কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত: যেখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়।
বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা তার অনন্য বৈশিষ্ট্যের জন্য পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই এক জায়গাতেই আপনি একসাথে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন, যা দেশের অন্য কোনো সমুদ্র সৈকতে খুব কমই দেখা যায়।
প্রকৃতির এই অসাধারণ সৌন্দর্যের পাশাপাশি কুয়াকাটার রয়েছে শান্ত পরিবেশ, বিস্তীর্ণ সৈকত এবং স্থানীয় সংস্কৃতির ছোঁয়া। তাই যারা প্রকৃতি ভালোবাসেন বা একটু ভিন্ন অভিজ্ঞতা খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ ভ্রমণ গন্তব্য।
এই গাইডে আমরা সহজভাবে তুলে ধরেছি কুয়াকাটা ভ্রমণের সম্পূর্ণ তথ্য—কীভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কী কী দেখবেন এবং কত খরচ হতে পারে। তাই পুরো পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং আপনার ভ্রমণকে আরও সহজ ও উপভোগ্য করে তুলুন।
১. কুয়াকাটা কোথায় অবস্থিত
কুয়াকাটা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি অনন্য সমুদ্র সৈকত, যা পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় অবস্থিত। এটি বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত এবং দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। কুয়াকাটার ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে, এখানে দাঁড়িয়ে একই স্থান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত—দুটোই উপভোগ করা যায়, যা বাংলাদেশের অন্য কোনো সমুদ্র সৈকতে সম্ভব নয়।
ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যেতে সাধারণত বাস বা লঞ্চ ব্যবহার করা হয়। লঞ্চে বরিশাল হয়ে এবং বাসে সরাসরি কলাপাড়া হয়ে কুয়াকাটা পৌঁছানো যায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই সৈকতটি প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা পর্যটকদের জন্য একটি বিস্তৃত এবং শান্ত পরিবেশ প্রদান করে।
কুয়াকাটা নামটির উৎপত্তি হয়েছে “কুয়া” শব্দ থেকে, যার অর্থ কূপ বা পুকুর। স্থানীয় রাখাইন জনগোষ্ঠী এখানে পানির জন্য কূপ খনন করেছিল, সেখান থেকেই এই জায়গার নাম কুয়াকাটা হয়েছে। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও স্থানটির বিশেষত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
এছাড়া কুয়াকাটা শুধু একটি সমুদ্র সৈকত নয়, বরং এটি একটি সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থানও বটে। এখানে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের বসবাস, যা পর্যটকদের জন্য একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কুয়াকাটা তার অনন্য অবস্থান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণ স্থান।
২. কেন কুয়াকাটা এত জনপ্রিয়
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো এখানে একসাথে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ। সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়িয়ে সকালে সূর্য ওঠা এবং সন্ধ্যায় সূর্য ডোবার দৃশ্য দেখা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা, যা পর্যটকদের বারবার এই জায়গায় আকৃষ্ট করে।
এছাড়া কুয়াকাটার প্রাকৃতিক পরিবেশ অনেক শান্ত এবং নিরিবিলি। যারা শহরের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে কিছুটা সময় প্রকৃতির মাঝে কাটাতে চান, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। এখানে সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ, খোলা আকাশ এবং দীর্ঘ সৈকত মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।
কুয়াকাটার আরেকটি আকর্ষণ হলো এখানকার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। যেমন—ফাতরার বন, লাল কাঁকড়ার চর, গঙ্গামতির জঙ্গল ইত্যাদি। এসব জায়গা ভ্রমণকারীদের জন্য নতুন নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসে এবং ভ্রমণকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।
এছাড়া এখানে স্থানীয় সংস্কৃতি এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের জীবনযাপন পর্যটকদের জন্য একটি বিশেষ আকর্ষণ। তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, খাবার এবং জীবনধারা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়।
সবশেষে বলা যায়, কুয়াকাটা তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে দিন দিন আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এটি শুধু একটি ভ্রমণ স্থান নয়, বরং একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
৩. সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সেরা স্থান
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো একই জায়গা থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা। তবে এই অভিজ্ঞতাকে আরও সুন্দর করতে কিছু নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে, যেগুলো থেকে এই দৃশ্য উপভোগ করা সবচেয়ে ভালো।
সূর্যোদয় দেখার জন্য গঙ্গামতি বা লেবুর চর এলাকা অন্যতম সেরা স্থান। ভোরবেলায় এখানে গেলে আপনি শান্ত পরিবেশে সমুদ্রের দিগন্ত থেকে সূর্য ওঠার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে পাবেন। সমুদ্রের নীল জলের উপর লাল আভা ছড়িয়ে পড়ার মুহূর্তটি সত্যিই অসাধারণ।
অন্যদিকে, সূর্যাস্ত দেখার জন্য কুয়াকাটা মূল সৈকত একটি আদর্শ জায়গা। বিকেলের দিকে সমুদ্রের তীরে বসে সূর্য ডোবার দৃশ্য দেখা এক অনন্য অনুভূতি। আকাশের রঙ পরিবর্তনের সাথে সাথে পুরো পরিবেশটি আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে।
এছাড়া ফাতরার বন এলাকার পাশ থেকেও সূর্যাস্তের দৃশ্য অনেক সুন্দর দেখা যায়। এখানে প্রকৃতির মাঝে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখা একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা দেয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কুয়াকাটার বিভিন্ন স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ থাকলেও, সঠিক জায়গা নির্বাচন করলে এই অভিজ্ঞতা আরও স্মরণীয় হয়ে ওঠে।
৪. যাতায়াতের উপায় (ঢাকা/বরিশাল থেকে)
কুয়াকাটা ভ্রমণের জন্য ঢাকা এবং বরিশাল থেকে সহজেই যাতায়াত করা যায়। ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যাওয়ার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায় হলো বাস এবং লঞ্চ। সরাসরি ঢাকা থেকে কুয়াকাটার বাস সার্ভিস রয়েছে, যা প্রায় ১০-১২ ঘণ্টা সময় নেয়।
অনেকেই লঞ্চে করে ঢাকা থেকে বরিশাল যান এবং সেখান থেকে বাস বা মাইক্রোবাসে কুয়াকাটা পৌঁছান। এই পথটি কিছুটা সময়সাপেক্ষ হলেও ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অনেক সুন্দর হয়, বিশেষ করে নদীপথে যাত্রা উপভোগ্য।
বরিশাল থেকে কুয়াকাটা যেতে সাধারণত ৪-৫ ঘণ্টা সময় লাগে। এখানে বাস, মাইক্রোবাস বা প্রাইভেট কার সহজেই পাওয়া যায়। রাস্তার অবস্থা ভালো হওয়ায় এই যাত্রা তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক।
এছাড়া যারা দ্রুত যেতে চান, তারা ঢাকা থেকে বরিশাল পর্যন্ত বিমানে যেতে পারেন এবং তারপর সড়ক পথে কুয়াকাটা পৌঁছাতে পারেন। এতে সময় অনেক কম লাগে।
সবশেষে বলা যায়, আপনার বাজেট এবং সময় অনুযায়ী বিভিন্ন উপায়ে কুয়াকাটা যাওয়া সম্ভব। সঠিক পরিকল্পনা করলে আপনার যাত্রা হবে সহজ, আরামদায়ক এবং উপভোগ্য।
৫. কোথায় থাকবেন (হোটেল ও রিসোর্ট)
কুয়াকাটা ভ্রমণের সময় থাকার জন্য বিভিন্ন ধরনের হোটেল এবং রিসোর্টের সুবিধা পাওয়া যায়। পর্যটকদের চাহিদা এবং বাজেট অনুযায়ী এখানে সাধারণ গেস্ট হাউস থেকে শুরু করে আধুনিক ও বিলাসবহুল রিসোর্ট পর্যন্ত রয়েছে।
যারা কম খরচে ভ্রমণ করতে চান, তাদের জন্য রয়েছে বাজেট হোটেল এবং গেস্ট হাউস, যেখানে ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে ভালোভাবে থাকা যায়। এসব জায়গায় সাধারণ সুবিধা থাকলেও পরিবেশ শান্ত এবং আরামদায়ক হয়।
অন্যদিকে, যারা একটু বেশি আরাম এবং উন্নত সুবিধা চান, তাদের জন্য রয়েছে উন্নতমানের রিসোর্ট। এসব রিসোর্টে এসি রুম, সুন্দর সাজসজ্জা, ভালো খাবার এবং সমুদ্রের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ থাকে। সমুদ্রের কাছাকাছি অবস্থিত রিসোর্টগুলো বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
ভ্রমণের সময় বিশেষ করে শীত মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা বেশি থাকে, তাই আগে থেকেই হোটেল বুকিং করে রাখা ভালো। এতে করে শেষ মুহূর্তে সমস্যায় পড়তে হয় না এবং নিজের পছন্দমতো জায়গা পাওয়া যায়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কুয়াকাটায় থাকার জন্য বিভিন্ন বাজেটের উপযোগী অনেক ভালো অপশন রয়েছে। সঠিকভাবে নির্বাচন করলে আপনার ভ্রমণ হবে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় এবং আনন্দদায়ক।
৬. কী কী দর্শনীয় স্থান রয়েছে
কুয়াকাটা শুধু একটি সমুদ্র সৈকত নয়, বরং এটি নানা দর্শনীয় স্থানে ভরপুর একটি পর্যটন এলাকা। এখানে ভ্রমণ করলে আপনি বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি হলো ফাতরার বন। এটি একটি ম্যানগ্রোভ বন, যেখানে আপনি সুন্দরবনের মতো পরিবেশ অনুভব করতে পারবেন। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা এবং পাখি দেখা যায়, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।
আরেকটি আকর্ষণীয় স্থান হলো লাল কাঁকড়ার চর। এখানে হাজার হাজার লাল কাঁকড়া একসাথে দেখা যায়, যা একটি অসাধারণ দৃশ্য তৈরি করে। পর্যটকদের জন্য এটি একটি অনন্য অভিজ্ঞতা।
এছাড়া গঙ্গামতির জঙ্গল এবং লেবুর চরও ভ্রমণের জন্য দারুণ জায়গা। এই স্থানগুলোতে গিয়ে আপনি নিরিবিলি পরিবেশে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
কুয়াকাটায় রাখাইন সম্প্রদায়ের বসবাসও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তাদের সংস্কৃতি, জীবনযাপন এবং ঐতিহ্য কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়, যা ভ্রমণকে আরও সমৃদ্ধ করে।
সবশেষে বলা যায়, কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণকারীদের জন্য বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা এনে দেয় এবং পুরো ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।
৭. খাবার ও স্থানীয় বিশেষ খাবার
কুয়াকাটা ভ্রমণের সময় এখানকার খাবার একটি বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ধরা হয়। সমুদ্রের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে টাটকা সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া এবং বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক খাবার সহজেই পাওয়া যায়। এসব খাবারের স্বাদ একেবারেই আলাদা এবং অনেক বেশি সুস্বাদু।
বিশেষ করে বারবিকিউ মাছ এবং ভাজা চিংড়ি এখানে খুব জনপ্রিয়। অনেক হোটেল এবং স্থানীয় রেস্টুরেন্টে রাতের বেলায় বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করা হয়, যেখানে পর্যটকরা নিজের পছন্দমতো মাছ বেছে নিয়ে রান্না করাতে পারেন। এই অভিজ্ঞতা ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করে তোলে।
এছাড়া কুয়াকাটায় নারিকেল এবং ডাবের পানি খুবই জনপ্রিয়। সমুদ্রের পাশে বসে তাজা ডাবের পানি পান করা এক অনন্য অনুভূতি দেয়। অনেক জায়গায় নারিকেল দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাবারও পাওয়া যায়।
স্থানীয়ভাবে তৈরি শুকনো মাছ বা শুঁটকি অনেকের কাছে আকর্ষণীয় একটি খাবার। যারা ভিন্ন ধরনের স্বাদ পছন্দ করেন, তারা এটি ট্রাই করতে পারেন। তবে খাওয়ার সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কুয়াকাটার খাবার শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়, বরং এটি ভ্রমণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানকার স্থানীয় বিশেষ খাবারগুলো আপনার ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তুলবে।
৮. ভ্রমণ খরচের হিসাব
কুয়াকাটা ভ্রমণের আগে একটি বাজেট নির্ধারণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে আপনি সহজেই আপনার খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন এবং ভ্রমণ হবে আরও আরামদায়ক। সাধারণত ভ্রমণের খরচ নির্ভর করে যাতায়াত, থাকা এবং খাবারের উপর।
ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যাওয়ার জন্য বাস ভাড়া সাধারণত ৮০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। লঞ্চে বরিশাল হয়ে গেলে খরচ কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। বরিশাল থেকে কুয়াকাটা যেতে বাস বা মাইক্রোবাসে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মতো খরচ হয়।
থাকার খরচ আপনার পছন্দ অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। সাধারণ হোটেলে প্রতি রাত ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে থাকা সম্ভব, আর উন্নতমানের রিসোর্টে ২০০০ থেকে ৪০০০ টাকা বা তার বেশি খরচ হতে পারে। সমুদ্রের পাশে থাকা হোটেলগুলো সাধারণত একটু বেশি দামি হয়।
খাবারের জন্য প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ হতে পারে। তবে আপনি যদি বিশেষ সামুদ্রিক খাবার যেমন চিংড়ি বা কাঁকড়া খান, তাহলে খরচ কিছুটা বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, একজন সাধারণ পর্যটকের জন্য ২-৩ দিনের কুয়াকাটা ভ্রমণে মোট খরচ প্রায় ৪০০০ থেকে ৯০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। তবে এটি আপনার ভ্রমণের ধরন এবং পরিকল্পনার উপর নির্ভর করে কম-বেশি হতে পারে।
সঠিকভাবে পরিকল্পনা করলে আপনি কম খরচে একটি সুন্দর এবং উপভোগ্য ভ্রমণ সম্পন্ন করতে পারবেন। তাই ভ্রমণের আগে বাজেট নির্ধারণ করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
৯. ভ্রমণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ টিপস
কুয়াকাটা ভ্রমণকে আরও আরামদায়ক ও নিরাপদ করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস মেনে চলা উচিত। প্রথমত, ভ্রমণের জন্য সঠিক সময় নির্বাচন করা জরুরি। সাধারণত শীতকাল (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) কুয়াকাটা ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত, কারণ এই সময় আবহাওয়া মনোরম থাকে এবং সমুদ্রও শান্ত থাকে।
দ্বিতীয়ত, ভ্রমণের সময় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—সানস্ক্রিন, সানগ্লাস, হালকা পোশাক, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং পর্যাপ্ত নগদ টাকা। কারণ সব জায়গায় ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা নাও থাকতে পারে।
সমুদ্রসৈকতে ঘোরার সময় সতর্ক থাকা জরুরি। বেশি গভীর পানিতে না যাওয়া এবং স্থানীয়দের নির্দেশনা মেনে চলা নিরাপত্তার জন্য ভালো। এছাড়া সূর্যের তাপ থেকে বাঁচতে দিনের বেলায় ছাতা বা ক্যাপ ব্যবহার করা উচিত।
পরিবেশ রক্ষার দিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। প্লাস্টিক বা আবর্জনা যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেললে এই সুন্দর পরিবেশ অটুট থাকবে।
সবশেষে, আগে থেকেই হোটেল বুকিং এবং যাতায়াত পরিকল্পনা করে রাখলে ভ্রমণ আরও সহজ এবং ঝামেলামুক্ত হয়।
১০. প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
প্রশ্ন ১: কুয়াকাটা ভ্রমণের জন্য কত দিন সময় যথেষ্ট?
উত্তর: সাধারণত ২ থেকে ৩ দিন সময় কুয়াকাটা ভ্রমণের জন্য যথেষ্ট। এই সময়ের মধ্যে আপনি প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে পারবেন।
প্রশ্ন ২: পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করা কি নিরাপদ?
উত্তর: হ্যাঁ, কুয়াকাটা পরিবার নিয়ে ভ্রমণের জন্য একটি নিরাপদ স্থান। তবে শিশু এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
প্রশ্ন ৩: কুয়াকাটায় ইন্টারনেট সুবিধা কেমন?
উত্তর: বেশিরভাগ জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়, তবে ইন্টারনেট স্পিড সবসময় স্থিতিশীল নাও হতে পারে।
প্রশ্ন ৪: কোন সময় ভ্রমণ করা সবচেয়ে ভালো?
উত্তর: শীতকাল ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়, কারণ এই সময় আবহাওয়া আরামদায়ক থাকে।
প্রশ্ন ৫: কুয়াকাটায় কী ধরনের খাবার পাওয়া যায়?
উত্তর: এখানে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক খাবার, স্থানীয় খাবার এবং সাধারণ বাঙালি খাবার পাওয়া যায়।
১১. উপসংহার
কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর সমুদ্র সৈকত, যা তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং অনন্য বৈশিষ্ট্যের জন্য পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এখানে একসাথে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ ভ্রমণকে আরও বিশেষ করে তোলে।
সঠিক পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতির মাধ্যমে কুয়াকাটা ভ্রমণ আরও আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে। যাতায়াত, থাকা, খাবার এবং খরচ—সবকিছু আগে থেকে ঠিক করে নিলে ভ্রমণ হবে আরও সহজ এবং স্বাচ্ছন্দ্যময়।
এছাড়া পরিবেশ রক্ষা এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলো মাথায় রেখে ভ্রমণ করা আমাদের সবার দায়িত্ব। এতে করে ভবিষ্যতেও এই সুন্দর সৈকতের সৌন্দর্য অটুট থাকবে।
সবশেষে বলা যায়, কুয়াকাটা শুধু একটি ভ্রমণ স্থান নয়, বরং এটি একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা, যা আপনার মনে দীর্ঘদিন ধরে আনন্দের স্মৃতি হয়ে থাকবে।


ওয়াও , এক কথায় বলা যায় প্রাকৃতিক দিক দিয়ে অসাধারণ দৃশ্য।