OrdinaryITPostAd

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ গাইড

সেন্ট মার্টিন – বাংলাদেশে সমুদ্রের সৌন্দর্যের এক অমুল্য রত্ন। এই দ্বীপটি তার সাদা বালির সৈকত, নীল সমুদ্র এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। এই ভ্রমণ গাইডটি আপনাকে সেন্ট মার্টিনের সব চমকপ্রদ স্থান, ভ্রমণের পরিকল্পনা, স্থানীয় খাবার এবং নিরাপদ থাকার ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেবে। আসুন, আমরা একসাথে এই স্বপ্নীল দ্বীপের অভিজ্ঞতা আবিষ্কার করি।

১. ভূমিকা: সেন্ট মার্টিন দ্বীপের সৌন্দর্য

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, যা কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপকূল থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। এর চারপাশে নীল জলরাশি, সাদা বালুকাবেলা এবং অসংখ্য নারকেল গাছ দ্বীপটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে। এজন্য একে অনেকে “নারিকেল জিঞ্জিরা” নামেও ডাকেন।

আরো পড়ুন: বাংলাদেশের সেরা অজানা ট্রাভেল স্পট

এই দ্বীপ শুধু পর্যটনের জন্য নয়, বরং প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্যও এক অনন্য অভিজ্ঞতা। সাগরের ঢেউ, পরিষ্কার আকাশ আর রাতের আকাশে ঝলমলে তারার সৌন্দর্য ভ্রমণপিপাসু মানুষকে বিমোহিত করে রাখে। শীত মৌসুমে বিশেষ করে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের সেরা সময় হিসেবে বিবেচিত হয়।

ভ্রমণকারীরা এখানে এসে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন, তেমনি স্থানীয় খাবার, বিশেষ করে তাজা সামুদ্রিক মাছ ও শুঁটকি উপভোগ করে নিতে পারেন। ফলে সেন্ট মার্টিন শুধুমাত্র ভ্রমণের নয়, বরং এক অবিস্মরণীয় স্মৃতির নাম।

২. অবস্থান ও যাতায়াত ব্যবস্থা

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ প্রান্তে, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার অন্তর্গত। এটি টেকনাফ উপকূল থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরের বুকে অবস্থিত। প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপটি তার অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রবাল প্রাচীর ও সাদা বালুকাবেলার জন্য দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

সেন্ট মার্টিনে যেতে হলে প্রথমে আপনাকে কক্সবাজার বা চট্টগ্রাম থেকে সড়কপথে টেকনাফ পৌঁছাতে হবে। ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে কক্সবাজার এবং সেখান থেকে স্থানীয় পরিবহনে টেকনাফ যাওয়া যায়। টেকনাফের দমদমিয়া বা জেটি ঘাট থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন যাত্রীবাহী ট্রলার, জাহাজ এবং ক্রুজ ছেড়ে যায়, যা আপনাকে সরাসরি সেন্ট মার্টিন দ্বীপে নিয়ে যাবে।

ভ্রমণের নিরাপত্তা ও আরামের জন্য শীতকাল, অর্থাৎ নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সময় সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের জন্য সর্বোত্তম ধরা হয়। কারণ এ সময় সমুদ্র তুলনামূলক শান্ত থাকে এবং যাতায়াতও সহজ হয়। তবে ভ্রমণ পরিকল্পনার আগে জাহাজ বা ট্রলার পরিষেবার সময়সূচি জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

৩. দ্বীপের প্রধান দর্শনীয় স্থান

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর দর্শনীয় স্থানগুলো। এই ছোট্ট প্রবাল দ্বীপটির প্রতিটি কোণ যেন আলাদা সৌন্দর্যের আবেশ ছড়ায়। ভ্রমণকারীরা এখানে এসে একদিকে সমুদ্রের ঢেউয়ের মিষ্টি সুর উপভোগ করতে পারেন, অন্যদিকে বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখতে পারেন যা সেন্ট মার্টিনকে আরও জনপ্রিয় করেছে।

আরো পড়ুন: স্বল্প বাজেটে সিলেট ভ্রমণ: একটি সম্পূর্ণ ও কার্যকরী ভ্রমণ গাইড

এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো চেয়ারম্যান ঘাট, যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক দ্বীপে প্রবেশ ও প্রস্থান করেন। এছাড়াও দ্বীপের নারিকেল জিঞ্জিরা অংশটি বিশেষ আকর্ষণীয়, কারণ এখানে অসংখ্য নারকেল গাছের ছায়া এবং সাদা বালির সৌন্দর্য পর্যটকদের বিমোহিত করে রাখে। ছেঁড়াদ্বীপ সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের সবচেয়ে আলোচিত স্থান, যেখানে প্রবাল প্রাচীর, নীল জলরাশি এবং অনন্য প্রাকৃতিক দৃশ্য ভ্রমণকারীদের জন্য এক স্বর্গীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

এছাড়া সেন্ট মার্টিন দ্বীপে রয়েছে শান্ত সমুদ্রতীর, রাতের আকাশে তারাভরা দৃশ্য এবং স্থানীয় গ্রামগুলো ঘুরে দেখার সুযোগ। যারা প্রকৃতি, নীরবতা এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য পছন্দ করেন, তাদের জন্য সেন্ট মার্টিন দ্বীপ নিঃসন্দেহে এক অনন্য ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।

৪. স্থানীয় খাবার ও সামুদ্রিক পদ

ভ্রমণের আনন্দ কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেই সীমাবদ্ধ নয়, স্থানীয় খাবারও ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে আরও রঙিন করে তোলে। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গেলে সুস্বাদু সামুদ্রিক পদ স্বাদ নেওয়া এক অনন্য অভিজ্ঞতা। এখানে আপনি পাবেন তাজা মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া, লবস্টারসহ বিভিন্ন রকমের সামুদ্রিক খাবার যা স্থানীয়ভাবে রান্না করা হয়। প্রতিটি পদেই থাকে আঞ্চলিক স্বাদ ও অনন্য রান্নার কৌশল, যা আপনাকে ভ্রমণের বিশেষ স্মৃতি দেবে।

স্থানীয় বাজারগুলোতেও আপনি পাবেন দেশীয় খাবার যেমন—ভাত, ডাল, ভর্তা, শুঁটকি, সবজি ও বিভিন্ন মশলাদার পদ। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের শুঁটকি মাছ সারা দেশে বিখ্যাত। এই খাবারগুলো শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়, বরং স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও সুযোগ করে দেয়। যারা সামুদ্রিক খাবারের ভক্ত, তাদের জন্য এসব পদ এক অনন্য ভোজনরসিক অভিজ্ঞতা।

ভ্রমণের সময় স্থানীয় রেস্টুরেন্ট কিংবা ছোট দোকানে খাওয়া শুধু স্বাদ নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতিকেও সহায়তা করে। তাই ভ্রমণে গেলে অবশ্যই একবার হলেও স্থানীয় খাবার ও সামুদ্রিক পদ উপভোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এটি আপনার ভ্রমণকে শুধু আনন্দদায়কই নয়, বরং আরও স্মরণীয় করে তুলবে।

৫. ভ্রমণ ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম

একটি ভ্রমণের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে সেখানে কী ধরনের বিনোদনমূলক কার্যক্রম পাওয়া যায় তার উপর। ভ্রমণ কেবল প্রকৃতি দেখা বা ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরে দেখাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম ভ্রমণকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। বাংলাদেশের পর্যটন এলাকাগুলোতে নৌকা ভ্রমণ, পাহাড়ে ট্রেকিং, সাইক্লিং, সৈকতে হাঁটা, সাঁতার কাটা কিংবা জলক্রীড়ার মতো কার্যক্রম পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এগুলো শরীর ও মন উভয়ের জন্যই একটি অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

যারা শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে চান, তারা স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারেন। আবার যারা অ্যাডভেঞ্চার ভালোবাসেন, তাদের জন্য জিপ লাইনিং, ট্রেকিং, কায়াকিং কিংবা বোট রাইডের মতো কার্যক্রম রয়েছে। এসব কার্যক্রম কেবল আনন্দই দেয় না, বরং ভ্রমণকে করে তোলে শিক্ষণীয় ও স্মরণীয়।

স্থানীয় বাজার ঘোরা, হস্তশিল্প কেনা কিংবা স্থানীয় খাবারের দোকানে সময় কাটানোও বিনোদনের একটি অংশ। এছাড়া পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সৈকতে খেলাধুলা করা, সন্ধ্যায় ক্যাম্পফায়ার উপভোগ করা কিংবা সঙ্গীতানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার মতো বিনোদনমূলক কার্যক্রম ভ্রমণের আনন্দকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। তাই ভ্রমণের সময় স্থানীয় সংস্কৃতি ও কার্যক্রমে অংশ নেওয়া উচিত, যা ভ্রমণকে শুধু আনন্দদায়ক নয় বরং স্মরণীয় করে তুলবে।

৬. থাকার ব্যবস্থা ও রিসোর্ট

ভ্রমণের সময় সঠিক থাকার ব্যবস্থা নির্বাচন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিশেষ করে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের মতো জনপ্রিয় পর্যটন স্থানে আরামদায়ক এবং নিরাপদ হোটেল বা রিসোর্ট বেছে নেওয়া ভ্রমণের আনন্দকে দ্বিগুণ করে তোলে। এখানে বিভিন্ন মানের রিসোর্ট, কটেজ এবং গেস্টহাউস পাওয়া যায় যা ভ্রমণকারীদের বাজেট এবং পছন্দ অনুযায়ী বেছে নেওয়ার সুযোগ দেয়।

যারা বিলাসবহুল ভ্রমণ পছন্দ করেন, তাদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ বিচ রিসোর্ট রয়েছে। এসব রিসোর্টে আরামদায়ক কক্ষ, সি-ভিউ, সুস্বাদু খাবারের রেস্টুরেন্ট এবং বিনোদনের ব্যবস্থা থাকে। অন্যদিকে, যারা বাজেট-ফ্রেন্ডলি ভ্রমণ করতে চান, তারা সহজলভ্য গেস্টহাউস বা কটেজে থাকতে পারেন। এগুলো সাধারণ হলেও ভ্রমণকারীদের প্রয়োজনীয় সব সুবিধা প্রদান করে।

আরো পড়ুন: সাজেকে কিভাবে যাবেন ,কত খরচ পড়বে? জেনে নিন পূর্ণ ভ্রমণ পরিকল্পনা

স্থানীয় মালিকানাধীন কটেজে থাকার আলাদা আনন্দ রয়েছে, কারণ এতে ভ্রমণকারীরা স্থানীয়দের আতিথেয়তা এবং সংস্কৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান। অনেক রিসোর্টই সমুদ্রের একেবারে কাছে অবস্থিত, যা সকালে সূর্যোদয় ও রাতে সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ উপভোগ করার এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেয়।

সুতরাং, ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময় আগেভাগে থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত। বিশেষ করে মৌসুমে (অক্টোবর থেকে মার্চ) পর্যটকের ভিড় বেশি থাকে, তাই আগে থেকে বুকিং করা ভ্রমণকে করবে ঝামেলামুক্ত এবং আরামদায়ক।

৭. ভ্রমণ নিরাপত্তা ও করণীয়

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ভ্রমণের সময় নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুন্দর সমুদ্র সৈকত, প্রবাল পাথর এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি কিছু করণীয় মেনে চললে ভ্রমণ হবে আরও আনন্দদায়ক এবং নিরাপদ। প্রথমত, সমুদ্রে নামার সময় আবহাওয়ার অবস্থা লক্ষ্য করতে হবে। ঝড়ো বাতাস বা জোয়ার-ভাটার সময় সাঁতার কাটা বা দূরে যাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত।

দ্বীপে ভ্রমণের সময় পরিবেশ সংরক্ষণেও সচেতন হতে হবে। প্রবাল ভাঙা, প্লাস্টিক ফেলা কিংবা সামুদ্রিক প্রাণীর ক্ষতি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিজের সঙ্গে একটি ছোট ব্যাগ রাখুন এবং বর্জ্য যথাস্থানে ফেলুন। এতে শুধু দ্বীপ নয়, পুরো সমুদ্রের পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে।

এছাড়া ভ্রমণের সময় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বজায় রাখা জরুরি। রাতে সৈকতের নির্জন স্থানে না যাওয়াই ভালো এবং অপরিচিত কারও সঙ্গে মূল্যবান জিনিস শেয়ার করা এড়িয়ে চলতে হবে। মোবাইল, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ সব সময় সুরক্ষিত স্থানে রাখা উচিত।

স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার জন্য প্রাথমিক ওষুধ, সানস্ক্রিন, পানি বিশুদ্ধকরণের ট্যাবলেট এবং প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সামগ্রী সঙ্গে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষ করে যারা পরিবারসহ ভ্রমণ করছেন, তাদের শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর রাখা উচিত।

সবশেষে, ভ্রমণ উপভোগ করার পাশাপাশি সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণই ভ্রমণকে করবে আনন্দময়, নিরাপদ এবং স্মরণীয়।

৮. প্রকৃতি সংরক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব ভ্রমণ

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ভ্রমণের সময় প্রকৃতি সংরক্ষণপরিবেশবান্ধব ভ্রমণ আমাদের সবার দায়িত্ব। এই দ্বীপ তার প্রবাল পাথর, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য এবং মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। তাই ভ্রমণকালে সচেতন আচরণ করা জরুরি, যাতে দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট না হয়।

প্রথমেই উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ভ্রমণের সময় প্লাস্টিক, পলিথিন বা খাবারের মোড়ক সমুদ্রতীরে বা প্রকৃতির মাঝে ফেলা উচিত নয়। সবসময় একটি ব্যাগ সঙ্গে রাখুন এবং আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন। এতে প্রকৃতি যেমন সুন্দর থাকবে, ভবিষ্যৎ ভ্রমণকারীরাও দ্বীপের স্বাভাবিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।

এছাড়া প্রবাল ভাঙা বা সামুদ্রিক প্রাণীর ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রবাল দ্বীপের মূল আকর্ষণ হলেও এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বাস্তুতন্ত্র। তাই সাঁতার কাটার সময় বা নৌভ্রমণের সময় প্রবালের উপর হাঁটা বা নষ্ট করা একেবারেই অনুচিত।

পরিবেশবান্ধব ভ্রমণের আরেকটি দিক হলো স্থানীয় সম্পদ ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন। স্থানীয় খাবার উপভোগ করুন, তবে অপচয় করবেন না। এছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পণ্য কিনে তাদের অর্থনীতিতে সহায়তা করুন।

সবশেষে, ভ্রমণ মানেই শুধু আনন্দ নয়, দায়িত্বও বটে। যদি আমরা সবাই পরিবেশের প্রতি সচেতন থাকি, তবে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ শুধু আমাদের প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও সমান আকর্ষণীয় ও সুন্দর থাকবে।

৯. ভ্রমণ টিপস ও অভিজ্ঞতা

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণকে স্মরণীয় ও উপভোগ্য করতে কিছু ভ্রমণ টিপস জানা জরুরি। দ্বীপটি ছোট হলেও এর সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য ভ্রমণকারীদের সঠিক পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। অভিজ্ঞ ভ্রমণকারীদের পরামর্শ মেনে চললে যাত্রা হবে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় ও আনন্দদায়ক।

প্রথমেই মনে রাখতে হবে, সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের সেরা সময় হলো শীতকাল (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি)। এ সময় আবহাওয়া অনুকূল থাকে এবং সমুদ্র শান্ত থাকে, ফলে যাতায়াতও সহজ হয়। বর্ষাকালে ভ্রমণ এড়িয়ে চলা উত্তম, কারণ ঝড়ো বাতাস ও উত্তাল সমুদ্রের কারণে নৌযাত্রা বিপজ্জনক হতে পারে।

যাতায়াতের টিপস হিসেবে বলা যায়, টেকনাফ থেকে নৌযান বা জাহাজের টিকিট আগেই বুক করা উচিত। এছাড়া সঠিক সময়ে নৌযানে উঠতে চেষ্টা করুন, কারণ অতিরিক্ত ভিড়ের সময় যাত্রা অস্বস্তিকর হতে পারে।

ভ্রমণের সময় হালকা কাপড়, সানস্ক্রিন, সানগ্লাস, টুপি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখা খুবই জরুরি। এছাড়া ক্যামেরা বা মোবাইল চার্জার নিতে ভুলবেন না, কারণ দ্বীপে বিদ্যুতের সীমিত ব্যবস্থা রয়েছে।

খাদ্য ও অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে স্থানীয় খাবার উপভোগ করতে পারেন। তাজা সামুদ্রিক মাছ, ভাজা ও ঝাল-মসলাযুক্ত পদগুলো পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। তবে সবসময় পরিচ্ছন্ন রেস্তোরাঁ থেকে খাবার খাওয়া উচিত।

অভিজ্ঞ ভ্রমণকারীদের মতে, সেন্ট মার্টিনে ভোরবেলা সূর্যোদয় ও সন্ধ্যায় সূর্যাস্ত দেখা এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। এছাড়া সমুদ্রতীরে বসে ঢেউয়ের শব্দ শোনা কিংবা নৌকায় করে ছেঁড়াদ্বীপ ভ্রমণও স্মৃতিময় মুহূর্ত তৈরি করবে।

সবশেষে বলা যায়, সামান্য পরিকল্পনা ও সচেতনতা আপনার ভ্রমণকে করবে ঝামেলাহীন এবং আনন্দময়। সঠিক প্রস্তুতি ও অভিজ্ঞতা থেকে শেখা টিপস মেনে চললে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ হবে জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা।

উপসংহার: সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের স্মরণীয় অভিজ্ঞতা

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ সবসময়ই একটি অনন্য এবং স্মরণীয় অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এই সুন্দর দ্বীপটি তার শান্ত সমুদ্র, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং অসাধারণ সমুদ্র সৈকতের জন্য বিখ্যাত। ভ্রমণকালীন সময়ে মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সংযোগ অনুভব করতে পারে, যেখানে নীল সমুদ্রের জল এবং সোনালী বালির মিলন হৃদয়কে প্রশান্তি দেয়।

সেন্ট মার্টিনে স্থানীয় খাবার, নৌ ভ্রমণ এবং সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ভ্রমণকারীদের মনে অম্লান ছাপ ফেলে। এছাড়া, দ্বীপটির নিরাপদ পরিবেশ এবং অতিথিপরায়ণ স্থানীয় মানুষদের আতিথ্য ভ্রমণকে আরও আনন্দদায়ক করে তোলে। এখানে প্রত্যেক মুহূর্ত যেন নতুন গল্প এবং অভিজ্ঞতার সঙ্গে ভরা থাকে।

এই দ্বীপ ভ্রমণ শুধুমাত্র একটি পর্যটন সফর নয়, বরং এটি মানসিক শান্তি, প্রকৃতির প্রশান্তি এবং নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয়ের একটি সুযোগ। যারা প্রকৃতি এবং সমুদ্র ভালোবাসেন, তাদের জন্য সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ একটি অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে চিরকাল মনে থাকবে। তাই পরবর্তী ছুটিতে এই দ্বীপটি ভ্রমণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা একেবারেই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪