তেল ছাড়াই কম ক্যালরির পাটিসাপটা পিঠা তৈরির সহজ রেসিপি।
পিঠা মানেই কি বেশি তেল, ক্যালরি আর ডায়েট নষ্ট হওয়ার ভয়? 🤔 সুখবর হলো—চাইলেই আপনি ঘরে বসেই তৈরি করতে পারেন তেল ছাড়াই কম ক্যালরির পাটিসাপটা পিঠা, যা যেমন সুস্বাদু, তেমনই স্বাস্থ্যসম্মত। বিশেষ করে যারা ওজন কমাতে চান, ডায়েট ফলো করেন বা তেল-ঝাল এড়িয়ে চলেন—তাদের জন্য এই রেসিপি একদম পারফেক্ট। চলুন জেনে নিই সহজ উপায়ে কীভাবে বানানো যায় এই হালকা, নরম আর পুষ্টিকর পাটিসাপটা পিঠা ।
ভূমিকা
বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠার তালিকায় পাটিসাপটা পিঠা একটি বিশেষ নাম। শীত এলেই এই সুস্বাদু পিঠা যেন ঘরে ঘরে ফিরে আসে। তবে প্রচলিত পদ্ধতিতে পাটিসাপটা পিঠা তৈরি করতে গিয়ে তেল বা ঘি ব্যবহার করা হয়, যা অনেকের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের ঝুঁকিতে আছেন—তাদের জন্য অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই উত্তম।
এই কারণে বর্তমানে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে তেল ছাড়াই পাটিসাপটা পিঠা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আধুনিক রান্নার কৌশল ও নন-স্টিক প্যান ব্যবহারের মাধ্যমে এখন খুব সহজেই তেল ছাড়াই সুস্বাদু ও নরম পাটিসাপটা পিঠা তৈরি করা সম্ভব। এতে যেমন ক্যালরি কম থাকে, তেমনি স্বাদ ও পুষ্টিগুণও অক্ষুণ্ণ থাকে।
এই লেখায় আমরা জানবো—তেল ছাড়া পাটিসাপটা পিঠা খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা কী, কেন এটি ডায়েট-ফ্রেন্ডলি এবং কীভাবে এটি আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
তেল ছাড়াই পাটিসাপটা পিঠা খাওয়ার উপকারিতা
তেল ছাড়া পাটিসাপটা পিঠা শুধু একটি হালকা খাবারই নয়, বরং এটি একটি স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। নিচে এর গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতাগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
১. কম ক্যালরি ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
তেল বা ঘি বাদ দেওয়ায় পাটিসাপটা পিঠার মোট ক্যালরি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। যারা ওজন কমাতে চান বা ডায়েট করছেন, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ খাবার। কম ক্যালরির হওয়ায় এটি দীর্ঘমেয়াদে ওজন বাড়ার ঝুঁকি কমায়।
২. হৃদযন্ত্রের জন্য নিরাপদ
অতিরিক্ত তেল হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ। তেল ছাড়া পাটিসাপটা পিঠা খেলে শরীরে ক্ষতিকর ফ্যাট জমার সম্ভাবনা কমে যায়। ফলে হার্ট সুস্থ থাকে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
৩. ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপযোগী
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তেলযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার ঝুঁকিপূর্ণ। তেল ছাড়া পাটিসাপটা পিঠা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ, বিশেষ করে যদি চিনি কম ব্যবহার করা হয় বা প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে পুর তৈরি করা হয়।
৪. হজমে সহজ
তেলযুক্ত খাবার হজমে সময় নেয় এবং অনেক সময় গ্যাস বা অস্বস্তির কারণ হয়। তেল ছাড়া পাটিসাপটা পিঠা হালকা হওয়ায় সহজে হজম হয় এবং পাকস্থলীর উপর চাপ কম পড়ে।
৫. পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে
পাটিসাপটা পিঠায় ব্যবহৃত চালের গুঁড়া, দুধ, নারকেল বা খেজুরের গুড়—সব উপাদানই পুষ্টিগুণে ভরপুর। তেল ছাড়া রান্না করলে এসব উপাদানের স্বাভাবিক পুষ্টিগুণ নষ্ট হয় না।
৬. শিশু ও বয়স্কদের জন্য নিরাপদ
শিশু ও বয়স্কদের হজমক্ষমতা তুলনামূলক কম থাকে। তেল ছাড়া পাটিসাপটা পিঠা তাদের জন্য একটি নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে পরিবেশন করা যায়।
৭. স্বাস্থ্যকর জীবনধারার অংশ
যারা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে চান, তাদের জন্য তেল ছাড়া পাটিসাপটা পিঠা একটি চমৎকার বিকল্প। এটি ঐতিহ্য ও আধুনিক স্বাস্থ্য সচেতনতার সুন্দর সমন্বয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, তেল ছাড়াই পাটিসাপটা পিঠা শুধু স্বাদে নয়, স্বাস্থ্য দিক থেকেও একটি আদর্শ খাবার। সঠিক উপাদান ও পদ্ধতিতে তৈরি করলে এটি হতে পারে আপনার প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
তেল ছাড়াই পাটিসাপটা পিঠা তৈরি করতে চাইলে প্রথমেই প্রয়োজন সঠিক উপকরণ নির্বাচন। উপকরণ যত সহজ ও পরিমিত হবে, পিঠার স্বাদ ও পুষ্টিগুণ ততই ভালো হবে। এই রেসিপিতে এমন উপকরণ ব্যবহার করা হয়, যা সহজে পাওয়া যায় এবং স্বাস্থ্যসম্মত।
পিঠার খামিরের জন্য:
চাল বা চালের গুঁড়া – ১ কাপ (চাইলে আধা কাপ চালের গুঁড়া ও আধা কাপ আটার মিশ্রণ নিতে পারেন),
দুধ – ১ কাপ (লো-ফ্যাট দুধ হলে আরও ভালো),
পানি – প্রয়োজন অনুযায়ী,
লবণ – এক চিমটি (ঐচ্ছিক, স্বাদের ভারসাম্যের জন্য)।
পুর বা ভেতরের অংশের জন্য:
নারিকেল কোরানো – ১ কাপ,
খেজুরের গুড় – আধা কাপ (ডায়াবেটিস বা ক্যালরি নিয়ন্ত্রণে চাইলে কম নিতে পারেন),
এলাচ গুঁড়া – সামান্য (স্বাদ ও সুগন্ধের জন্য)।
এই উপকরণগুলোতে কোনো তেল বা ঘি নেই, ফলে এটি কম ক্যালরির পাশাপাশি হৃদ্যন্ত্র ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। চাইলে দুধের বদলে সয়ামিল্ক বা বাদাম দুধ ব্যবহার করে আরও হেলদি ভার্সন তৈরি করা যায়।
তেল ছাড়াই পাটিসাপটা পিঠা তৈরির ধাপসমূহ
তেল ছাড়াই পাটিসাপটা পিঠা বানানোর পদ্ধতি খুবই সহজ, তবে ধাপে ধাপে ঠিকভাবে করলে পিঠা নরম ও সুস্বাদু হয়। নিচে বিস্তারিতভাবে প্রতিটি ধাপ তুলে ধরা হলো, যাতে নতুনরাও সহজে অনুসরণ করতে পারেন।
ধাপ ১: খামির তৈরি
প্রথমে একটি পরিষ্কার পাত্রে চালের গুঁড়া নিন। এতে ধীরে ধীরে দুধ ও পানি যোগ করে ভালোভাবে মেশান। খেয়াল রাখবেন যেন কোনো দানা না থাকে। ব্যাটারটি পিঠার মতো পাতলা হবে, আবার খুব বেশি পাতলাও নয়। প্রয়োজনে এক চিমটি লবণ যোগ করতে পারেন।
ধাপ ২: পুর প্রস্তুত করা
চুলায় একটি নন-স্টিক প্যান বা কড়াই বসান। এতে কোরানো নারিকেল ও খেজুরের গুড় দিন। কম আঁচে নাড়তে থাকুন, যতক্ষণ না গুড় গলে নারিকেলের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যায়। শেষে সামান্য এলাচ গুঁড়া ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। এই পুর সম্পূর্ণ তেল ছাড়া তৈরি।
ধাপ ৩: পিঠা তৈরি
নন-স্টিক তাও বা প্যান মাঝারি আঁচে গরম করুন। কোনো তেল বা ঘি ব্যবহার করবেন না। প্যান গরম হলে এক হাতা ব্যাটার ঢেলে গোল করে ছড়িয়ে দিন, ঠিক যেমন ক্রেপ বা ডোসা বানানো হয়। ঢেকে ৩০–৪০ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন।
ধাপ ৪: পুর দেওয়া ও ভাঁজ করা
পিঠার এক পাশে নারিকেল-গুড়ের পুর দিন। তারপর সাবধানে পিঠাটি রোল বা ভাঁজ করে নিন। আবার ঢেকে ২০–৩০ সেকেন্ড রাখুন, যেন পিঠা ভেতর থেকে নরম থাকে।
ধাপ ৫: পরিবেশন
এভাবে একে একে সব পাটিসাপটা তৈরি করুন। গরম গরম পরিবেশন করুন। চাইলে উপর থেকে অল্প গুড় গুঁড়া ছিটিয়ে নিতে পারেন, কিন্তু অতিরিক্ত কিছু যোগ না করাই ভালো।
এই পদ্ধতিতে তৈরি তেল ছাড়াই পাটিসাপটা পিঠা স্বাদে যেমন দারুণ, তেমনি এটি কম ক্যালরি ও হজমে সহজ। যারা ডায়েট করছেন, ডায়াবেটিস বা হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে চান, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ শীতকালীন পিঠা।
সঠিক উপকরণ ও ধাপ অনুসরণ করলে ঘরেই সহজে আপনি তৈরি করতে পারবেন স্বাস্থ্যকর, তেলমুক্ত ও সুস্বাদু পাটিসাপটা পিঠা। নিয়মিত ভাজা পিঠার বদলে এই রেসিপি বেছে নিলে পরিবারও পাবে স্বাদ ও পুষ্টির সেরা সমন্বয়।
কম ক্যালরিতে রাখার বিশেষ টিপস
তেল ছাড়াই পাটিসাপটা পিঠাকে সত্যিকার অর্থে কম ক্যালরির ও স্বাস্থ্যকর রাখতে হলে শুধু তেল বাদ দিলেই যথেষ্ট নয়; উপকরণ নির্বাচন, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং রান্নার কৌশলেও সচেতন হতে হয়। প্রথমত, চালের গুঁড়ার পরিমাণ কমিয়ে আধা অংশ আটার সঙ্গে মিশিয়ে নিলে ক্যালরি কিছুটা কমে এবং পিঠা হালকা থাকে। চাইলে সম্পূর্ণ আটার বদলে ওটস পাউডার বা ব্রাউন রাইস পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ফাইবার সমৃদ্ধ ও হজমে সহায়ক। দুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ফুল-ফ্যাট দুধের বদলে লো-ফ্যাট দুধ বা স্কিমড মিল্ক ব্যবহার করলে মোট ক্যালরি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
পুর তৈরির সময় খেজুরের গুড়ই সবচেয়ে ভালো বিকল্প, কারণ এটি প্রাকৃতিক মিষ্টি এবং চিনি তুলনায় তুলনামূলক কম ক্ষতিকর। তবে অতিরিক্ত গুড় দিলে ক্যালরি বেড়ে যাবে, তাই পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। অনেকেই স্বাদ বাড়ানোর জন্য চিনি বা মিষ্টি সিরাপ যোগ করেন, যা একেবারেই পরিহার করা উচিত। চাইলে গুড়ের পরিমাণ কমিয়ে সামান্য দারুচিনি বা এলাচ ব্যবহার করে প্রাকৃতিক সুগন্ধ ও স্বাদ বাড়ানো যায়। নারিকেলের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ব্যবহার না করে মাঝারি পরিমাণ রাখাই ভালো, কারণ নারিকেলে প্রাকৃতিক ফ্যাট থাকে।
রান্নার পদ্ধতিতেও ক্যালরি কমানোর বড় সুযোগ আছে। নন-স্টিক প্যান বা তাও ব্যবহার করলে আলাদা করে তেল বা ঘি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। অনেকেই “এক ফোঁটা তেল দিলেই সমস্যা নেই” ভাবেন, কিন্তু নিয়মিত খাওয়ার ক্ষেত্রে সেই এক ফোঁটাও ধীরে ধীরে ক্যালরি বাড়ায়। প্যান ভালোভাবে গরম করে ব্যাটার ঢাললে পিঠা সহজেই উঠবে এবং লেগে যাবে না। ব্যাটার খুব বেশি ঘন না রেখে হালকা পাতলা রাখলে পিঠা নরম হয় এবং অতিরিক্ত ক্যালরিও যোগ হয় না।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস হলো পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ। কম ক্যালরির পিঠা হলেও অতিরিক্ত খেলে ডায়েটের লক্ষ্য পূরণ হবে না। তাই এক বেলায় ১–২টি পিঠাই যথেষ্ট। চাইলে পিঠার সঙ্গে মিষ্টি চা বা চিনিযুক্ত পানীয় না খেয়ে লেবু পানি বা গ্রিন টি গ্রহণ করতে পারেন। এতে শরীর সতেজ থাকবে এবং অতিরিক্ত ক্যালরি যুক্ত হবে না। এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো মেনে চললে তেল ছাড়াই পাটিসাপটা পিঠা সত্যিকার অর্থেই ডায়েট-ফ্রেন্ডলি হয়ে উঠবে।
সাধারণ ভুল ও সমাধান
তেল ছাড়াই পাটিসাপটা পিঠা বানাতে গিয়ে অনেকেই কিছু সাধারণ ভুল করে থাকেন, যার ফলে পিঠার স্বাদ ও গঠন নষ্ট হয়ে যায়। সবচেয়ে বড় ভুল হলো ব্যাটারের সঠিক ঘনত্ব না রাখা। ব্যাটার যদি খুব বেশি ঘন হয়, তাহলে পিঠা শক্ত ও মোটা হয়ে যায়; আবার খুব পাতলা হলে পিঠা ভেঙে যেতে পারে। এর সমাধান হলো ব্যাটার তৈরি করে ১০–১৫ মিনিট রেখে দেওয়া এবং প্রয়োজনে অল্প অল্প পানি বা দুধ যোগ করে মাঝামাঝি ঘনত্বে আনা।
আরেকটি সাধারণ ভুল হলো নন-স্টিক প্যান ব্যবহার না করা বা প্যান ঠিকমতো গরম না করা। এতে পিঠা প্যানে লেগে যায় এবং ছিঁড়ে যেতে পারে। অনেকেই তখন সমস্যার সমাধান হিসেবে তেল যোগ করেন, যা এই রেসিপির মূল উদ্দেশ্য নষ্ট করে দেয়। এর পরিবর্তে ভালো মানের নন-স্টিক প্যান ব্যবহার করা এবং ব্যাটার ঢালার আগে প্যান মাঝারি আঁচে ভালোভাবে গরম করাই সঠিক সমাধান।
পুর তৈরির সময় অতিরিক্ত গুড় বা নারিকেল দেওয়া আরেকটি বড় ভুল। এতে পিঠা অতিরিক্ত মিষ্টি ও ভারী হয়ে যায়, পাশাপাশি ক্যালরিও বেড়ে যায়। সমাধান হিসেবে পুরের উপকরণগুলো মাপা পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত এবং কম আঁচে রান্না করে গুড় ভালোভাবে গলানো দরকার। অনেক সময় পুর বেশি ভেজা হয়ে গেলে পিঠা ভাঁজ করার সময় ছড়িয়ে পড়ে; এই সমস্যা এড়াতে পুর কিছুটা শুকনো করে নেওয়া ভালো।
অনেকেই পিঠা ঢেকে না রেখে রান্না করেন, ফলে পিঠা উপরে থেকে কাঁচা থেকে যায়। এতে পরে ভাঁজ করার সময় পিঠা ভেঙে যেতে পারে। এর সমাধান হলো ব্যাটার ঢালার পর প্যান ঢেকে ৩০–৪০ সেকেন্ড অপেক্ষা করা, যাতে ভাপের মাধ্যমে পিঠা সমানভাবে সেদ্ধ হয়। আবার অতিরিক্ত সময় ঢেকে রাখলেও পিঠা শুকিয়ে যেতে পারে, তাই সময়ের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
সবশেষে, সবচেয়ে বড় ভুল হলো “তেল ছাড়াই পিঠা মানেই স্বাদ কম” এমন ধারণা পোষণ করা। এই মানসিকতা থেকে অনেকে পরে অতিরিক্ত গুড় বা চিনি যোগ করেন। বাস্তবে সঠিক উপকরণ ও পদ্ধতি অনুসরণ করলে তেল ছাড়াও পাটিসাপটা পিঠা দারুণ স্বাদযুক্ত হয়। তাই ধৈর্য ধরে রেসিপি অনুসরণ করা, উপকরণের পরিমাণ ঠিক রাখা এবং ছোট ভুলগুলো এড়িয়ে চলাই হলো নিখুঁত, কম ক্যালরির ও স্বাস্থ্যকর পাটিসাপটা পিঠা তৈরির আসল সমাধান।
সাধারণ ভুল ও সমাধান
তেল ছাড়াই পাটিসাপটা পিঠা বানাতে গিয়ে অনেকেই কিছু সাধারণ ভুল করেন, যার কারণে পিঠার স্বাদ, গঠন বা পুষ্টিগুণ ঠিকভাবে পাওয়া যায় না। সবচেয়ে সাধারণ ভুল হলো ব্যাটার অতিরিক্ত পাতলা বা ঘন করা। ব্যাটার খুব পাতলা হলে পিঠা ছিঁড়ে যায় এবং খুব ঘন হলে পিঠা শক্ত ও রাবারের মতো হয়ে যায়। সমাধান হিসেবে চালের গুঁড়া ও দুধ/পানির অনুপাত ঠিক রাখতে হবে এবং ব্যাটার ঢালার আগে ভালোভাবে নেড়ে নিতে হবে।
আরেকটি বড় ভুল হলো নন-স্টিক প্যান যথেষ্ট গরম না করা। প্যান ঠিকমতো গরম না হলে পিঠা আটকে যায় বা সুন্দরভাবে ছড়ায় না। আবার অতিরিক্ত গরম প্যানেও সমস্যা হয়—পিঠা দ্রুত পুড়ে যেতে পারে। মাঝারি আঁচে প্যান গরম করে তারপর ব্যাটার ঢালাই সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি।
অনেকে তেল না ব্যবহার করার নামে প্যান একেবারেই শুকনো রাখেন, যার ফলে পিঠা লেগে যায়। বাস্তবে তেল ছাড়াই রান্না মানে একেবারে শুষ্ক নয়—প্যান পরিষ্কার ও ভালো মানের নন-স্টিক হলে সমস্যা হয় না। প্রয়োজনে খুব অল্প পানি দিয়ে প্যান মুছে নেওয়া যেতে পারে।
পুর বা নারকেলের ভেতরের মিশ্রণে অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার করাও একটি সাধারণ ভুল। এতে ক্যালরি বেড়ে যায় এবং স্বাস্থ্যবান্ধব উদ্দেশ্য নষ্ট হয়। এর সমাধান হলো খেজুরের গুঁড়া, গুড় বা অল্প পরিমাণ প্রাকৃতিক মিষ্টি ব্যবহার করা।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
প্রশ্ন: তেল ছাড়াই পাটিসাপটা পিঠা কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর?
উত্তর: হ্যাঁ। তেল ছাড়া রান্না করলে ক্যালরি ও ফ্যাট অনেক কমে যায়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণ ও হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
প্রশ্ন: ডায়াবেটিস রোগীরা কি এই পিঠা খেতে পারবেন?
উত্তর: পরিমিত পরিমাণে এবং চিনি ছাড়া বা কম মিষ্টিতে তৈরি করলে ডায়াবেটিস রোগীরাও এটি খেতে পারেন। তবে ব্যক্তিগত ডায়েট অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
প্রশ্ন: পিঠা কি ফ্রিজে রেখে পরে খাওয়া যাবে?
উত্তর: সম্ভব হলেও তাজা অবস্থায় খাওয়াই উত্তম। ফ্রিজে রাখলে স্বাদ ও নরমভাব কিছুটা কমে যেতে পারে।
প্রশ্ন: চালের গুঁড়ার বদলে অন্য কিছু ব্যবহার করা যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, চাইলে ওটস পাউডার বা আটা ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে স্বাদ ও টেক্সচার কিছুটা ভিন্ন হবে।
প্রশ্ন: শিশুদের জন্য কি এটি উপযোগী?
উত্তর: অবশ্যই। তেল ছাড়া হওয়ায় এটি শিশুদের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাবার।
উপসংহার
তেল ছাড়াই কম ক্যালরির পাটিসাপটা পিঠা আধুনিক স্বাস্থ্যসচেতন জীবনের সাথে দারুণভাবে মানিয়ে যায়। সঠিক উপকরণ, সঠিক ব্যাটার ও রান্নার পদ্ধতি অনুসরণ করলে তেল ছাড়াও পিঠা হতে পারে নরম, সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর। বিশেষ করে যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, ডায়েট করছেন বা হৃদ্স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন—তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার বিকল্প।
এই পদ্ধতিতে তৈরি পিঠা শুধু স্বাস্থ্যকরই নয়, বরং ঐতিহ্যবাহী স্বাদের সাথে আধুনিক জীবনধারার একটি সুন্দর সমন্বয়। সাধারণ কিছু ভুল এড়িয়ে চললে এবং ছোট ছোট টিপস মেনে চললে ঘরেই সহজে পারফেক্ট তেল ছাড়া পাটিসাপটা পিঠা তৈরি করা সম্ভব।
সবশেষে বলা যায়, খাবার সুস্বাদু হওয়ার পাশাপাশি যদি স্বাস্থ্যকরও হয়—তাহলেই সেটি সত্যিকারের সাফল্য। তাই আজই চেষ্টা করে দেখুন তেল ছাড়াই পাটিসাপটা পিঠা, আর উপভোগ করুন স্বাদ ও সুস্থতার মেলবন্ধন।

.png)
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url