OrdinaryITPostAd

কম্পিউটারের গতি বাড়াতে ৫টি প্রো-লেভেল টিপস: পুরনো পিসি চলবে নতুনের মতো।

সময় গড়ানোর সাথে সাথে অনেক কম্পিউটার ধীরে চলতে শুরু করে— অফিসের কাজ, পড়াশোনা কিংবা সাধারণ ব্রাউজিং করতেও বিরক্তি লাগে। কিন্তু নতুন পিসি কেনা সব সময় সবার পক্ষে সম্ভব হয় না।

ভালো খবর হলো, কিছু প্রো-লেভেল সেটিংস ও স্মার্ট টুইক ব্যবহার করলে পুরনো কম্পিউটারকেও নতুনের মতো দ্রুত ও স্মুথ করা সম্ভব—তাও কোনো বাড়তি খরচ ছাড়াই।

👉 এই গাইডে আমরা দেখাবো কম্পিউটারের গতি বাড়ানোর ৫টি কার্যকর ও পরীক্ষিত টিপস, যেগুলো প্রয়োগ করলে আপনার পুরনো পিসিও আবার আগের মতো দ্রুত হয়ে উঠবে। তাই পুরো পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

ভূমিকা

বর্তমান ডিজিটাল যুগে কম্পিউটার আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ। পড়াশোনা, অফিসের কাজ, ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন ব্যবসা কিংবা বিনোদন—সব ক্ষেত্রেই আমরা কম্পিউটারের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, কিছুদিন ব্যবহার করার পর কম্পিউটার আগের মতো দ্রুত কাজ করে না, বারবার হ্যাং হয় বা সফটওয়্যার খুলতে দেরি করে। এই ধীরগতির কারণে কাজের সময় নষ্ট হয় এবং মানসিক চাপও বেড়ে যায়।

অনেক ব্যবহারকারী মনে করেন, কম্পিউটার ধীর হয়ে গেলে নতুন পিসি কিনে ফেলাই একমাত্র সমাধান। বাস্তবে বিষয়টি মোটেও এমন নয়। সঠিক কিছু সেটিংস ও অপ্টিমাইজেশনের মাধ্যমে পুরোনো বা কম কনফিগারেশনের কম্পিউটারকেও অনেক দ্রুত করা সম্ভব। বিশেষ করে যারা বাজেট সমস্যার কারণে নতুন কম্পিউটার কিনতে পারছেন না, তাদের জন্য এই বিষয়গুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই পোস্টে আমরা ধাপে ধাপে জানবো—কম্পিউটার ধীর হয়ে যাওয়ার প্রধান কারণগুলো কী এবং কীভাবে সহজ কিছু প্রো-লেভেল টিপস ব্যবহার করে কম্পিউটারের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো যায়। আপনি যদি একজন সাধারণ ব্যবহারকারী কিংবা নতুন ফ্রিল্যান্সার হয়ে থাকেন, তাহলে এই গাইডটি আপনার জন্য বিশেষভাবে উপকারী হবে।

কম্পিউটার ধীর হয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ

কম্পিউটার ধীর হয়ে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। অনেক সময় আমরা নিজেরাই অজান্তে এমন কিছু ভুল করি, যার ফলে সিস্টেমের পারফরম্যান্স কমে যায়। এই কারণগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে সমস্যার সমাধান করাও সহজ হয়।

অতিরিক্ত স্টার্টআপ প্রোগ্রাম
কম্পিউটার চালু হওয়ার সাথে সাথে অনেক সফটওয়্যার অটোমেটিকভাবে চালু হয়ে যায়। এগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে এবং র‍্যাম ও প্রসেসরের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। ফলে কম্পিউটার চালু হতে সময় লাগে এবং শুরু থেকেই ধীর অনুভূত হয়।

র‍্যামের স্বল্পতা
বর্তমান সময়ে ব্রাউজার, ভিডিও প্লেয়ার ও অন্যান্য সফটওয়্যার অনেক বেশি র‍্যাম ব্যবহার করে। যদি আপনার কম্পিউটারে পর্যাপ্ত র‍্যাম না থাকে, তাহলে একাধিক কাজ একসাথে করার সময় সিস্টেম স্লো হয়ে যাবে।

হার্ডডিস্কে অতিরিক্ত জাঙ্ক ফাইল
অপ্রয়োজনীয় ফাইল, টেম্পোরারি ডেটা ও ক্যাশ জমে গেলে হার্ডডিস্কের গতি কমে যায়। এতে সফটওয়্যার লোড হতে দেরি করে এবং পুরো সিস্টেমে প্রভাব পড়ে।

ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার
ভাইরাস বা ক্ষতিকর সফটওয়্যার কম্পিউটারের ব্যাকগ্রাউন্ডে লুকিয়ে থেকে রিসোর্স ব্যবহার করে। অনেক সময় ব্যবহারকারী বুঝতেও পারেন না যে ভাইরাসের কারণেই পিসি ধীর হয়ে গেছে।

পুরোনো সফটওয়্যার ও ড্রাইভার
অপারেটিং সিস্টেম বা ড্রাইভার আপডেট না থাকলে কম্পিউটার ঠিকভাবে হার্ডওয়্যারের ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে না। এর ফলে পারফরম্যান্স কমে যায়।

টিপস–১: অপ্রয়োজনীয় স্টার্টআপ প্রোগ্রাম বন্ধ করুন

কম্পিউটারের গতি বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর এবং সহজ উপায় হলো অপ্রয়োজনীয় স্টার্টআপ প্রোগ্রাম বন্ধ করা। অনেক সফটওয়্যার ইনস্টল করার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্টার্টআপে যুক্ত হয়ে যায়, যা আমরা সচরাচর লক্ষ্য করি না।

স্টার্টআপ প্রোগ্রামগুলো মূলত কম্পিউটার চালু হওয়ার সাথে সাথে ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু হয়। ফলে বুট টাইম বেড়ে যায় এবং র‍্যামের একটি বড় অংশ শুরুতেই ব্যবহার হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে পুরো সিস্টেমের উপর।

কেন স্টার্টআপ প্রোগ্রাম বন্ধ করা জরুরি?
যেসব সফটওয়্যার আপনি প্রতিদিন ব্যবহার করেন না, সেগুলো স্টার্টআপে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। এগুলো বন্ধ করলে কম্পিউটার দ্রুত চালু হবে এবং কাজ করার সময় আগের তুলনায় অনেক স্মুথ অনুভূত হবে।

Windows কম্পিউটারে স্টার্টআপ প্রোগ্রাম বন্ধ করার উপায়
প্রথমে কিবোর্ড থেকে Ctrl + Shift + Esc চাপুন। এতে Task Manager ওপেন হবে। এরপর উপরের Startup ট্যাবে ক্লিক করুন। এখানে আপনি সব স্টার্টআপ প্রোগ্রামের তালিকা দেখতে পাবেন।

যেসব সফটওয়্যারের প্রয়োজন খুব কম বা একেবারেই নেই, সেগুলোর উপর রাইট ক্লিক করে Disable অপশন নির্বাচন করুন। বিশেষ করে মিডিয়া প্লেয়ার, আপডেটার টুল, গেম লঞ্চার বা অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার বন্ধ করাই ভালো।

কোন প্রোগ্রাম বন্ধ করবেন না?
অ্যান্টিভাইরাস, সিস্টেম ড্রাইভার বা গুরুত্বপূর্ণ উইন্ডোজ সার্ভিস কখনোই বন্ধ করবেন না। এগুলো বন্ধ করলে সিস্টেমে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

স্টার্টআপ প্রোগ্রাম বন্ধ করার পর কম্পিউটার রিস্টার্ট করুন। আপনি নিজেই পার্থক্য বুঝতে পারবেন—পিসি আগের তুলনায় দ্রুত চালু হচ্ছে এবং কাজের সময় কম হ্যাং করছে।

এই ছোট কিন্তু কার্যকর টিপসটি অনুসরণ করলেই অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো কম্পিউটারও নতুনের মতো দ্রুত কাজ করতে শুরু করে। পরবর্তী টিপসগুলো অনুসরণ করলে পারফরম্যান্স আরও উন্নত করা সম্ভব।

টিপস–২: হার্ডডিস্ক পরিষ্কার ও স্টোরেজ অপটিমাইজেশন

কম্পিউটার ধীর হয়ে যাওয়ার একটি বড় কারণ হলো হার্ডডিস্কে অপ্রয়োজনীয় ফাইল জমে যাওয়া। আমরা প্রতিদিন ইন্টারনেট ব্রাউজ করি, বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করি এবং ফাইল ডাউনলোড করি। এই কাজগুলোর ফলে টেম্পোরারি ফাইল, ক্যাশ ডেটা ও জাঙ্ক ফাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্টোরেজে জমা হয়, যা সময়ের সাথে সাথে কম্পিউটারের পারফরম্যান্স কমিয়ে দেয়।

হার্ডডিস্কে জায়গা কমে গেলে অপারেটিং সিস্টেম ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। বিশেষ করে Windows অপারেটিং সিস্টেম কিছু ফ্রি স্পেস ব্যবহার করে ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস চালায়। যখন সেই ফাঁকা জায়গা কমে যায়, তখন সফটওয়্যার লোড হতে দেরি করে এবং কম্পিউটার স্লো হয়ে যায়।

Disk Cleanup ব্যবহার করে অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে ফেলুন
Windows-এ বিল্ট-ইন Disk Cleanup টুল রয়েছে, যা দিয়ে সহজেই জাঙ্ক ফাইল ডিলিট করা যায়। Start মেনুতে গিয়ে Disk Cleanup লিখে সার্চ করুন। এরপর যে ড্রাইভটি পরিষ্কার করতে চান সেটি নির্বাচন করুন।

স্ক্যান শেষ হলে আপনি Temporary files, Recycle Bin, System cache ইত্যাদির তালিকা দেখতে পাবেন। প্রয়োজন নেই এমন অপশনগুলো টিক চিহ্ন দিয়ে OK চাপুন। এতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই অনেক অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে যাবে।

অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আনইনস্টল করুন
অনেক সময় আমরা এমন সফটওয়্যার ইনস্টল করে রাখি যেগুলো আর ব্যবহার করা হয় না। এই সফটওয়্যারগুলো শুধু জায়গাই নেয় না, অনেক ক্ষেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলেও রিসোর্স ব্যবহার করে। Control Panel থেকে Programs & Features অপশনে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আনইনস্টল করুন।

বড় ফাইল আলাদা করে রাখুন
ভিডিও, গেম বা বড় আকারের ফাইল যদি C Drive-এ থাকে, তাহলে সিস্টেম ধীর হতে পারে। চেষ্টা করুন এসব ফাইল আলাদা ড্রাইভ বা এক্সটার্নাল স্টোরেজে রাখার। এতে Windows দ্রুত কাজ করবে।

হার্ডডিস্ক নিয়মিত পরিষ্কার ও সঠিকভাবে স্টোরেজ ম্যানেজ করলে কম্পিউটার অনেকটাই হালকা অনুভূত হবে এবং দৈনন্দিন কাজের গতি বাড়বে।

টিপস–৩: RAM ও ভার্চুয়াল মেমোরি সঠিকভাবে সেট করা

RAM হলো কম্পিউটারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি, যা সরাসরি পারফরম্যান্সের উপর প্রভাব ফেলে। আপনার কম্পিউটারে যত বেশি র‍্যাম থাকবে, একসাথে তত বেশি কাজ স্মুথভাবে করা সম্ভব হবে। কিন্তু র‍্যাম কম হলে সিস্টেম ধীর হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক।

যেসব কম্পিউটারে র‍্যাম সীমিত, সেখানে Windows স্বয়ংক্রিয়ভাবে হার্ডডিস্কের একটি অংশকে ভার্চুয়াল মেমোরি হিসেবে ব্যবহার করে। একে বলা হয় Virtual Memory বা Page File। এটি সঠিকভাবে সেট করা না থাকলে কম্পিউটার আরও বেশি স্লো হয়ে যায়।

বর্তমান RAM ব্যবহারের অবস্থা যাচাই করুন
Task Manager খুলে Performance ট্যাবে গেলে RAM usage দেখতে পারবেন। যদি দেখেন প্রায় সবসময় র‍্যাম ৮০–৯০% ব্যবহার হচ্ছে, তাহলে বুঝতে হবে অপ্টিমাইজেশন দরকার।

Virtual Memory সেট করার সঠিক পদ্ধতি
প্রথমে This PC-এর উপর রাইট ক্লিক করে Properties এ যান। এরপর Advanced system settings ক্লিক করুন। Advanced ট্যাব থেকে Performance > Settings নির্বাচন করুন।

এখন আবার Advanced ট্যাবে গিয়ে Virtual Memory অপশনের Change বাটনে ক্লিক করুন। এখানে “Automatically manage paging file size” অপশনটি আনচেক করুন।

Initial size এবং Maximum size আপনার র‍্যামের উপর নির্ভর করে সেট করুন। সাধারণভাবে বলা যায়, র‍্যামের ১.৫ থেকে ২ গুণ ভার্চুয়াল মেমোরি সেট করলে ভালো পারফরম্যান্স পাওয়া যায়। সেটিংস সেভ করে কম্পিউটার রিস্টার্ট দিন।

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ রাখুন
একসাথে অনেক অ্যাপ চালালে র‍্যাম দ্রুত ভরে যায়। কাজ শেষে ব্রাউজার ট্যাব, ভিডিও প্লেয়ার বা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

সঠিকভাবে র‍্যাম ব্যবহার ও ভার্চুয়াল মেমোরি কনফিগার করলে কম র‍্যামের কম্পিউটারও আগের তুলনায় অনেক দ্রুত ও স্থিতিশীলভাবে কাজ করবে। এই টিপসটি বিশেষ করে পুরোনো পিসি ব্যবহারকারীদের জন্য খুবই কার্যকর।

টিপস–৪: পুরনো সফটওয়্যার ও ড্রাইভার আপডেট করুন

অনেক ব্যবহারকারী কম্পিউটার ধীর হয়ে গেলে সরাসরি হার্ডওয়্যারকে দোষ দেন, কিন্তু বাস্তবে পুরনো সফটওয়্যার ও আউটডেটেড ড্রাইভারও বড় একটি কারণ। সময়ের সাথে সাথে অপারেটিং সিস্টেম, গ্রাফিক্স ড্রাইভার, সাউন্ড ড্রাইভার কিংবা নেটওয়ার্ক ড্রাইভার আপডেট না করলে সিস্টেমের পারফরম্যান্স কমে যায় এবং নানা ধরনের বাগ বা ল্যাগ দেখা দেয়।

ড্রাইভার হলো হার্ডওয়্যার ও অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে সেতুবন্ধন। যদি এই ড্রাইভার পুরনো হয়, তাহলে আপনার প্রসেসর, র‍্যাম বা গ্রাফিক্স কার্ডের পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। ফলে একই হার্ডওয়্যার থাকা সত্ত্বেও কম্পিউটার আগের চেয়ে ধীর মনে হয়।

Windows Update নিয়মিত চালু রাখুন
Windows অপারেটিং সিস্টেমে ডিফল্টভাবেই ড্রাইভার ও সিকিউরিটি আপডেট আসে। Settings → Windows Update-এ গিয়ে নিয়মিত আপডেট চেক করুন। এতে প্রয়োজনীয় ড্রাইভার ও পারফরম্যান্স উন্নয়ন সংক্রান্ত আপডেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইন্সটল হবে।

গ্রাফিক্স ও চিপসেট ড্রাইভার আলাদাভাবে আপডেট করুন
বিশেষ করে Intel, AMD বা NVIDIA গ্রাফিক্স ড্রাইভার পুরনো হলে পিসি অনেক ধীর হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ ড্রাইভার ডাউনলোড করে ইন্সটল করলে ভিডিও, গেম ও ডিজাইন কাজের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।

অপ্রয়োজনীয় ও পুরনো সফটওয়্যার মুছে ফেলুন
যেসব সফটওয়্যার বহুদিন ব্যবহার করা হয় না, সেগুলো শুধু জায়গাই নেয় না বরং ব্যাকগ্রাউন্ডে চলেও রিসোর্স নষ্ট করে। পুরনো মিডিয়া প্লেয়ার, ট্রায়াল সফটওয়্যার বা অপ্রয়োজনীয় টুল আনইনস্টল করলে কম্পিউটার আরও স্মুথ হয়।

সঠিক সময়ে সফটওয়্যার ও ড্রাইভার আপডেট করলে পুরনো পিসিও নতুন সিস্টেমের মতো স্থিতিশীল ও দ্রুত কাজ করতে শুরু করে।

টিপস–৫: সঠিক সেটিংস ও পারফরম্যান্স টিউনিং

অনেক সময় কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ঠিক থাকার পরও ভুল সেটিংসের কারণে পারফরম্যান্স কমে যায়। Windows অপারেটিং সিস্টেমে কিছু ডিফল্ট ভিজুয়াল এফেক্ট ও ব্যাকগ্রাউন্ড ফিচার থাকে, যেগুলো দেখতে সুন্দর হলেও পুরনো পিসির জন্য ভারী হয়ে দাঁড়ায়।

Visual Effects কমিয়ে দিন
This PC → Properties → Advanced system settings → Performance → Settings-এ গিয়ে “Adjust for best performance” অপশনটি নির্বাচন করুন। এতে অপ্রয়োজনীয় অ্যানিমেশন ও গ্রাফিক্যাল এফেক্ট বন্ধ হবে এবং সিস্টেম দ্রুত রেসপন্স করবে।

Power Settings ঠিক করুন
Control Panel → Power Options থেকে “High Performance” মোড নির্বাচন করুন। অনেক সময় “Power Saver” মোড চালু থাকলে প্রসেসর তার পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করে না, ফলে কম্পিউটার ধীর হয়ে যায়।

ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ নিয়ন্ত্রণ করুন
Settings → Apps → Startup থেকে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ করুন। এতে বুট টাইম কমবে এবং র‍্যাম ও CPU কম ব্যবহার হবে।

ব্রাউজার অপ্টিমাইজ করুন
একসাথে অনেক ট্যাব খোলা রাখা, অতিরিক্ত এক্সটেনশন ব্যবহার করা ব্রাউজারকে ভারী করে তোলে। প্রয়োজন ছাড়া এক্সটেনশন বন্ধ রাখুন এবং হালকা ব্রাউজার ব্যবহার করুন।

সঠিক সেটিংস ও পারফরম্যান্স টিউনিং করলে একই হার্ডওয়্যার দিয়েই অনেক দ্রুত কাজ করা সম্ভব হয়।

পুরনো পিসিকে নতুনের মতো চালানোর অতিরিক্ত কৌশল

উপরের টিপসগুলোর পাশাপাশি কিছু অতিরিক্ত কৌশল অনুসরণ করলে পুরনো পিসির জীবন আরও দীর্ঘ করা যায়। প্রথমত, যদি সম্ভব হয় তাহলে HDD-এর পরিবর্তে SSD ব্যবহার করুন। SSD ব্যবহার করলে বুট টাইম ও সফটওয়্যার লোডিং স্পিড কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

দ্বিতীয়ত, নিয়মিত ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার স্ক্যান করুন। অনেক সময় অজান্তেই ভাইরাস ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে পিসিকে স্লো করে দেয়। একটি হালকা কিন্তু কার্যকর অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করাই যথেষ্ট।

তৃতীয়ত, র‍্যাম আপগ্রেড করার সুযোগ থাকলে তা বিবেচনা করুন। মাত্র ৪GB থেকে ৮GB র‍্যামে আপগ্রেড করলেই পারফরম্যান্সে বড় পার্থক্য দেখা যায়।

সবশেষে, নিয়মিত রিস্টার্ট দেওয়া ও অপ্রয়োজনীয় ফাইল পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এই ছোট অভ্যাসগুলোই পুরনো পিসিকে দীর্ঘদিন নতুনের মতো চালাতে সাহায্য করে।

সঠিক যত্ন, আপডেট এবং টিউনিংয়ের মাধ্যমে যেকোনো পুরনো কম্পিউটারকেই নতুনের মতো দ্রুত ও কার্যকর করে তোলা সম্ভব।

কোন ভুলগুলো করলে পিসি আরও স্লো হয়

অনেক সময় আমরা নিজের অজান্তেই এমন কিছু ভুল করি, যার ফলে ভালো কনফিগারেশনের কম্পিউটারও ধীরে কাজ করতে শুরু করে। এই ভুলগুলো নিয়মিত হলে পিসির পারফরম্যান্স দিন দিন কমে যায় এবং কাজের গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তাই পিসি দ্রুত রাখতে হলে এই সাধারণ কিন্তু ক্ষতিকর ভুলগুলো সম্পর্কে জানা খুবই জরুরি।

একসাথে অতিরিক্ত সফটওয়্যার চালানো
একই সময়ে অনেক সফটওয়্যার বা অ্যাপ খোলা রাখলে র‍্যাম ও প্রসেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। বিশেষ করে কম র‍্যামের পিসিতে এই অভ্যাস সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। প্রয়োজন ছাড়া একাধিক ব্রাউজার ট্যাব, ভিডিও প্লেয়ার বা এডিটিং সফটওয়্যার চালু রাখলে পিসি দ্রুত স্লো হয়ে যায়।

স্টার্টআপ প্রোগ্রাম নিয়ন্ত্রণ না করা
কম্পিউটার চালু হওয়ার সাথে সাথে যদি অনেক অ্যাপ অটো-স্টার্ট হয়, তাহলে বুট টাইম বেড়ে যায় এবং শুরু থেকেই পিসি ভারী লাগে। অনেক ব্যবহারকারী এই বিষয়টি অবহেলা করেন, যার ফলে পিসি ধীরে ধীরে আরও স্লো হয়ে পড়ে।

ডিস্ক পরিষ্কার না রাখা
হার্ডডিস্ক বা SSD ভর্তি হয়ে গেলে অপারেটিং সিস্টেম ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। অপ্রয়োজনীয় ফাইল, টেম্প ফাইল ও পুরনো ডাউনলোড জমে থাকলে পিসির গতি কমে যায়।

ড্রাইভার ও সফটওয়্যার আপডেট না করা
পুরনো ড্রাইভার ও আউটডেটেড সফটওয়্যার পারফরম্যান্স কমানোর পাশাপাশি সিস্টেম ক্র্যাশের কারণও হতে পারে। নিয়মিত আপডেট না করলে পিসি ধীরে ধীরে অস্থির হয়ে যায়।

ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার অবহেলা করা
অনেক সময় অজান্তেই পিসিতে ম্যালওয়্যার ঢুকে পড়ে, যা ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে রিসোর্স নষ্ট করে। নিয়মিত স্ক্যান না করলে পিসি খুব দ্রুত স্লো হয়ে যেতে পারে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)

প্রশ্ন ১: পিসি স্লো হলে কি নতুন উইন্ডোজ ইনস্টল করাই একমাত্র সমাধান?
উত্তর: না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সঠিক অপ্টিমাইজেশন, অপ্রয়োজনীয় ফাইল পরিষ্কার, স্টার্টআপ অ্যাপ বন্ধ করা ও ড্রাইভার আপডেট করলেই পিসির গতি অনেকটা বেড়ে যায়।

প্রশ্ন ২: কতদিন পরপর পিসি রিস্টার্ট দেওয়া উচিত?
উত্তর: সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সপ্তাহে অন্তত ২–৩ বার রিস্টার্ট দেওয়া ভালো। এতে ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস ক্লিয়ার হয় এবং সিস্টেম ফ্রেশ থাকে।

প্রশ্ন ৩: SSD লাগালে কি পুরনো পিসি দ্রুত হবে?
উত্তর: হ্যাঁ। SSD ব্যবহার করলে বুট টাইম, সফটওয়্যার লোডিং ও ফাইল ওপেন করার গতি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এটি পুরনো পিসির জন্য সবচেয়ে কার্যকর আপগ্রেড।

প্রশ্ন ৪: কত GB RAM হলে সাধারণ কাজের জন্য যথেষ্ট?
উত্তর: সাধারণ ব্রাউজিং ও অফিস কাজের জন্য ৮GB RAM যথেষ্ট। ৪GB RAM থাকলেও অপ্টিমাইজ করে কাজ করা যায়, তবে মাল্টিটাস্কিং সীমিত হয়।

প্রশ্ন ৫: ফ্রি ক্লিনার সফটওয়্যার ব্যবহার করা কি নিরাপদ?
উত্তর: সব ফ্রি সফটওয়্যার নিরাপদ নয়। নির্ভরযোগ্য ও জনপ্রিয় টুল ব্যবহার করা উচিত এবং অপ্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রি ক্লিনার এড়িয়ে চলাই ভালো।

উপসংহার

কম্পিউটার ধীর হয়ে যাওয়া মানেই নতুন পিসি কেনা প্রয়োজন—এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। বাস্তবে কিছু সাধারণ ভুল ও অবহেলার কারণেই অধিকাংশ পিসি স্লো হয়ে যায়। সঠিক ব্যবহার অভ্যাস, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং প্রয়োজনীয় সেটিংস ঠিক রাখলে পুরনো পিসিও দীর্ঘদিন ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারে।

স্টার্টআপ প্রোগ্রাম নিয়ন্ত্রণ, অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আনইনস্টল, নিয়মিত আপডেট ও ভাইরাস স্ক্যান—এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোই পিসির গতি ধরে রাখতে সবচেয়ে কার্যকর। পাশাপাশি হার্ডওয়্যার আপগ্রেডের সুযোগ থাকলে SSD বা অতিরিক্ত RAM যুক্ত করা পারফরম্যান্সে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, পিসি দ্রুত রাখার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সচেতন ব্যবহার। নিয়মিত যত্ন ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে আপনার কম্পিউটার অনেক দিন নতুনের মতো দ্রুত ও স্থিতিশীলভাবে কাজ করবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪