ফ্রিল্যান্সিং vs চাকরি – কোনটা আপনার ভবিষ্যতের জন্য ভালো?
ফ্রিল্যান্সিং vs চাকরি – কোনটা আপনার ভবিষ্যতের জন্য ভালো?
বর্তমান যুগে চাকরি করা আর ফ্রিল্যান্সিং – দুইটির মধ্যেই রয়েছে আলাদা সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ। আপনি যদি ভাবছেন কোন পথটি আপনার ক্যারিয়ারের জন্য সঠিক হবে, এই পোস্টটি আপনার জন্য। বিস্তারিত তুলনা ও বাস্তবিক দিকগুলো জানার মাধ্যমে আপনি সহজেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
📑 পেজ সূচিপত্র: ফ্রিল্যান্সিং vs চাকরি – কোনটা আপনার ভবিষ্যতের জন্য ভালো?
✅ ভূমিকা
বর্তমান যুগে কর্মসংস্থান খুঁজে পাওয়া অনেকের জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে এখন কর্মক্ষেত্রে এসেছে নতুন বিকল্প—ফ্রিল্যান্সিং। অন্যদিকে, প্রচলিত চাকরি এখনও অনেকের কাছে স্থিতিশীল আয়ের উৎস হিসেবে পরিচিত। অনেকেই ভাবছেন, “আমার ভবিষ্যতের জন্য ফ্রিল্যান্সিং ভালো হবে নাকি চাকরি?”
এই প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়, কারণ উভয় ক্ষেত্রেই রয়েছে সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা। ফ্রিল্যান্সিং আপনাকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিলেও, চাকরি আপনাকে দেয় স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা। তাই আপনার লক্ষ্য, দক্ষতা এবং জীবনযাত্রার ধরন অনুযায়ী সঠিক পথ বেছে নেওয়া জরুরি।
আরো পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংক এক্সাম: যেভাবে ৩০ দিনে ফুল রেডি হবে
এই নিবন্ধে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব ফ্রিল্যান্সিং ও চাকরির সুবিধা-অসুবিধা, বাস্তব কেস স্টাডি এবং তুলনামূলক বিশ্লেষণ। যাতে আপনি বুঝতে পারেন, ফ্রিল্যান্সিং বনাম চাকরি—কোনটা আপনার ভবিষ্যতের জন্য ভালো?
✅ ফ্রিল্যান্সিং এর সুবিধাআধুনিক কর্মক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং একটি জনপ্রিয় ক্যারিয়ার বিকল্প। বিশেষ করে যারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে ভালোবাসেন এবং সময়ের বাঁধন ছাড়াই আয় করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার সুযোগ। ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নিজের দক্ষতা ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করতে পারেন।
প্রথমত, ফ্রিল্যান্সিং এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সময়ের স্বাধীনতা। আপনি চাইলে সকালে, রাতে বা দিনের যে কোনো সময়ে কাজ করতে পারবেন। প্রচলিত চাকরির মতো নির্দিষ্ট অফিস টাইম বা বসের চাপ এখানে নেই। এর ফলে কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রাখা সহজ হয়।
দ্বিতীয়ত, ফ্রিল্যান্সিং আপনাকে অসীম আয়ের সুযোগ করে দেয়। দক্ষতা যত বাড়বে, ততই উচ্চমূল্যের প্রজেক্ট হাতে আসবে এবং আয়ের পরিমাণও বাড়তে থাকবে। চাকরির মতো নির্দিষ্ট বেতনের সীমাবদ্ধতা এখানে নেই। একাধিক ক্লায়েন্টের জন্য একসাথে কাজ করলে আয় দ্বিগুণ কিংবা তিনগুণ হতে পারে।
তৃতীয়ত, আপনি চাইলে গ্লোবাল মার্কেটে কাজ করতে পারবেন। যেমন: Upwork, Fiverr, Freelancer, Toptal ইত্যাদি মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে সারা বিশ্বের ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়। এর ফলে আপনার দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানে বিকশিত হবে এবং ক্যারিয়ারের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
এছাড়া ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে নিজের ব্র্যান্ড তৈরি করার সুযোগ থাকে। দীর্ঘদিন কাজের মাধ্যমে আপনি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার থেকে উদ্যোক্তা (Entrepreneur) হয়ে উঠতে পারেন। তাই বলা যায়, ফ্রিল্যান্সিং শুধু কাজ নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ার প্ল্যাটফর্ম।
✅ ফ্রিল্যান্সিং এর চ্যালেঞ্জ
ফ্রিল্যান্সিং নিঃসন্দেহে একটি আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার বিকল্প হলেও এর কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অনেক নতুন ফ্রিল্যান্সার শুরুতেই ভেবে বসেন যে কাজ পাওয়া সহজ এবং আয় দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হতে হলে দীর্ঘ সময় ধরে অধ্যবসায়, ধৈর্য ও দক্ষতা উন্নয়ন জরুরি। কাজের প্রতিযোগিতা অনেক বেশি হওয়ায় নতুনদের জন্য এটি একটি কঠিন লড়াই।
প্রথমত, ক্লায়েন্ট খুঁজে পাওয়া নতুনদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা। আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে হাজারো ফ্রিল্যান্সার একই প্রজেক্টে বিড করে, যার ফলে কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। এই পর্যায়ে সঠিক প্রোফাইল তৈরি, পূর্বের কাজের উদাহরণ এবং শক্তিশালী যোগাযোগ দক্ষতা কাজে লাগে।
দ্বিতীয়ত, ফ্রিল্যান্সিংয়ে আয়ের অনিশ্চয়তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কিছু মাসে ভালো আয় হলেও, আবার কিছু মাস একেবারেই কাজ নাও আসতে পারে। এর ফলে নিয়মিত সঞ্চয় এবং আর্থিক পরিকল্পনা করা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়।
তৃতীয়ত, ফ্রিল্যান্সারদের প্রায়শই ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্ট সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময় ক্লায়েন্ট সময়মতো পেমেন্ট করেন না বা প্রজেক্টের শর্ত পরিবর্তন করে জটিলতা তৈরি করেন। এই পরিস্থিতিতে ফ্রিল্যান্সারদের ধৈর্যশীল হতে হয় এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হয়।
এছাড়াও, টাইম ম্যানেজমেন্ট ও ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স বজায় রাখা ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ বাড়ি থেকে কাজ করার ফলে অনেক সময় ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের মধ্যে সঠিক সমন্বয় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
আরো পড়ুন: সাধারণ গ্রেজুয়েটদের জন্য এই ৫টি NGO চাকরির সুযোগ মিস করবেন না!
তাই বলা যায়, ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হতে হলে এই চ্যালেঞ্জগুলো বুঝতে হবে এবং সেগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করতে হবে। দক্ষতা বৃদ্ধি, নিয়মিত কাজের অভ্যাস এবং সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা একজন ফ্রিল্যান্সারকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।
✅ চাকরির সুবিধা
বাংলাদেশের অধিকাংশ তরুণ-তরুণী স্থায়ী চাকরিকে এখনো একটি নিরাপদ ক্যারিয়ার হিসেবে দেখে। ফ্রিল্যান্সিং যেখানে অনিশ্চয়তা ও প্রতিযোগিতায় ভরপুর, সেখানে চাকরির কিছু নির্দিষ্ট সুবিধা আছে যা ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রথমত, চাকরির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আর্থিক স্থিতিশীলতা। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট বেতন পাওয়া যায়, যা জীবনের ব্যয় নির্বাহ এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সহজ করে তোলে। এই নির্দিষ্ট ইনকাম ব্যাংক লোন বা ক্রেডিট সুবিধা নিতেও সাহায্য করে।
দ্বিতীয়ত, চাকরিতে পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনের সুবিধা যেমন পেনশন, গ্র্যাচুইটি, মেডিকেল সুবিধা, বোনাস ইত্যাদি। এসব সুবিধা দীর্ঘমেয়াদে কর্মজীবনকে আরও নিরাপদ করে তোলে।
তৃতীয়ত, চাকরিতে রয়েছে সামাজিক মর্যাদা ও স্থিতিশীল ক্যারিয়ার গ্রোথ। সরকারি চাকরি হোক বা বেসরকারি সেক্টরে, একটি নির্দিষ্ট পদে কাজ করা মানুষকে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদা এনে দেয়। একই সঙ্গে প্রমোশন, বেতন বৃদ্ধি ও পদোন্নতির মাধ্যমে ধাপে ধাপে ক্যারিয়ারে অগ্রগতি হয়।
চতুর্থত, চাকরিতে দলগতভাবে কাজ করার সুযোগ থাকে, যা ব্যক্তির যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া অফিস এনভায়রনমেন্টে নিয়মিত কাজ করার ফলে শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতা তৈরি হয়।
সবশেষে বলা যায়, চাকরি তাদের জন্য উপযুক্ত যারা দীর্ঘমেয়াদে একটি নিরাপদ, নিয়মতান্ত্রিক ও মর্যাদাপূর্ণ ক্যারিয়ার গড়তে চান। এটি অনেক ক্ষেত্রেই পরিবার ও সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং ঝুঁকিহীন।
✅ চাকরির সীমাবদ্ধতা
চাকরির সুবিধা যেমন আছে, তেমনি রয়েছে কিছু সীমাবদ্ধতাও, যা অনেককে ভিন্ন ক্যারিয়ার খুঁজতে উদ্বুদ্ধ করে। একটি স্থায়ী কাঠামো ও নিয়মকানুনের কারণে চাকরিজীবীদের স্বাধীনতা সীমিত হয়ে যায় এবং অনেকে এটি দীর্ঘমেয়াদে অসুবিধাজনক মনে করেন।
প্রথমত, চাকরির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো স্বাধীনতার অভাব। নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে উপস্থিত হতে হয় এবং কাজের ধরন ও পরিবেশ অনেক সময় নিজের মতো করে ঠিক করা যায় না। ফলে কাজের স্বাধীনতা কম থাকে।
দ্বিতীয়ত, চাকরিতে আয়ের সীমাবদ্ধতা থাকে। নির্দিষ্ট বেতনের বাইরে ইনকাম সাধারণত বাড়ে না, এবং অনেক সময় প্রমোশন বা ইনক্রিমেন্ট পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এর ফলে আর্থিক অগ্রগতি ধীরগতিতে হয়।
তৃতীয়ত, চাকরির অনিশ্চয়তাও একটি বড় সমস্যা। প্রাইভেট সেক্টরে যেকোনো সময় চাকরি হারানোর ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে, সরকারি চাকরিতে টিকে থাকার জন্য প্রতিযোগিতা ও রাজনৈতিক প্রভাবও দেখা দিতে পারে।
চতুর্থত, অনেক ক্ষেত্রে কাজের চাপ এবং অতিরিক্ত সময় অফিসে থাকা চাকরিজীবীদের ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলে। এর ফলে পরিবার ও ব্যক্তিগত সময় ব্যাহত হয় এবং মানসিক চাপ বেড়ে যায়।
আরো পড়ুন: ঘরে বসে বিদেশি চাকরির আবেদন: কোন কোন ওয়েবসাইট আবেদন করতে পারবেন?
সবশেষে বলা যায়, চাকরি নিরাপদ হলেও এর সীমাবদ্ধতাগুলো অনেক সময় ব্যক্তিকে নতুন সুযোগ খুঁজতে বাধ্য করে। যারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে চান বা দ্রুত আয়ের সুযোগ খুঁজছেন, তাদের জন্য চাকরি সবসময় উপযুক্ত নয়।
✅ ফ্রিল্যান্সিং বনাম চাকরি – তুলনামূলক আলোচনা
আজকের প্রতিযোগিতামূলক দুনিয়ায় ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান—ফ্রিল্যান্সিং করবেন নাকি চাকরি করবেন? দুটো ক্ষেত্রেরই সুবিধা-অসুবিধা রয়েছে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তুলনামূলক বিশ্লেষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমত, স্বাধীনতা ও নিয়ন্ত্রণ এর দিক থেকে ফ্রিল্যান্সিং এগিয়ে। একজন ফ্রিল্যান্সার নিজের সময়, কাজের ধরন এবং প্রোজেক্ট বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা পান। অন্যদিকে, চাকরিতে নির্দিষ্ট নিয়ম ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মানতে হয়।
দ্বিতীয়ত, আয় এর ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিংয়ে সীমাহীন সম্ভাবনা থাকলেও শুরুতে আয় অনিশ্চিত হয়। ক্লায়েন্ট সংখ্যা ও প্রোজেক্টের ওপর নির্ভর করে আয় ওঠানামা করে। চাকরিতে অবশ্য নির্দিষ্ট মাসিক বেতন নিশ্চিত থাকে, যা আর্থিক নিরাপত্তা দেয়।
তৃতীয়ত, কাজের চাপ তুলনা করলে দেখা যায়, চাকরিতে কাজের চাপ স্থায়ী এবং অফিসের নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। অন্যদিকে, ফ্রিল্যান্সিংয়ে অনেক সময় ডেডলাইন মেনে চলতে গিয়ে মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে, তবে তা নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
চতুর্থত, ক্যারিয়ার গ্রোথ এর ক্ষেত্রেও পার্থক্য রয়েছে। চাকরিতে প্রমোশন এবং পদোন্নতির মাধ্যমে ধাপে ধাপে উন্নতির সুযোগ থাকে, যদিও তা সময়সাপেক্ষ। ফ্রিল্যান্সিংয়ে দক্ষতা বাড়ালে দ্রুত ইনকাম ও কাজের মান বাড়ানো সম্ভব।
সবশেষে বলা যায়, যারা স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা চান তাদের জন্য চাকরি উপযুক্ত। আর যারা স্বাধীনতা ও সীমাহীন আয়ের সুযোগ খুঁজছেন, তাদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং সেরা বিকল্প হতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যক্তিগত লক্ষ্য, দক্ষতা এবং জীবনধারার সঙ্গে কোনটি বেশি মানানসই, তা ভেবে দেখা উচিত।
✅ কোনটা আপনার জন্য ভালো?
চাকরি আর ফ্রিল্যান্সিং—দুটোই ক্যারিয়ার গড়ার জন্য সম্ভাবনাময় পথ। তবে কোনটা আপনার জন্য ভালো হবে, তা নির্ভর করে আপনার ব্যক্তিত্ব, দক্ষতা, লক্ষ্য এবং জীবনধারার ওপর।
যদি আপনি নিরাপত্তা, স্থিতিশীল আয় এবং নিয়মিত কর্মপরিবেশ পছন্দ করেন, তাহলে চাকরি আপনার জন্য উপযুক্ত হতে পারে। চাকরিতে মাসিক বেতন নিশ্চিত থাকে, ক্যারিয়ার গ্রোথের সুযোগ থাকে এবং টিমওয়ার্কের মাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা বাড়ে।
অন্যদিকে, যদি আপনি স্বাধীনভাবে কাজ করতে ভালোবাসেন, নিজের সময় নিয়ন্ত্রণ করতে চান এবং সীমাহীন আয়ের সুযোগ খুঁজছেন, তবে ফ্রিল্যান্সিং হবে আপনার জন্য সেরা বিকল্প। তবে এখানে স্বশিক্ষা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মার্কেটিং দক্ষতা অপরিহার্য।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আপনার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। যারা কর্পোরেট জগতে পদোন্নতি ও সামাজিক মর্যাদা চান, তারা চাকরি বেছে নিতে পারেন। আর যারা স্বাধীন জীবনযাপন ও বিশ্বব্যাপী ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করতে চান, তারা ফ্রিল্যান্সিং বেছে নিতে পারেন।
তবে বর্তমান সময়ে অনেকেই দুটো পথকেই সমন্বয় করছেন। অর্থাৎ চাকরির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করে অতিরিক্ত আয় করছেন। এভাবে ধীরে ধীরে ফ্রিল্যান্সিংয়ে দক্ষ হয়ে গেলে একসময় সেটাকেই ফুল-টাইম ক্যারিয়ার হিসেবে নেওয়া সম্ভব।
আরো পড়ুন: বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির ইন্টারভিউয়ে সফল হওয়ার ১০ টি গোপন ট্রিপস
তাই শেষমেশ বলা যায়, সঠিক সিদ্ধান্ত একেবারেই ব্যক্তিগত। নিজের শক্তি, দুর্বলতা এবং লক্ষ্য বিবেচনা করে আপনিই ঠিক করবেন—চাকরি নাকি ফ্রিল্যান্সিং আপনার জীবনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
✅ কিছু বাস্তব কেস স্টাডি
ফ্রিল্যান্সিং ও চাকরির মধ্যে কোনটা ভালো তা বোঝার জন্য কিছু বাস্তব কেস স্টাডি দেখা যাক। এগুলো থেকে আমরা সহজেই বুঝতে পারব, পরিস্থিতি ভেদে কার জন্য কোনটা বেশি উপযুক্ত।
কেস স্টাডি ১ – রাহুল (চাকরি):
রাহুল একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরি করেন। মাস শেষে তিনি নিয়মিত বেতন পান, স্বাস্থ্য বীমা ও অন্যান্য সুবিধা উপভোগ করেন। তার মূল লক্ষ্য একটি স্থিতিশীল ক্যারিয়ার তৈরি করা। তাই চাকরি তার জন্য নিরাপদ এবং মানানসই পথ।
কেস স্টাডি ২ – নিশাত (ফ্রিল্যান্সিং):
নিশাত গ্রাফিক ডিজাইনে দক্ষ। তিনি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ শুরু করেন এবং বর্তমানে বিদেশি ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করে মাসে একটি ভালো অঙ্কের আয় করেন। সময়ের স্বাধীনতা ও কাজের বৈচিত্র্য তার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয়। চাকরির তুলনায় ফ্রিল্যান্সিং তার জন্য বেশি উপযোগী।
কেস স্টাডি ৩ – আরিফ (চাকরি + ফ্রিল্যান্সিং):
আরিফ একটি আইটি ফার্মে চাকরি করেন, পাশাপাশি রাতের সময় ফ্রিল্যান্সিং করেন। এতে তিনি একদিকে চাকরির নিরাপত্তা পাচ্ছেন, অন্যদিকে ফ্রিল্যান্সিং থেকে অতিরিক্ত আয় করছেন। ভবিষ্যতে তিনি ধীরে ধীরে চাকরি ছেড়ে পূর্ণ সময় ফ্রিল্যান্সিং করতে চান।
এই কেস স্টাডিগুলো থেকে বোঝা যায় যে একই পথ সবার জন্য সমান উপযুক্ত নয়। ব্যক্তিগত লক্ষ্য, দক্ষতা, আর্থিক অবস্থা ও জীবনধারার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
✅ উপসংহার
ফ্রিল্যান্সিং ও চাকরির মধ্যে কোনটা ভালো – এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর নেই। বরং, এটি নির্ভর করে আপনার দক্ষতা, আগ্রহ, আর্থিক প্রয়োজন এবং জীবনধারার ওপর।
যারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে চান, নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন এবং সময়ের স্বাধীনতা খুঁজছেন তাদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং হতে পারে সেরা পথ। অন্যদিকে যারা স্থিতিশীল আয়, নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং ক্যারিয়ার সিকিউরিটি চান তাদের জন্য চাকরি সবচেয়ে উপযুক্ত।
আজকের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে অনেকেই একসাথে দুটো পথ বেছে নিচ্ছেন – চাকরির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং। এতে করে তারা নিরাপত্তার সাথে স্বাধীনতাও উপভোগ করতে পারছেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনার লক্ষ্য অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। কারণ শেষ পর্যন্ত আপনার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আপনার নির্বাচিত পথের ওপর।

.png)
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url