OrdinaryITPostAd

চুল ঘন করার জন্য ডিমের প্রোটিন ট্রিটমেন্ট কতটা বৈজ্ঞানিক?

চুল ঘন করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে ডিমের প্রোটিন ট্রিটমেন্ট অনেকেই ব্যবহার করেন। কিন্তু এটি কতটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত? ডার্মাটোলজিস্টরা কি বলেন? আজকের এই গাইডে আপনি পাবেন ডিমের প্রোটিন ট্রিটমেন্টের কার্যকারিতা, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, সঠিক ব্যবহার পদ্ধতি এবং বাস্তব ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত বিশ্লেষণ।

১. ডিমের প্রোটিন ট্রিটমেন্ট কী?

ডিমের প্রোটিন ট্রিটমেন্ট হলো একটি জনপ্রিয় ঘরোয়া হেয়ার কেয়ার পদ্ধতি যেখানে ডিমের সাদা অংশ, কুসুম বা পুরো ডিম ব্যবহার করে চুলে প্রোটিন যোগানো হয়। ডিমে থাকা প্রাকৃতিক প্রোটিন, বায়োটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড ও ফ্যাটি অ্যাসিড চুলকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে বলে অনেকেই বিশ্বাস করেন। মূলত ক্ষতিগ্রস্ত, রুক্ষ, ভেঙে যাওয়া ও প্রোটিন-ডিফিসিয়েন্ট চুলে এই ট্রিটমেন্ট প্রয়োগ করা হয় যাতে চুলের শ্যাফটে সাময়িকভাবে শক্তি, মসৃণতা ও ঘনত্বের অনুভূতি পাওয়া যায়।

যেহেতু চুলের গঠন মূলত কেরাটিন নামে একটি প্রোটিন দিয়ে তৈরি, তাই ডিমে থাকা বাহ্যিক প্রোটিন চুলের উপরিভাগে একটি প্রোটিন লেয়ার তৈরি করে চুলকে সাময়িকভাবে মজবুত দেখাতে পারে। তবে এটি মূলত কসমেটিক ইফেক্ট—অর্থাৎ চুলের গভীরে প্রবেশ করে কাঠামোগত পরিবর্তন আনে না। তবুও, অনেক মানুষের ক্ষেত্রে নিয়মিত ডিমের প্রোটিন ট্রিটমেন্ট চুলে প্রাণবন্তভাব, শক্তি ও ভলিউমের অনুভূতি বাড়াতে পারে।

২. চুল ঘন করার ক্ষেত্রে প্রোটিনের ভূমিকা

চুলের মূল উপাদান হলো কেরাটিন নামের একটি শক্ত প্রোটিন। যখন চুলে প্রোটিনের ঘাটতি তৈরি হয়—অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং, কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট, রোদ, ধুলা, দূষণ বা অপুষ্টির কারণে—তখন চুল দুর্বল, পাতলা ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় বাহ্যিক প্রোটিন, যেমন ডিমের প্রোটিন, চুলের বাইরের স্তরে একটি প্রোটেক্টিভ লেয়ার তৈরি করে সাময়িকভাবে চুলকে ঘন ও শক্ত দেখাতে সাহায্য করে।

প্রোটিন ক্ষতিগ্রস্ত চুলের কিউটিকল স্তর পূরণ করে চুলকে আরও সমান ও স্মুথ করে তোলে। ফলে চুলের স্ট্র্যান্ডগুলো আলাদা আলাদা না থেকে একত্রে মসৃণভাবে অবস্থান করে, যার ফলে চুল বেশি ভলিউমযুক্ত (thicker appearance) মনে হয়। পাশাপাশি প্রোটিন চুলের ইলাস্টিসিটি বাড়িয়ে ভেঙে যাওয়া কমাতে সাহায্য করে, যা দীর্ঘমেয়াদে চুল ঘন হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

তবে মনে রাখা জরুরি—প্রোটিন চুল ঘন করে “দেখাতে” ভূমিকা রাখলেও এটি স্থায়ীভাবে নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে না। চুল ঘন করার জন্য ভেতর থেকে পুষ্টি, সুষম খাদ্য, জলপান, হরমোন ব্যালান্স ও স্ক্যাল্প কেয়ার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডিমের প্রোটিন কেবল একটি সহায়ক ট্রিটমেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা চুলে তাৎক্ষণিক শক্তি, ঘনত্ব ও ভলিউমের ইফেক্ট দিতে পারে।

৩. ডিমে থাকা প্রোটিন চুলে কতটা কাজ করে — বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

ডিম মূলত উচ্চমানের প্রোটিন (albumin), বায়োটিন, ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিনে সমৃদ্ধ। বৈজ্ঞানিকভাবে বলা হয়, চুলের কেরাটিন হলো একটি বড় মলিকিউলার প্রোটিন, যা স্ক্যাল্পের ভেতরের ফলিকলে তৈরি হয়। ডিমের প্রোটিন আকারে তুলনামূলকভাবে বড় হওয়ায় এটি চুলের ভেতরের গভীরে খুব বেশি প্রবেশ করতে পারে না—এটি বৈজ্ঞানিক সীমাবদ্ধতা। তবে চুলের বাহ্যিক অংশে (cuticle layer) এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ডিমের albumin চুলের বাইরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সাময়িকভাবে লেয়ার তৈরি করে, যার ফলে চুল মজবুত ও ঘন দেখায়। এটিকে বলা হয় “film-forming effect”—যা চুলকে ভলিউমিনাস, শক্ত ও কম ভঙ্গুর করে। এছাড়া ডিমে থাকা বায়োটিন ও অ্যামিনো অ্যাসিড চুলের স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে পারে, ফলে স্টাইলিং বা কম্বিং করার সময় চুল কম ভাঙে।

যদিও প্রোটিন চুলে বাহ্যিকভাবে applied হলে ভেতর পর্যন্ত পৌঁছায় না, তবুও এটি ক্ষতিগ্রস্ত cuticle পূরণ করে চুলের texture উন্নত করতে সক্ষম। তাই দীর্ঘমেয়াদে ডিমের প্রোটিন ট্রিটমেন্ট চুলকে শক্ত ও ঘন দেখাতে সহায়তা করে, তবে নতুন চুল গজানো বা স্থায়ী ঘনত্ব বাড়ানো মূলত শরীরের ভেতরের পুষ্টি, হরমোন এবং জীবনযাত্রার উপর নির্ভর করে।

৪. ডিমের প্রোটিন ট্রিটমেন্টের বাস্তব সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা

ডিমের প্রোটিন ট্রিটমেন্ট চুলের উপর বেশ কিছু বাস্তব উপকার এনে দিতে পারে—বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত, রুক্ষ, শুষ্ক বা দুর্বল চুলের ক্ষেত্রে। ডিমে থাকা প্রাকৃতিক প্রোটিন ও ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের বাহ্যিক স্তরে একটি প্রোটিন লেয়ার তৈরি করে, যা চুলকে তাত্ক্ষণিকভাবে শক্ত, মসৃণ এবং ঘন দেখাতে সাহায্য করে। এর ফলে চুলে ভলিউম বৃদ্ধি পায় এবং চুল ভাঙাও কমে। এছাড়া ডিমের বায়োটিন ও অ্যামিনো অ্যাসিড চুলের elasticity বা স্থিতিস্থাপকতা বাড়িয়ে combing বা styling-এর সময় ক্ষতি কমায়।

তবে এর সীমাবদ্ধতাও আছে। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত, ডিমের প্রোটিন মলিকিউল আকারে বড় হওয়ায় এটি চুলের গভীর cortex স্তরে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে এটি স্থায়ীভাবে ক্ষতি পূরণ বা নতুন চুল গজানোর ক্ষমতা নেই। এমনকি যাদের চুল খুব বেশি protein-sensitive, তাদের ক্ষেত্রে বারবার ডিম ব্যবহার চুলকে আরও শক্ত ও রুক্ষ করে দিতে পারে। অনেকের স্ক্যাল্পে অ্যালার্জি বা দুর্গন্ধের সমস্যাও হতে পারে।

সুতরাং, ডিমের প্রোটিন ট্রিটমেন্ট বাস্তবে চুলকে সাময়িকভাবে ঘন ও স্বাস্থ্যকর দেখাতে পারে, কিন্তু চিরস্থায়ী সমাধান নয়। সঠিক মাত্রায় ব্যবহার, স্ক্যাল্পে অ্যালার্জি আছে কি না—এসব বিবেচনা করে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

৫. কারা এই ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করতে পারবেন, কারা পারবেন না

ডিমের প্রোটিন ট্রিটমেন্ট অনেকের জন্য উপকারী হতে পারে, বিশেষ করে যাদের চুল ভেঙে যাচ্ছে, রুক্ষ, শুষ্ক বা যাদের চুলে প্রোটিনের ঘাটতির লক্ষণ রয়েছে। যেমন—চুলে elasticity কমে যাওয়া, চুল টানলে সহজে ছেঁড়া, স্টাইলিং করলে চুলের shine কমে যাওয়া ইত্যাদি। এগুলো দেখা দিলে ডিমের প্রোটিন ট্রিটমেন্ট চুলকে সাময়িকভাবে শক্ত, ঘন ও ভলিউমযুক্ত দেখাতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া যারা নিয়মিত হেয়ার কালার, স্ট্রেটেনিং বা হিট স্টাইলিং করেন, তাদের ক্ষতিগ্রস্ত চুলেও এই ট্রিটমেন্ট কিছুটা repair effect দিতে পারে।

অন্যদিকে, সবাই এই ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করলে উপকার পাবেন না। যাদের চুল স্বাভাবিকভাবেই protein-rich, যেমন খুব শক্ত বা মোটা চুল, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রোটিন চুলকে আরও রুক্ষ, শক্ত ও ভঙ্গুর করে দিতে পারে। এছাড়া যাদের স্ক্যাল্পে ডিমের অ্যালার্জি, একজিমা, ডার্মাটাইটিস বা অতিরিক্ত তেলতেলেভাব রয়েছে, তাদের জন্য ডিম ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। স্ক্যাল্পে অস্বস্তি, চুলকানি বা ত্বকে জ্বালাভাব সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তাই ট্রিটমেন্ট ব্যবহারের আগে নিজের চুলের ধরন, স্ক্যাল্পের অবস্থা এবং প্রোটিন sensitivity বুঝে নেওয়া জরুরি। সন্দেহ থাকলে প্রথমে ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নিলে নিরাপদ থাকে।

ডিমের ট্রিটমেন্ট ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি

ডিমের হেয়ার ট্রিটমেন্ট ঠিকভাবে ব্যবহার করলে চুলের ভাঙন কমে, চুল কিছুটা শক্ত হয় এবং অস্থায়ীভাবে ঘন ও ভলিউমযুক্ত দেখাতে পারে। তবে এর সঠিক নিয়ম জানা না থাকলে উপকারের বদলে উল্টো ক্ষতি হতে পারে। তাই ডিম দিয়ে চুলে প্রোটিন ট্রিটমেন্ট করার আগে চুলের ধরন এবং প্রয়োগের ধাপগুলো পরিষ্কারভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি।

প্রথমে একটি বাটিতে ১–২টি ডিম ভালোভাবে ফেটে নিতে হবে। চুল যদি শুকনো হয় তবে অল্প অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে। এতে ডিমের প্রোটিন ও তেলের ময়েশ্চার একসাথে চুলে কাজ করে। এরপর চুল সামান্য ভেজা অবস্থায় স্ক্যাল্প বাদ দিয়ে কেবল চুলের দৈর্ঘ্য ও ডগায় মিশ্রণটি লাগাতে হবে। কারণ প্রোটিন প্রধানত চুলের স্ট্র্যান্ডে কাজ করে, স্ক্যাল্পে নয়।

ডিম লাগানোর পর ১৫–২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। বেশি সময় ধরে রাখলে ডিম চুলে শক্ত হয়ে যায় এবং ধোয়া কঠিন হয়। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে সাবধানে ধুয়ে ফেলতে হবে—গরম পানি ব্যবহার করা যাবে না, কারণ এতে চুলে ডিম সেদ্ধ হয়ে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। প্রয়োজনে মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে।

সাপ্তাহিক ১ বার এই ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করাই যথেষ্ট। অতিরিক্ত ব্যবহার করলে চুলে প্রোটিন-ওভারলোড হয়ে রুক্ষতা ও ভঙ্গুরতা বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই নিয়মিততা, সঠিক পরিমাণ এবং সঠিক ধোয়ার প্রক্রিয়াই ডিমের ট্রিটমেন্টকে কার্যকর করে তোলে।

সাধারণ ভুল ও সতর্কতা

ডিমের প্রোটিন ট্রিটমেন্ট অনেকের কাছে উপকারী হলেও কিছু সাধারণ ভুলের কারণে ফল না পাওয়া বা উল্টো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ব্যবহার করার সময় সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক নিয়ম না মানলে চুল আঠালো হওয়া, দুর্গন্ধ থেকে শুরু করে প্রোটিন ওভারলোড পর্যন্ত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

১. অতিরিক্ত ব্যবহার করা – চুলে প্রোটিনের একটি নির্দিষ্ট মাত্রা প্রয়োজন। সপ্তাহে একবারের বেশি ডিমের ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করলে চুল শক্ত হয়ে ভেঙে যেতে পারে। অনেকেই মনে করেন বেশি ব্যবহার মানেই বেশি ফল, কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।

২. গরম পানি দিয়ে ধোয়া – ডিম গরম পানিতে জমে গিয়ে চুলে লেগে থাকতে পারে, যা পরিষ্কার করা অত্যন্ত কষ্টকর। তাই সবসময় ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করতে হবে।

৩. শুধু ডিমেই নির্ভর করা – অনেকেই মনে করেন শুধুমাত্র ডিমেই চুলের সব সমস্যা সমাধান সম্ভব। কিন্তু চুলের পুষ্টি, আর্দ্রতা, ভিটামিন, মিনারেল—সবকিছুই প্রয়োজন। তাই ডিমের পাশাপাশি তেল, কন্ডিশনার এবং ব্যালান্সড ডায়েটও জরুরি।

৪. অ্যালার্জি টেস্ট না করা – যাদের ডিমে অ্যালার্জি আছে, তাদের ক্ষেত্রে ডিমের ট্রিটমেন্ট মাথার ত্বকে র‍্যাশ, চুলকানি বা জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে। তাই ব্যবহারের আগে হাতে বা কানের পাশে প্যাচ টেস্ট করা উচিত।

৫. নোংরা বা ভেজা চুলে প্রয়োগ – চুলে বেশি ময়লা থাকলে বা ড্রিপিং ওয়েট অবস্থায় লাগালে প্রোটিন ঠিকমতো কাজ করে না। তাই চুল পরিষ্কার ও হালকা আর্দ্র অবস্থায় ব্যবহার করাই সবচেয়ে কার্যকর।

৬. দীর্ঘসময় চুলে রেখে দেওয়া – অনেকেই ডিমকে চুলে ১–২ ঘণ্টা রেখে দেন, যা চুল শুকিয়ে শক্ত ও রুক্ষ করে ফেলতে পারে। সাধারণত ২০–৩০ মিনিটই যথেষ্ট।

৭. দুর্গন্ধ দূর করার ভুল পদ্ধতি – কেউ কেউ সুগন্ধি বা পারফিউম ব্যবহার করেন ডিমের গন্ধ কমাতে, যা চুলের ক্ষতি করতে পারে। এর পরিবর্তে লেবু রস বা অল্প ভিনেগার ব্যবহার করা নিরাপদ।

সবশেষে, মনে রাখতে হবে যে ডিমের ট্রিটমেন্ট একটি প্রাথমিক বা ঘরোয়া সমাধান, তবে এটি সবার জন্য সমান কার্যকর নাও হতে পারে। তাই নিজের চুলের ধরণ, অবস্থা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা।

FAQs: ডিমের প্রোটিন ট্রিটমেন্ট সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্নোত্তর

ডিমের প্রোটিন ট্রিটমেন্ট নিয়ে অনেকের মনে বিভিন্ন প্রশ্ন থাকে। চুলে ডিম ব্যবহার করলে আসলে কতটা উপকার হয়, কারা ব্যবহার করতে পারবেন কিংবা কীভাবে ব্যবহার করলে বেশি ফল পাওয়া যায়—এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা রাখা প্রয়োজন। নিচে সবচেয়ে সাধারণ প্রশ্নগুলোর বিস্তারিত ও বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।

১. ডিম কি সত্যিই চুল ঘন করে?
ডিমে থাকা প্রোটিন ও অ্যামাইনো অ্যাসিড চুলের বাইরের স্তরকে (cuticle) শক্তিশালী করে। তবে এটি সরাসরি নতুন চুল গজায় না; বরং ভেঙে যাওয়া কমায়, ফলে চুল ঘন দেখায়। চুল ঘন হওয়ার প্রক্রিয়াটি ধীরগতির এবং খাবার, হরমোন ও জীবনযাত্রার ওপরও নির্ভর করে।

২. সপ্তাহে কতবার ডিমের ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করা উচিত?
সাধারণত সপ্তাহে ১ বারই যথেষ্ট। যাদের চুল খুব শুষ্ক বা রুক্ষ, তারা ১০–১৪ দিনে ১ বার ব্যবহার করাই ভালো। বারবার ব্যবহার করলে প্রোটিন ওভারলোড হয়ে চুল শক্ত হয়ে ভেঙে যেতে পারে।

৩. ডিমের ট্রিটমেন্ট কি তেল লাগানো চুলে করা যায়?
তেল লাগানো চুলে ডিম ভালোভাবে কাজ করতে পারে না, কারণ প্রোটিন শোষণ বাধাগ্রস্ত হয়। তাই ডিম ব্যবহার করার আগে চুল পরিষ্কার ও হালকা আর্দ্র থাকা উচিত।

৪. ডিমের ট্রিটমেন্ট কি সব ধরনের চুলে উপযোগী?
প্রোটিনের অভাব থাকা চুলে এটি ভালো কাজ করে। তবে যাদের চুল খুব বেশি প্রোটিন-সেন্সিটিভ, নরম ও পাতলা, বা কেমিক্যালি ট্রিটেড, তাদের ক্ষেত্রে ডিম সবসময় উপকারী নাও হতে পারে। অ্যালার্জির ঝুঁকিও মাথায় রাখতে হবে।

৫. ডিমের গন্ধ কীভাবে কমানো যায়?
শুধু ঠান্ডা পানি ব্যবহার করলে অনেকটাই কমে যায়। সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস বা অ্যাপল সিডার ভিনেগার মেশালে গন্ধ আরও কমে। পারফিউম বা কেমিক্যালযুক্ত কিছু ব্যবহার করা উচিত নয়।

৬. ডিমের সাদা অংশ নাকি কুসুম—কোনটি চুলের জন্য ভালো?
ডিমের সাদা অংশে থাকে বেশি প্রোটিন, আর কুসুমে থাকে ফ্যাট ও ভিটামিন। যাদের চুল শুষ্ক, তাদের জন্য কুসুমসহ ব্যবহার ভালো, আর যাদের চুল তৈলাক্ত, তাদের জন্য সাদা অংশ ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যায়।

৭. ডিম কি চুল পড়া কমায়?
ডিম সরাসরি চুল পড়া বন্ধ করতে পারে না, কিন্তু চুল ভাঙা কমায় এবং চুলের রুটিন পুষ্টি বাড়ায়। যদি চুল পড়ার কারণ হরমোন, থাইরয়েড বা ভিটামিনের ঘাটতি হয়, তবে শুধু ডিম যথেষ্ট নয়—চিকিৎসা প্রয়োজন।

৮. ডিমের ট্রিটমেন্ট কি শিশুদের চুলে দেওয়া যায়?
সাধারণত দেওয়া যায়, তবে শিশুর ত্বক সংবেদনশীল হওয়ায় আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করা উচিত। গরম পানি ব্যবহার করলে ডিম জমে গিয়ে সমস্যা করতে পারে, তাই সবসময় ঠান্ডা পানি ব্যবহার করতে হবে।

৯. ডিমের ট্রিটমেন্ট কি কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টের বিকল্প?
না। এটি একটি ঘরোয়া ও হালকা প্রোটিন ট্রিটমেন্ট। সেলুনের কেরাটিন বা প্রোটিন বুস্টারের মতো গভীরভাবে চুলের অভ্যন্তর স্তরে কাজ করে না। তবে নিয়মিত করলে চুল শক্ত ও স্বাস্থ্যকর দেখায়।

১০. ডিমের ট্রিটমেন্ট করার পর কি কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে?
হ্যাঁ। প্রোটিন ব্যবহারের পর চুল শক্ত মনে হতে পারে, তাই শেষে হালকা কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুল নরম, মসৃণ ও ম্যানেজেবল থাকে।

এই প্রশ্নোত্তরগুলো অনুসরণ করলে ডিমের প্রোটিন ট্রিটমেন্ট নিয়ে ভুল ধারণা দূর হবে, এবং আপনি নিরাপদে ও কার্যকরভাবে এটি ব্যবহার করতে পারবেন।

ডিম চুল ঘন করার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিকভাবে কিছু উপকার দিতে পারে। ডিম প্রোটিনে সমৃদ্ধ, যা চুলের মূল উপাদান কেরাটিন তৈরি করতে সাহায্য করে। নিয়মিত ডিমের প্যাক বা মাস্ক ব্যবহার করলে চুলের গঠন শক্তিশালী হতে পারে, ঝরতে কমতে পারে এবং চুল কিছুটা ঘন দেখাতে পারে। তবে, এটি সরাসরি চুলের ঘনত্ব বাড়ায় না, বরং চুলের স্বাস্থ্য ও মজবুতিতে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। চুলের ঘনত্ব প্রাকৃতিকভাবে বংশগত, হরমোন, পুষ্টি এবং জীবনধারার উপর নির্ভর করে, তাই ডিমের ব্যবহার শুধুমাত্র সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। সুস্থ খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত স্ক্যাল্প কেয়ার এবং পর্যাপ্ত পুষ্টি চুলের ঘনতা ও স্বাস্থ্য রক্ষায় আরও কার্যকর।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪