব। এই তাকবির আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণার এক অনন্য মাধ্যম এবং এর মাধ্যমে সারা বিশ্বের মুসলিমরা একই সুরে আল্লাহর প্রশংসায় মুখরিত হয়ে ওঠেন।

৯. জিলহজ মাসে যে আমলগুলো বেশি বেশি করা উচিত

জিলহজ মাস হলো আমলের সোনালি মৌসুম। এই মাসে যত বেশি নেক আমল করা যাবে তত বেশি সওয়াব অর্জন সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করা এবং সম্ভব হলে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া। কোরআন তিলাওয়াত এই মাসে বেশি বেশি করা উচিত কারণ প্রতিটি হরফের বিনিময়ে দশটি নেকি পাওয়া যায়। দান-সদকা করা এই মাসে বিশেষ সওয়াবের কাজ, তাই সাধ্যমতো গরিব-দুঃখীদের সাহায্য করুন।

বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করা এই মাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। আল্লাহর কাছে অতীতের সব গুনাহের জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে পাপ না করার দৃঢ় সংকল্প করুন। পিতামাতার সেবা করা, আত্মীয়স্বজনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং মানুষের উপকার করাও এই মাসে বিশেষ সওয়াবের কাজ। যারা কোরবানি দেওয়ার নিয়ত করেছেন তারা জিলহজের চাঁদ দেখার পর থেকে কোরবানি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নখ ও চুল না কাটার সুন্নত পালন করুন। দুরুদ শরিফ পাঠ, দোয়া-মুনাজাত এবং আল্লাহর নাম জপ করা এই মাসে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

১০. জিলহজ মাসে যে কাজগুলো থেকে বিরত থাকা জরুরি

জিলহজ মাস যেমন আমলের সেরা সময়, তেমনি এই মাসে কিছু বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করাও জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যারা কোরবানি দেওয়ার ইচ্ছা রাখেন তারা জিলহজের চাঁদ ওঠার পর থেকে কোরবানির পশু জবাইয়ের আগ পর্যন্ত নখ, চুল ও শরীরের কোনো অংশের পশম কাটবেন না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।

এই মাসে যেকোনো ধরনের গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি। মিথ্যা বলা, গিবত করা, পরনিন্দা করা, ঝগড়া-বিবাদ করা এবং অন্যকে কষ্ট দেওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। ঈদের দিন এবং তার পরের তিন দিন অর্থাৎ আইয়ামে তাশরিকে রোজা রাখা হারাম, তাই এই বিষয়ে সতর্ক থাকুন। অহেতুক সময় নষ্ট করা, অতিরিক্ত বিনোদনে মগ্ন থাকা এবং ইবাদতে অলসতা করা এই মাসে বিশেষভাবে পরিহার করুন। এই মূল্যবান দিনগুলো যেন গাফিলতিতে কেটে না যায় সেদিকে সজাগ থাকুন।

১১. জিলহজ মাস নিয়ে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)

প্রশ্ন: জিলহজ মাসে কি শুধু হাজিরাই বিশেষ সওয়াব পাবেন?
না, জিলহজ মাসের ফজিলত সব মুসলিমের জন্যই। যারা হজে যেতে পারেননি তারাও রোজা, নামাজ, জিকির, দান-সদকা ও কোরবানির মাধ্যমে বিশাল সওয়াব অর্জন করতে পারবেন।

প্রশ্ন: কোরবানি কি সবার জন্য ওয়াজিব?
নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের জন্য কোরবানি ওয়াজিব। যাদের সামর্থ্য নেই তাদের জন্য কোরবানি ওয়াজিব নয়, তবে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না দেওয়া গুনাহের কাজ।

প্রশ্ন: জিলহজের চাঁদ ওঠার পর নখ না কাটার বিধান কি সবার জন্য?
এই বিধান শুধুমাত্র তাদের জন্য যারা কোরবানি দেওয়ার নিয়ত করেছেন। যারা কোরবানি দেবেন না তাদের জন্য এই বিধান প্রযোজ্য নয়।

প্রশ্ন: আরাফার দিনের রোজা কি হাজিদের জন্যও রাখা উচিত?
না, হাজিদের জন্য আরাফার দিনে রোজা না রাখাই উত্তম। কারণ এই দিনে হাজিদের দোয়া, জিকির ও ইবাদতে শক্তি ব্যয় করা দরকার এবং রোজা রাখলে দুর্বলতা আসতে পারে।

১২. উপসংহার: জিলহজ মাসকে যেভাবে সর্বোচ্চ কাজে লাগাবেন

জিলহজ মাস আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি অমূল্য উপহার। এই মাসে আমল করার সুযোগ বছরে মাত্র একবারই আসে। তাই এই সুযোগকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে এখনই পরিকল্পনা করুন। প্রথম থেকে নবম তারিখ পর্যন্ত রোজা রাখার চেষ্টা করুন, বিশেষত আরাফার দিনের রোজা কোনোভাবেই মিস করবেন না। প্রতিদিন বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়া করুন।

সামর্থ্য থাকলে কোরবানি দিন এবং কোরবানির গোশত গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিতরণ করুন। তাকবিরে তাশরিক নিয়মিত পাঠ করুন এবং এই মাসে যেকোনো ধরনের গুনাহের কাজ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, এই মাসের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জিলহজ মাসের পূর্ণ ফজিলত অর্জনের তওফিক দান করুন এবং আমাদের সব নেক আমল কবুল করুন। আমিন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪