OrdinaryITPostAd

চুল পড়ার আসল কারণ কি শুধুই জেনেটিক্স? যা হরমোন ও জীবনধারা লুকিয়ে রাখে।

চুল পড়ার আসল কারণ কি শুধুই জেনেটিক্স?

আমরা অনেকেই ভাবি চুল পড়ার প্রধান কারণ শুধু বংশগত সমস্যা। কিন্তু সত্যটি আরও গভীর—হরমোন, স্ট্রেস, ঘুমের অভাব, ভিটামিন ঘাটতি, জীবনধারা এবং দৈনন্দিন ছোট ভুলগুলোও নীরবে চুলকে দুর্বল করে ফেলে। আপনি কি জানেন, জেনেটিক্স মাত্র একটি অংশ—পুরো গল্প নয়? এই আর্টিকেলে আপনি জানবেন চুল পড়ার পেছনের লুকানো কারণ, বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা এবং বাস্তব সমাধান, যা আপনার চুলের ভবিষ্যত বদলে দিতে পারে!

ভূমিকা: চুল পড়ার পেছনের সত্য—শুধুই জেনেটিক্স?

চুল পড়া একেবারে স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া হলেও যখন এটি অতিরিক্ত বেড়ে যায়, তখন উদ্বেগ বাড়তেই পারে। বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন—চুল পড়ার মূল কারণ শুধুই জেনেটিক্স বা বংশগত সমস্যা। সত্য হলো, জেনেটিক্স চুল পড়ার একটি বড় কারণ হলেও এটি একমাত্র নয়। আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, চুল পড়ার পেছনে আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর কাজ করে—যেমন হরমোনের পরিবর্তন, দৈনন্দিন জীবনধারার ভুল, স্ট্রেস, পুষ্টিহীনতা, ঘুমের অভাব এমনকি ভুল হেয়ার কেয়ার রুটিনও চুল পড়া বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

অর্থাৎ, আপনার পরিবারের কারও চুল পড়ার ইতিহাস থাকলেও সেটা আপনার ক্ষেত্রেও হুবহু একইভাবে ঘটবে—এমন নয়। আবার অনেক সময় জেনেটিক্সের কোনো ভূমিকা না থাকলেও অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা হরমোনের সমস্যা চুল পড়াকে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করতে পারে। তাই চুল পড়ার পুরো সমস্যা বুঝতে হলে শুধুমাত্র বংশগত কারণ নয়, বরং চুলের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করা সব ভেতরের ও বাইরের কারণগুলো জানা জরুরি।

এই নিবন্ধে চুল পড়ার আসল কারণগুলো বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যাতে আপনি বুঝতে পারেন আপনার কোন কারণে চুল কমছে এবং কীভাবে সঠিক যত্ন নিয়ে এ সমস্যা কমানো সম্ভব।

১. জেনেটিক্স: বংশগত কারণ কতটা প্রভাব ফেলে?

চুল পড়ার ক্ষেত্রে জেনেটিক্স বা বংশগত কারণ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে “Male Pattern Baldness” এবং নারীদের ক্ষেত্রে “Female Pattern Hair Loss”—দু’টিই মূলত জেনেটিক কারণে ঘটে থাকে। একে বলা হয় Androgenetic Alopecia। এই সমস্যায় মাথার চুল ক্রমে পাতলা হতে থাকে, সামনের হেয়ারলাইন পিছিয়ে যায় এবং মাথার মাঝখানে ঘনত্ব কমতে শুরু করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, চুলের ফলিকল কতটা সংবেদনশীল হবে, কত দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং কখন চুল পড়া শুরু হবে—এসবের ওপর জেনেটিক্স সরাসরি প্রভাব ফেলে। আপনার বাবা বা মায়ের মধ্যে কেউ যদি অল্প বয়সে চুল হারিয়ে থাকেন, তবে আপনার ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এমনও হতে পারে, পরিবারের একাধিক সদস্যের চুল পড়ার সমস্যা থাকলে আপনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—জেনেটিক প্রভাব থাকা মানেই চুল পড়া থামানো সম্ভব নয়—এমন নয়। সঠিক যত্ন, পুষ্টি, জীবনধারা এবং হরমোন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জেনেটিক চুল পড়াকেও উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর করা যায়। অনেক সময় চুল পড়ার মূল কারণটি জেনেটিক মনে হলেও আসলে তা স্ট্রেস, ঘুমের অভাব বা খাদ্যঘাটতির কারণে আরও খারাপ হয়ে ওঠে।

অর্থাৎ, জেনেটিক্স একটি ভূমিকা রাখলেও এটি পুরো সমস্যার জন্য একা দায়ী নয়। সঠিক চিকিৎসা, রুটিন এবং বৈজ্ঞানিক হেয়ার কেয়ার অনুসরণ করলে জেনেটিক চুল পড়ার ঝুঁকিও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

২. হরমোন: DHT ও অন্যান্য হরমোন কিভাবে চুল পড়া বাড়ায়

চুল পড়ার অন্যতম প্রধান বৈজ্ঞানিক কারণ হলো DHT (Dihydrotestosterone) নামের একটি শক্তিশালী হরমোন। এটি মূলত টেস্টোস্টেরন থেকে তৈরি হয় এবং শরীরের নানা কাজে যুক্ত থাকলেও চুলের ফলিকলে অতিরিক্ত DHT জমে গেলে ফলিকল ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যায়। ফলস্বরূপ, চুল পাতলা হতে থাকে, লম্বা হয় না এবং সময়ের সাথে সাথে স্বাভাবিক গ্রোথ সাইকেল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

DHT সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে মাথার সামনের ও মাঝের অংশে অবস্থিত hair follicle-কে কারণ এ অংশগুলো জেনেটিকভাবে DHT-সংবেদনশীল। এজন্যই অনেকে প্রথমে হেয়ারলাইন অথবা vertex অঞ্চলে চুল পড়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা পান। তবে শুধু DHT নয়—স্ট্রেস হরমোন করটিসল (Cortisol), থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সও চুলের বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

যখন করটিসল বেড়ে যায়, শরীর “stress mode”-এ চলে যায় এবং চুলের গ্রোথ সাইকেল অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়—ফলে Telogen Effluvium হতে পারে। আবার থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি (Hypothyroidism) বা বাড়তি মাত্রা (Hyperthyroidism) উভয় অবস্থাতেই চুল দ্রুত ঝরে পড়ে এবং নতুন চুল গজানো ধীর হয়ে যায়।

অন্যদিকে, ইনসুলিন ও ডায়াবেটিস-সম্পর্কিত হরমোনের অস্বাভাবিকতা চুলের কোষে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ কমিয়ে দেয়। ফলে চুল দুর্বল হয়ে ঝরে যায়, ঘনত্ব কমে এবং overall hair quality নষ্ট হতে থাকে।

অর্থাৎ, চুল পড়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র জেনেটিক্স বা বংশগতি নয়—DHT, করটিসল, থাইরয়েড ও ইনসুলিনের মতো হরমোনগুলোর ভারসাম্যহীনতাও বড় ভূমিকা রাখে। তাই চুল পড়ার সমস্যা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে হরমোন পরীক্ষা করানো, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

৩. জীবনধারা: কোন অভ্যাসগুলো চুল পড়াকে আরো খারাপ করে?

চুল পড়ার অন্যতম বড় কারণ ভুল জীবনধারা। আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের কিছু বিষয় চুলের গোড়া দুর্বল করে দেয় এবং ধীরে ধীরে হেয়ার ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। যেমন—অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, কম ঘুম, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত হেয়ার স্টাইলিংয়ের চাপ (স্ট্রেইটনার, হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার), এবং দূষণ। স্ট্রেস বেশি হলে শরীর থেকে কর্টিসল নামে একটি হরমোন নিঃসৃত হয় যা সরাসরি চুলের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়। নিয়মিত ঘুম না হলে স্ক্যাল্পে রক্তসঞ্চালন কমে যায়, ফলে নতুন চুল গজায় না এবং পুরোনো চুল ঝরে যায়। ধূমপান রক্তনালীর ক্ষতি করে চুলের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছাতে বাধা দেয়। এই কারণগুলো দীর্ঘ সময় চলতে থাকলে চুল পাতলা হওয়া, চুলের ভঙ্গুরতা এবং দ্রুত চুল ঝরা—সবই বেড়ে যায়। তাই সুস্থ ও ঘন চুলের জন্য স্বাস্থ্যকর জীবনধারা খুব জরুরি।

৪. পুষ্টির ঘাটতি: ভিটামিন-মিনারেল অভাবে চুল কেন দুর্বল হয়?

চুলের সুস্থ বৃদ্ধি বজায় রাখতে শরীরকে পর্যাপ্ত ভিটামিন, মিনারেল এবং প্রোটিন প্রয়োজন। যখন শরীরে আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন D, ভিটামিন B7 (বায়োটিন), ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড বা প্রোটিনের ঘাটতি দেখা দেয়—তখন চুলের স্ট্রাকচার দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে চুল ভেঙে যাওয়া, পাতলা হয়ে যাওয়া এবং অতিরিক্ত চুল ঝরা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। আয়রনের ঘাটতি হলে রক্তের মাধ্যমে চুলের গোড়ায় পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না। ভিটামিন D নতুন ফলিকল তৈরিতে সাহায্য করে, তাই এই ভিটামিনের অভাবে নতুন চুল কম গজায়। বায়োটিন চুলের মূল প্রোটিন কেরাটিনকে শক্তিশালী করে; এর ঘাটতি হলে চুল দ্রুত ঝরে যায়। এছাড়া পুষ্টির অভাব স্ক্যাল্পকে শুষ্ক করে, ফলে খুশকি বাড়ে এবং ফলিকল দুর্বল হয়ে যায়। পুষ্টিকর খাবার, সবজি, ফল, বাদাম, মাছ ও ডিম নিয়মিত খেলে এই সমস্যা অনেকটাই কমে।

৫. স্ট্রেস ও ঘুম: কর্টিসল কীভাবে চুল পড়ার ট্রিগার?

অতিরিক্ত স্ট্রেস এবং ঘুমের অভাব চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। শরীর যখন দীর্ঘ সময় মানসিক চাপের মধ্যে থাকে, তখন কর্টিসল নামে একটি হরমোন নিঃসৃত হয় যা শরীরের স্বাভাবিক হরমোন ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। কর্টিসল চুলের বৃদ্ধির (Growth Phase) সময়কাল কমিয়ে দেয় এবং চুলকে দ্রুত বিশ্রাম বা পতনের পর্যায়ে পাঠিয়ে দেয়, ফলে অল্প সময়েই অতিরিক্ত চুল পড়তে শুরু করে। ঘুম কম হলে স্ক্যাল্পে রক্তসঞ্চালন কমে যায়, ফলে চুলের গোড়া পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না এবং শুষ্কতা ও ভঙ্গুরতা বাড়ে। স্ট্রেসের কারণে শরীরে প্রদাহও বাড়ে, যা হেয়ার ফলিকলের স্বাভাবিক কার্যকারিতা নষ্ট করে। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম, মেডিটেশন, ব্যায়াম ও মানসিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা চুল পড়া কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

৬. থাইরয়েড ও অন্যান্য মেডিকেল কারণ

থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা—যেমন হাইপোথাইরয়েডিজম বা হাইপারথাইরয়েডিজম—চুল পড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল কারণ। থাইরয়েড হরমোন শরীরের মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণ করে এবং চুলের কোষ বিভাজনকে প্রভাবিত করে। যখন এই হরমোন কমে যায় বা বেড়ে যায়, তখন হেয়ার ফলিকলের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে চুল দ্রুত ঝরে পড়ে। পাশাপাশি অ্যানিমিয়া, PCOS, অটোইমিউন ডিজিজ (যেমন Alopecia Areata), ডায়াবেটিস বা দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণের মতো সমস্যাগুলোও চুল পড়া বাড়িয়ে দেয়। এসব অবস্থায় শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি চুলে পাঠাতে পারে না, ফলে নতুন চুল গজানো ধীর হয়ে যায় এবং বিদ্যমান চুল পাতলা হয়ে পড়ে। এ ধরনের মেডিকেল কারণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

৭. ভুল হেয়ার কেয়ার রুটিন: যে ভুলগুলো প্রতিদিন চুল নষ্ট করে

চুল পড়ার অন্যতম বড় কারণ হলো প্রতিদিনের ভুল হেয়ার কেয়ার অভ্যাস। অনেক সময় আমরা জানিই না যে দৈনন্দিন কিছু ভুল কাজ চুলকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে তুলছে। অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার, সালফেটযুক্ত হেয়ার প্রোডাক্ট, বারবার হেয়ার কালার বা স্ট্রেইটনিং করা, গরম পানি দিয়ে মাথা ধোয়া—এসব অভ্যাস স্ক্যাল্পের ন্যাচারাল অয়েল নষ্ট করে দেয়, ফলে চুল শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। ভেজা চুলে চিরুনি করা, টাইট করে চুল বাঁধা, রোদে চুল ঢেকে না রাখা—এসবও রুট থেকে চুল দুর্বল করে ফেলে। সঠিক শ্যাম্পু নির্বাচন, নিয়মিত তেল ম্যাসাজ, কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট কমানো, এবং হালকা হাতে চুল পরিচর্যা—এসব করলে চুল পড়া কমে ও চুলের স্বাভাবিক শক্তি ফিরে আসে।

৮. চুল পড়া বুঝবেন যেভাবে: কোন টেস্টগুলো প্রয়োজন?

চুল পড়া কখন সাধারণ এবং কখন চিকিৎসার প্রয়োজন—এটি বুঝতে সঠিক ডায়াগনসিস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন ৫০–১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক হলেও এর বেশি হলে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। প্রথমে স্ক্যাল্প পর্যবেক্ষণ, চুলের ঘনত্ব, রুট স্ট্রেংথ এবং শেডিং প্যাটার্ন দেখে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। চিকিৎসক প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা (CBC, Ferritin, Vitamin D, B12), থাইরয়েড টেস্ট (TSH, T3, T4), হরমোন টেস্ট (DHT, Testosterone), এবং প্রয়োজন হলে স্ক্যাল্প বায়োপসি করতে বলেন। এসব টেস্ট চুল পড়ার মূল কারণ—যেমন পুষ্টির ঘাটতি, হরমোনের সমস্যা, থাইরয়েড ডিসঅর্ডার বা অটোইমিউন রোগ—সঠিকভাবে শনাক্ত করতে সাহায্য করে। দ্রুত পরীক্ষা করালে চুল পড়া রোধ ও চিকিত্সা আরও কার্যকর হয়।

৯. সমাধান: চিকিৎসা, লাইফস্টাইল ও প্রাকৃতিক টিপস

চুল পড়া প্রতিরোধের জন্য প্রথমে মূল কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। সমস্যার ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা, লাইফস্টাইল পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক উপায়গুলো একসাথে অনুসরণ করলে ফল দ্রুত পাওয়া যায়। চিকিৎসার ক্ষেত্রে মিনোক্সিডিল, ফিনাস্টেরাইড, PRP থেরাপি এবং হরমোন নিয়ন্ত্রণের মেডিকেল ট্রিটমেন্ট কার্যকর হতে পারে। লাইফস্টাইলের মধ্যে পর্যাপ্ত ঘুম, স্ট্রেস কমানো, পুষ্টিকর খাবার, পানি পান, এবং নিয়মিত স্ক্যাল্প কেয়ার চুলের রুট শক্ত করে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক টিপস—যেমন নারকেল তেল, পেঁয়াজের রস, মেথি পানি, অ্যালোভেরা জেল, ভৃঙ্গরাজ তেল—স্ক্যাল্পকে পুষ্টি দেয়, রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং চুল পড়া কমতে সাহায্য করে। হঠাৎ বা অতিরিক্ত চুল পড়া হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেষ্ঠ সমাধান।

FAQs: চুল পড়া নিয়ে সাধারণ প্রশ্নোত্তর

১. প্রতিদিন কত চুল পড়া স্বাভাবিক?
সাধারণত প্রতিদিন ৫০–১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক। এর বেশি হলে সেটি অস্বাভাবিক চুল পড়ার লক্ষণ হতে পারে।

২. শ্যাম্পু কি চুল পড়ার কারণ?
সালফেটযুক্ত শ্যাম্পু স্ক্যাল্পকে শুষ্ক করে চুল ভাঙা বাড়াতে পারে। তাই মাইল্ড ও প্যারাবেন-ফ্রি শ্যাম্পু ব্যবহার করা ভালো।

৩. তেল দিলে কি চুল পড়া কমে?
হ্যাঁ, নিয়মিত তেল ম্যাসাজ রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, রুটকে পুষ্টি দেয় এবং চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে।

৪. স্ট্রেস কি সত্যিই চুল পড়ার কারণ?
হ্যাঁ, স্ট্রেস কর্টিসল হরমোন বাড়ায় যা চুলের গ্রোথ সাইকেলকে ব্যাহত করে এবং চুল পড়া বাড়ায়।

৫. কোন ভিটামিনগুলো চুলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
ভিটামিন D, B12, আয়রন, জিঙ্ক, ওমেগা-৩ এবং প্রোটিন চুলের শক্তি ও বৃদ্ধি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।

৬. চুল পড়া কি পুরোপুরি বন্ধ করা যায়?
সমস্যার কারণ অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব, তবে জেনেটিক চুল পড়া পুরোপুরি থামানো না গেলেও চিকিৎসার মাধ্যমে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

৭. PRP থেরাপি কি কার্যকর?
হ্যাঁ, অনেকের ক্ষেত্রে PRP নতুন চুল গজাতে ও রুট শক্ত করতে সাহায্য করে, তবে ফলাফল ব্যক্তিভেদে ভিন্ন।

৮. বাড়িতে কোন প্রাকৃতিক উপায় সবচেয়ে কার্যকর?
পেঁয়াজ রস, নারকেল তেল, অ্যালোভেরা, মেথি, রোজমেরি তেল—এগুলো চুলের রুট শক্ত করে এবং চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে।

উপসংহার: চুল পড়া থামাতে কী বুঝতে হবে প্রথমে?

চুল পড়া থামানোর প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো এর মূল কারণটি সঠিকভাবে চিহ্নিত করা। অনেকেই ধারণা করেন চুল পড়া মানেই জেনেটিক সমস্যা, কিন্তু বাস্তবে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, স্ট্রেস, ঘুমের অভাব, ভিটামিন ঘাটতি, থাইরয়েড, অসুস্থ লাইফস্টাইল এবং ভুল হেয়ার কেয়ার রুটিন—এসব একসাথে বা আলাদাভাবে চুল পড়া বাড়াতে পারে। তাই সমাধান পেতে হলে শুধু বাহ্যিক ট্রিটমেন্ট বা প্রচলিত ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করলেই হবে না, বরং শরীর, হরমোন, পুষ্টি এবং জীবনধারা—সবকিছুর মধ্যে যে সম্পর্ক আছে তা বুঝতে হবে। যখন আপনি সমস্যার উৎস খুঁজে পাওয়া শুরু করবেন, তখনই সঠিক চিকিৎসা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত তেল বা ট্রিটমেন্ট দ্রুত ফল দিতে শুরু করবে। মনে রাখতে হবে, চুল পড়া রাতারাতি বন্ধ হয় না; নিয়মিত যত্ন, ধারাবাহিকতা এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ—এই তিনটি মিলেই চুলকে আবার শক্ত ও ঘন করতে সাহায্য করে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪