OrdinaryITPostAd

এজেন্সি কত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে? জানুন কোন দেশের আসল সরকারি খরচ কত।

💰 এজেন্সি কি আপনার টাকা বেশি নিচ্ছে?

বিদেশ যাওয়ার নামে অনেক এজেন্সি আসল সরকারি খরচের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা হাতিয়ে নেয়—আর সাধারণ মানুষ তা বুঝতেই পারে না। তথ্য না জানার কারণেই এই প্রতারণা চলতেই থাকে।

এই লেখায় জানতে পারবেন কোন দেশের সরকারি ভিসা ও প্রসেসিং ফি কত, আর এজেন্সি আসলে আপনার কাছ থেকে কত টাকা অতিরিক্ত নিচ্ছে—সব স্পষ্টভাবে।

এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার বাস্তব চিত্র: বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কাজ বা বসবাসের উদ্দেশ্যে যাওয়ার ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষই এজেন্সির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। বাস্তবে দেখা যায়, অনেক এজেন্সি সরকারি নিয়ম-কানুন সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা না দিয়ে কেবল দ্রুত বিদেশ পাঠানোর প্রলোভন দেখায়। চাকরির ধরন, ভিসার ক্যাটাগরি ও চুক্তিপত্র সম্পর্কে অস্পষ্ট তথ্য দেওয়াই এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে ভিসা পাওয়া গেলেও কাজের বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন হয়। যেমন—যে কাজের কথা বলা হয়েছিল, বিদেশে গিয়ে দেখা যায় সেই কাজ নেই বা বেতন কম। ভাষাগত সমস্যা ও আইনি জটিলতা থাকায় প্রবাসীরা তখন প্রতিবাদ করতেও সাহস পান না। আবার কিছু এজেন্সি ভিসা প্রসেসিংয়ের নামে মাসের পর মাস সময় নষ্ট করে, অথচ শেষ পর্যন্ত ভিসা মেলে না। এই বাস্তব চিত্র প্রমাণ করে যে, এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশ যাত্রা সব সময় নিরাপদ বা লাভজনক নয়। সঠিক তথ্য যাচাই ও সরকারি অনুমোদন ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া ভবিষ্যতে বড় আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এজেন্সি সাধারণত কত টাকা হাতিয়ে নেয়: এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—মোট খরচের কতটা সত্যিকারের সরকারি আর কতটা এজেন্সির কমিশন? বাস্তবে বিভিন্ন দেশে কাজের ভিসার সরকারি খরচ তুলনামূলক কম হলেও এজেন্সিগুলো অনেক সময় ৩ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে যেখানে সরকারি খরচ ১.৫–২ লাখ টাকার মধ্যে, সেখানে এজেন্সি নেয় ৪–৬ লাখ টাকা। ইউরোপ বা উন্নত দেশে এই অঙ্ক আরও বেশি হতে পারে। এই অতিরিক্ত টাকার বড় অংশই অঘোষিত সার্ভিস চার্জ, দালাল কমিশন ও ভুয়া প্রসেসিং ফি হিসেবে হাতিয়ে নেওয়া হয়। অনেক সময় কোনো লিখিত রসিদও দেওয়া হয় না, যা ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি করে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো—ভিসা না হলেও পুরো টাকা ফেরত পাওয়া যায় না। তাই বিদেশ যাওয়ার আগে সরকারি ওয়েবসাইট, প্রবাসী কল্যাণ অফিস এবং বিএমইটি থেকে প্রকৃত খরচ জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এতে করে অপ্রয়োজনীয় খরচ ও প্রতারণা থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।

সরকারি খরচ আর এজেন্সি খরচের পার্থক্য: বিদেশে কাজের জন্য যাওয়ার ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষই প্রকৃত খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় বিভ্রান্ত হন। বাস্তবে সরকারি খরচ বলতে বোঝায়—ভিসা ফি, মেডিকেল পরীক্ষা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন, স্মার্ট কার্ড ও সরকারি ট্রেনিং সংক্রান্ত নির্ধারিত ফি। এসব খরচ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত এবং তুলনামূলকভাবে সীমিত। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় যখন এজেন্সি খরচ যুক্ত হয়। এজেন্সিগুলো সরকারি খরচের সঙ্গে অতিরিক্তভাবে ফাইল প্রসেসিং, নেটওয়ার্ক চার্জ, দ্রুত ভিসা করানোর অজুহাত ও দালাল কমিশন যোগ করে দেয়। ফলে প্রকৃত সরকারি খরচ যেখানে ১–২ লাখ টাকার মধ্যে, সেখানে এজেন্সির মাধ্যমে যেতে মোট খরচ দাঁড়ায় ৪–৮ লাখ টাকা পর্যন্ত। সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো—সরকারি খরচের প্রতিটি ধাপের রসিদ ও প্রমাণ পাওয়া যায়, কিন্তু এজেন্সির নেওয়া অতিরিক্ত টাকার ক্ষেত্রে অনেক সময় কোনো লিখিত চুক্তি বা রসিদ থাকে না। এতে প্রবাসী কর্মীরা প্রতারিত হলেও আইনি সহায়তা নিতে পারেন না। তাই বিদেশ যাওয়ার আগে সরকারি খরচ ও এজেন্সি খরচের এই পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মধ্যপ্রাচ্য দেশের আসল সরকারি খরচ: মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো—যেমন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE), কাতার, ওমান ও কুয়েত—বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয়। এই দেশগুলোর ক্ষেত্রে সরকারি পর্যায়ে নির্ধারিত খরচ তুলনামূলকভাবে কম। সাধারণভাবে একটি মধ্যপ্রাচ্য ওয়ার্ক ভিসার জন্য সরকারি খরচ প্রায় ১.২০ থেকে ২.৫০ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে মেডিকেল টেস্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, বিএমইটি ফি, প্রবাসী কল্যাণ বীমা এবং সরকারি স্মার্ট কার্ড। অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা ভিসা ও বিমান টিকিটের খরচ বহন করে, ফলে খরচ আরও কমে যায়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, এজেন্সিগুলো এই সরকারি খরচের কথা গোপন রেখে ৫–৭ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করে। তারা বলে থাকে—“কোম্পানি ভালো”, “বেতন বেশি”, অথবা “দ্রুত পাঠানো হবে”। অথচ সরকারি হিসাবে এসব অতিরিক্ত খরচের কোনো বৈধতা নেই। বিশেষ করে সৌদি ও কাতারের সরকারি চ্যানেলে গেলে অনেক সময় খরচ ২ লাখ টাকারও কম হতে পারে। তাই মধ্যপ্রাচ্যে যেতে চাইলে অবশ্যই বিএমইটি, প্রবাসী কল্যাণ অফিস ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের তথ্য যাচাই করা উচিত। এতে করে আসল সরকারি খরচ জেনে অপ্রয়োজনীয় অর্থ নষ্ট হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।

ইউরোপীয় দেশের আসল সরকারি খরচ: ইউরোপে কাজ বা স্টাডি ভিসায় যেতে আগ্রহীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তি তৈরি হয় খরচ নিয়ে। বাস্তবে ইউরোপীয় দেশের সরকারি খরচ অনেক ক্ষেত্রেই এজেন্সি যে অঙ্ক বলে তার অর্ধেকেরও কম। সাধারণভাবে ইউরোপের ওয়ার্ক বা লং-টার্ম ভিসার সরকারি ফি থাকে ৮০–১২০ ইউরো, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১০–১৫ হাজার টাকার সমান। এর সঙ্গে যুক্ত হয় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, মেডিকেল পরীক্ষা, নোটারি ও ডকুমেন্ট ট্রান্সলেশন খরচ। সব মিলিয়ে সরকারি ও বাধ্যতামূলক খরচ ১.৫০–২.৫০ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বাস্তবে অনেক এজেন্সি এই খরচ দেখিয়ে ৬–১০ লাখ টাকা দাবি করে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। বিশেষ করে রোমানিয়া, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার মতো দেশগুলোতে সরকারি চ্যানেলে গেলে খরচ তুলনামূলকভাবে কম হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ইউরোপের বেশিরভাগ দেশে নিয়োগকর্তা ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করে দেয়, যার জন্য আবেদনকারীর আলাদা কোনো বড় অঙ্কের ফি দিতে হয় না। ফলে আসল সরকারি খরচ জানলে সহজেই বোঝা যায়, এজেন্সির দাবি করা অতিরিক্ত টাকার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

এশিয়ান দেশের সরকারি ভিসা ও প্রসেসিং ফি: এশিয়ান দেশগুলো—বিশেষ করে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও থাইল্যান্ড—বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়। এই দেশগুলোর ক্ষেত্রে সরকারি ভিসা ফি ও প্রসেসিং চার্জ তুলনামূলকভাবে আরও কম। উদাহরণস্বরূপ, মালয়েশিয়ার ওয়ার্ক ভিসার সরকারি খরচ সাধারণত ১–১.৮ লাখ টাকার মধ্যে থাকে। দক্ষিণ কোরিয়ার EPS ভিসার ক্ষেত্রে সরকারি ফি আরও কম, কারণ এখানে সরকারিভাবে লটারির মাধ্যমে কর্মী নির্বাচন করা হয়। জাপানের টেকনিক্যাল ইন্টার্ন বা স্পেসিফায়েড স্কিল ভিসার জন্যও ভিসা ফি সীমিত, তবে ভাষা প্রশিক্ষণ ও ডকুমেন্ট প্রস্তুতির খরচ আলাদাভাবে যোগ হয়। সমস্যা হলো, অনেক এজেন্সি এই স্বল্প সরকারি খরচের সুযোগ নিয়ে ৩–৬ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করে, অথচ সরকারি হিসাব অনুযায়ী এই খরচ অনেক কম। এশিয়ান দেশগুলোর বড় সুবিধা হলো—প্রসেসিং সময় কম এবং ভিসা নিয়ম তুলনামূলক সহজ। তাই সঠিক তথ্য জেনে বিএমইটি, সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও সরকারি ওয়েবসাইট থেকে খরচ যাচাই করলে সহজেই বোঝা যায় কোনটা আসল সরকারি ফি আর কোনটা অপ্রয়োজনীয় এজেন্সি চার্জ। এতে করে প্রতারণা এড়িয়ে নিরাপদে বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।

কোন খরচগুলো সত্যিই বাধ্যতামূলক: বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা করলে সবচেয়ে আগে যে প্রশ্নটি আসে তা হলো—কোন কোন খরচ আসলেই বাধ্যতামূলক এবং কোনগুলো অপ্রয়োজনীয়। বাস্তবে সরকারিভাবে নির্ধারিত কিছু খরচ ছাড়া বাড়তি টাকা দেওয়ার কোনো আইনগত প্রয়োজন নেই। প্রথমত, পাসপোর্ট ও ভিসা ফি—এটি সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক এবং প্রতিটি দেশের দূতাবাস নির্দিষ্ট করে দেয়। দ্বিতীয়ত, মেডিকেল টেস্ট, যা সরকার অনুমোদিত হাসপাতাল থেকেই করতে হয় এবং এর নির্ধারিত ফি থাকে। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ খরচ হলো পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, যা ছাড়া কোনো দেশই ওয়ার্ক ভিসা ইস্যু করে না। এছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী ডকুমেন্ট নোটারি ও ট্রান্সলেশন খরচ যুক্ত হতে পারে। ইউরোপ বা এশিয়ার বেশিরভাগ দেশে গেলে এই সব খরচ মিলিয়ে সাধারণত ২–৩ লাখ টাকার মধ্যেই শেষ হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এজেন্সি বা দালালরা ট্রেনিং ফি, ফাইল চার্জ, স্পেশাল প্রসেসিং ফি ইত্যাদি নামে অতিরিক্ত টাকা দাবি করে, যেগুলোর কোনো সরকারি ভিত্তি নেই। বাস্তব সত্য হলো—নিয়োগকর্তা যদি বৈধ হয়, তবে ওয়ার্ক পারমিট বা জব অফারের জন্য আলাদা টাকা দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। তাই বাধ্যতামূলক খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে সহজেই বোঝা যায় কোন খরচ আসল আর কোনটি শুধুই ভয় দেখিয়ে আদায় করা অর্থ।

দালাল ও ভুয়া এজেন্সি চেনার উপায়: বিদেশগামী মানুষের কষ্টার্জিত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য দালাল ও ভুয়া এজেন্সি নানা কৌশল ব্যবহার করে। তাদের প্রথম লক্ষণ হলো অস্বাভাবিক দ্রুত ভিসার আশ্বাস—যদি কেউ বলে “১৫ দিনে নিশ্চিত ভিসা”, তাহলে বুঝতে হবে সেখানে ঝুঁকি আছে। দ্বিতীয়ত, লিখিত কাগজপত্র ছাড়াই টাকা দাবি করা হয়, যা স্পষ্ট প্রতারণার ইঙ্গিত। তৃতীয় লক্ষণ হলো সরকারি খরচের কোনো রসিদ না দেওয়া। বৈধ এজেন্সি হলে প্রতিটি পেমেন্টের রসিদ ও ব্যাংক ট্রান্সফারের প্রমাণ দেয়। আরও একটি বড় সতর্ক সংকেত হলো—ভিসা বা জব অফারের কপি দেখাতে অস্বীকৃতি। ভুয়া এজেন্সি সাধারণত ফটোশপ করা কাগজ দেখায় বা সময় নষ্ট করে। এছাড়া তারা প্রায়ই বলে, “সব কিছু আমরা ম্যানেজ করে দেব, আপনি কিছু জানার দরকার নেই।” বাস্তবে যে এজেন্সি স্বচ্ছ, সে কখনো তথ্য লুকায় না। নিরাপদ থাকতে হলে অবশ্যই BMET লাইসেন্স নম্বর যাচাই, দূতাবাসের ওয়েবসাইটে ভিসা তথ্য মিলিয়ে দেখা এবং সরাসরি নিয়োগকর্তার কনট্যাক্ট চাওয়া উচিত। মনে রাখবেন, জ্ঞানই প্রতারণার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র। সঠিক তথ্য জানা থাকলে দালাল ও ভুয়া এজেন্সির ফাঁদে পড়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।

কম খরচে বিদেশ যাওয়ার নিরাপদ পদ্ধতি: বর্তমান সময়ে অনেক মানুষ কম খরচে বিদেশ যেতে চাইলেও ভুল তথ্য ও দালালের কারণে প্রতারিত হচ্ছেন। বাস্তবতা হলো—সঠিক নিয়ম জানা থাকলে কম খরচে এবং নিরাপদভাবে বিদেশ যাওয়া সম্ভব। সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হচ্ছে সরকারি নিয়ম মেনে নিজ উদ্যোগে আবেদন করা। প্রথমত, যে দেশে যেতে চান সেই দেশের অফিসিয়াল দূতাবাস বা সরকারি ওয়েবসাইট থেকে ভিসার ধরন, ফি ও শর্ত যাচাই করা জরুরি। এতে অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানো যায়। দ্বিতীয়ত, চাকরিভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রে সরাসরি অনুমোদিত নিয়োগকর্তা বা সরকার স্বীকৃত জব পোর্টাল ব্যবহার করা নিরাপদ। অনেক ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া, সৌদি আরব বা ইউরোপের কিছু দেশে সরকারি চুক্তির মাধ্যমে কর্মী নেওয়া হয়, যেখানে এজেন্সি ফি তুলনামূলক কম বা নেই। তৃতীয়ত, মেডিকেল, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, পাসপোর্ট ও ভিসা ফি—এই কয়েকটি খরচই আসলে বাধ্যতামূলক। এর বাইরে যেসব খরচ দেখানো হয়, সেগুলোর যৌক্তিকতা যাচাই করা জরুরি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কখনোই সম্পূর্ণ টাকা একসাথে দেওয়া উচিত নয় এবং সবসময় ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন করতে হবে। কম খরচে বিদেশ যাওয়ার সবচেয়ে বড় কৌশল হলো ধৈর্য ধরে তথ্য যাচাই করা এবং “দ্রুত ভিসা” বা “নিশ্চিত কাজ” জাতীয় প্রলোভন থেকে দূরে থাকা। মনে রাখতে হবে, নিরাপদ পথ সাধারণত একটু সময় নেয়, কিন্তু ভবিষ্যতের ঝুঁকি অনেক কমায়।

সরকারি অফিসে নিজে আবেদন করবেন যেভাবে: দালাল ছাড়াই বিদেশ যাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সরকারি অফিসে নিজে আবেদন করা। এর প্রথম ধাপ হলো বৈধ পাসপোর্ট প্রস্তুত করা। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসা ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে, যেমন—জব অফার লেটার, একাডেমিক সার্টিফিকেট, মেডিকেল রিপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স। বাংলাদেশে বিদেশে কাজের জন্য যেতে চাইলে BMET (ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং) অফিস একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এখানে নিবন্ধন করলে সরকার অনুমোদিত জব ও বিদেশি নিয়োগের তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তী ধাপে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইন ভিসা ফর্ম পূরণ করতে হয় এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হয়। অনেক দেশ বর্তমানে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও ই-ভিসা সিস্টেম চালু করেছে, যা খরচ ও সময় দুটোই কমায়। আবেদন করার সময় সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি, কারণ সামান্য ভুলেও ভিসা বাতিল হতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পর ভিসার অগ্রগতি ট্র্যাক করার অপশন থাকে, যা নিজে আবেদন করলে সহজে করা যায়। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—এভাবে আবেদন করলে অতিরিক্ত এজেন্সি চার্জ বা দালাল ফি দিতে হয় না এবং প্রতারণার ঝুঁকি প্রায় শূন্যে নেমে আসে। যারা সত্যিই নিরাপদ ও কম খরচে বিদেশ যেতে চান, তাদের জন্য সরকারি অফিসে নিজে আবেদন করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমান ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪