OrdinaryITPostAd

নিজের ডিজিটাল ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে ভুলেও এই ৫টি কাজ করবেন না!

ডিজিটাল ক্যারিয়ার শুরু করেছেন বা শুরু করতে চান? ভুল সিদ্ধান্ত, ভুয়া প্রতিশ্রুতি আর দ্রুত সাফল্যের লোভ আপনার স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে পারে।

এই গাইডে জানবেন সেই ৫টি মারাত্মক ভুল যা এড়িয়ে চললে পথ হবে নিরাপদ—সময়, টাকা আর মানসিক চাপ—সবই বাঁচবে।

বাস্তব উদাহরণ, কার্যকর টিপস ও যাচাই-বাছাইয়ের কৌশলসহ সম্পূর্ণ চেকলিস্ট নিচে দেওয়া হলো। পুরোটা পড়ুন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন।

 

📑 বিষয়বস্তুর সূচিপত্র

১. ভুয়া এজেন্সির প্রলোভন
২. অগ্রিম টাকা নেওয়ার ফাঁদ
৩. জাল ভিসা ও নকল নথি
৪. ভুয়া চাকরির অফার লেটার
৫. মিথ্যা ট্রেনিং ও কোর্স ফি

১. ভুয়া এজেন্সির প্রলোভন

বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনলাইনের মাধ্যমে চাকরি খোঁজা, বিদেশে যাওয়ার সুযোগ নেওয়া কিংবা বিভিন্ন ক্যারিয়ার সুযোগ অনুসন্ধান করা খুবই সহজ হয়ে গেছে। কিন্তু এই সুবিধার পাশাপাশি একটি বড় সমস্যা হচ্ছে ভুয়া এজেন্সির প্রলোভন। অনেক প্রতারক এজেন্সি বা ভুয়া নিয়োগ প্রতিষ্ঠান নিজেদেরকে বৈধ কোম্পানি বা রিক্রুটমেন্ট এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে। এরা মিষ্টি কথায় চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে আগাম টাকা, নথিপত্র বা ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে উধাও হয়ে যায়। এর ফলে অনেক তরুণ-তরুণীর ক্যারিয়ার নষ্ট হয়ে যায় এবং পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই ভুয়া এজেন্সিগুলো সাধারণত চাকরিপ্রার্থীদের মানসিক দুর্বলতাকে কাজে লাগায়। তারা মোটা অঙ্কের বেতন, দ্রুত ভিসা, কম খরচে বিদেশে পাঠানো কিংবা বিশেষ সুযোগ দেওয়ার মতো অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে। বাস্তবে, বৈধ কোনো কোম্পানি কখনোই কাউকে আগাম টাকা দিতে বলে না কিংবা স্বপ্নের চাকরির নামে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দেয় না। কিন্তু প্রতারক চক্রগুলো এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক কৌশল ব্যবহার করে চাকরিপ্রার্থীদের বিশ্বাস অর্জন করে এবং তাড়াহুড়ো করে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।

অনলাইনে ভুয়া বিজ্ঞাপন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লোভনীয় অফার কিংবা তথাকথিত পরিচিতজনের মাধ্যমে অনেকেই প্রতারণার শিকার হয়। বিশেষ করে যারা ডিজিটাল ক্যারিয়ার শুরু করতে চায় এবং সহজ উপায়ে সফল হতে চায়, তারাই এই ধরনের প্রলোভনে বেশি পড়ে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, সত্যিকারের সফল ক্যারিয়ার গড়তে হলে পরিশ্রম, দক্ষতা এবং সময়ের বিকল্প নেই। ভুয়া এজেন্সির ফাঁদে পড়ে কেউ কখনো স্থায়ী সাফল্য পায়নি, বরং এর ফলে অনেকে হতাশ হয়ে পড়েছে এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নষ্ট হয়েছে।

ভুয়া এজেন্সি থেকে বাঁচতে হলে কিছু বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। যেমন – সংশ্লিষ্ট এজেন্সির রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স যাচাই করা, তাদের পূর্ববর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া, গ্রাহকের রিভিউ দেখা এবং কোনো চুক্তি করার আগে আইনগত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া। এছাড়া অনলাইনে যে কোনো চাকরি বা কোর্স অফার দেখলেই যেন বিশ্বাস না করা হয়। সব সময় উৎস যাচাই করতে হবে এবং সন্দেহজনক কোনো প্রস্তাব এলে তা এড়িয়ে চলতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ভুয়া এজেন্সির প্রলোভন কখনোই যেন আপনার পরিশ্রম ও স্বপ্নকে নষ্ট না করতে পারে। সঠিক তথ্য সংগ্রহ, সতর্কতা অবলম্বন এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই করার মাধ্যমে এ ধরনের প্রতারণা থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন, ডিজিটাল ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে সততা ও ধৈর্যই সাফল্যের চাবিকাঠি। তাই কোনো ভুয়া এজেন্সির মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত না হয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিন এবং নিজের যোগ্যতাকেই সাফল্যের মূল হাতিয়ার বানান।

২. অগ্রিম টাকা নেওয়ার ফাঁদ

ডিজিটাল ক্যারিয়ারের পথে সবচেয়ে বড় যে প্রতারণার শিকার মানুষ হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো অগ্রিম টাকা নেওয়ার ফাঁদ। প্রতারক চক্র বা ভুয়া প্রতিষ্ঠানগুলো চাকরি, ফ্রিল্যান্সিং প্রজেক্ট, বিদেশে চাকরির সুযোগ কিংবা বিশেষ কোর্সের নামে প্রথমেই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দাবি করে। তারা বলে থাকে, টাকা দিলেই কাজ নিশ্চিত বা ভিসা হাতে চলে আসবে, কিংবা ট্রেনিং শেষে উচ্চ আয়ের সুযোগ পাওয়া যাবে। বাস্তবে এগুলোর প্রায় সবই প্রতারণা। একবার টাকা হাতে পেলে তারা হয় যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়, নয়তো নানা অজুহাতে নতুন করে আরও টাকা দাবি করে।

এই অগ্রিম টাকা নেওয়ার ফাঁদ সাধারণত কাজের তাড়াহুড়ো কিংবা সহজ উপায়ে সফল হওয়ার মানসিকতা কাজে লাগিয়ে তৈরি হয়। অনেকেই ভেবে নেন, সামান্য টাকা দিলে যদি বড় সুযোগ পাওয়া যায় তাহলে ক্ষতি কোথায়? কিন্তু এ ধরনের প্রলোভনে পড়ে যারা টাকা দেন, তারা পরে আর কোনো প্রতিশ্রুতি পূরণ পায় না। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা, যারা অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়তে চায়, তারাই বেশি প্রতারিত হয়। কারণ তারা ভেবে নেয়, অল্প সময়ে বড় কিছু পাওয়া সম্ভব। অথচ বাস্তবতা হলো, দক্ষতা অর্জন ও কঠোর পরিশ্রম ছাড়া কেউ দীর্ঘমেয়াদী সফলতা অর্জন করতে পারে না।

অগ্রিম টাকা চাওয়ার প্রতারণা বিভিন্ন রূপে দেখা যায়। কেউ কেউ চাকরির ইন্টারভিউর নামে টাকা দাবি করে, কেউ ভিসা প্রসেসিং চার্জ হিসেবে আগাম অর্থ চায়, আবার কেউ অনলাইন প্রজেক্টের নামে "সিকিউরিটি মানি" দাবি করে। বৈধ কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি কখনোই কাজ শুরু করার আগে প্রার্থী বা কর্মী থেকে টাকা নেয় না। বরং তারা যোগ্যতা যাচাই করে এবং কাজ সম্পন্ন হলে তার মূল্য প্রদান করে। তাই যদি কেউ শুরুতেই টাকা চাই, তবে বুঝতে হবে সেটি প্রতারণার অংশ।

এ ধরনের প্রতারণা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কিছু বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। যেমন – ১) যেকোনো অফার পাওয়ার পর আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা এজেন্সির লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন ও ঠিকানা যাচাই করতে হবে। ২) অনলাইনে তাদের সম্পর্কে রিভিউ বা অভিজ্ঞতা খুঁজে দেখা উচিত। ৩) চাকরি বা কোর্স অফারের আগে যদি টাকা চাওয়া হয়, তবে সেই অফার থেকে সরাসরি সরে আসা উচিত। ৪) সব সময় পরিবারের সদস্য বা অভিজ্ঞ কারও সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এছাড়া, প্রতারকরা প্রায়ই সময়ের চাপ সৃষ্টি করে যেমন বলে থাকে – "আজই টাকা না দিলে সুযোগ শেষ হয়ে যাবে" বা "অফারটি সীমিত সময়ের জন্য"। এগুলো আসলে মানুষের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে প্রলোভন দেওয়ার কৌশল। সঠিক প্রতিষ্ঠান কখনোই কাউকে এমন চাপ দেয় না। তাই সতর্ক থেকে যাচাই-বাছাই না করে কাউকে টাকা দেওয়া উচিত নয়।

মনে রাখতে হবে, অগ্রিম টাকা দেওয়া মানেই বড় ঝুঁকি নেওয়া। সঠিক পথ হলো দক্ষতা অর্জন, নেটওয়ার্ক তৈরি এবং বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে ক্যারিয়ার গড়া। কোনো ভুয়া অফারের লোভে পড়ে যদি টাকা হারাতে হয় তবে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, মানসিক হতাশাও তৈরি হয় যা ভবিষ্যতের সাফল্যে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই সচেতন থাকুন, যাচাই না করে কখনোই অগ্রিম টাকা দেবেন না।

সবশেষে বলা যায়, ডিজিটাল ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে অগ্রিম টাকা নেওয়ার ফাঁদ এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সফলতার কোনো শর্টকাট নেই, বরং পরিশ্রম, ধৈর্য এবং সঠিক দিকনির্দেশনাই আপনাকে দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের পথে নিয়ে যাবে।

৩. জাল ভিসা ও নকল নথি

বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি বা স্থায়ীভাবে বসবাস করার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। কিন্তু এই স্বপ্ন পূরণের পথে সবচেয়ে বড় প্রতারণার একটি হলো জাল ভিসা ও নকল নথি। প্রতারক চক্রগুলো মানুষকে বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে জাল কাগজপত্র বানিয়ে দেয়, যেমন— ভিসা, পাসপোর্ট, আমন্ত্রণপত্র, চাকরির অফার লেটার কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি নথি। প্রথমে তারা এসব নথি দেখিয়ে প্রার্থীর বিশ্বাস অর্জন করে এবং মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু বাস্তবে এসব নথি আইনগতভাবে অবৈধ, ফলে ভ্রমণ বা চাকরির সুযোগ তো দূরের কথা, বরং বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়তে হয়।

জাল ভিসা ও নকল নথি ব্যবহার করলে যে সমস্যাগুলো দেখা দেয় তার মধ্যে অন্যতম হলো আইনগত শাস্তি। অনেক দেশেই ভিসা জালিয়াতির জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। কেউ যদি এসব নথি নিয়ে বিমানবন্দরে ধরা পড়ে, তাহলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে আটক করা হতে পারে, এমনকি দীর্ঘমেয়াদী ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও জারি হতে পারে। এর পাশাপাশি, যিনি জাল নথির মাধ্যমে বিদেশে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন তার ভবিষ্যতে বৈধভাবে বিদেশ ভ্রমণের সম্ভাবনাও নষ্ট হয়ে যায়। তাই এ ধরনের প্রতারণা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং ক্যারিয়ার ও জীবনের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।

প্রতারকরা সাধারণত মানুষের স্বপ্নকে পুঁজি করে। তারা বলে থাকে— “কোনো ঝামেলা নেই, সব কাগজ আমরা তৈরি করে দেব”, “কেবল টাকা দিলেই কয়েক দিনের মধ্যে ভিসা পেয়ে যাবেন”, অথবা “ভিসা ইন্টারভিউ ছাড়াই বিদেশ যেতে পারবেন”। এসব প্রলোভন শুনে অনেকেই ফাঁদে পড়ে যায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কোনো বৈধ ভিসা বা কাগজপত্র কখনো শর্টকাট উপায়ে পাওয়া যায় না। সবকিছু আইনগত প্রক্রিয়া মেনেই করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ হলেও নিরাপদ।

জাল ভিসা ও নকল নথি থেকে বাঁচার উপায় হলো সচেতন থাকা এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই করা। যেমন – ১) সবসময় সরকারি অনুমোদিত এজেন্সি বা লাইসেন্সধারী ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। ২) ভিসা ও নথি সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে যাচাই করা প্রয়োজন। ৩) যদি কেউ অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেয়, যেমন খুব অল্প সময়ে ভিসা বা কোনো পরীক্ষা ছাড়া বিদেশ যাওয়ার সুযোগ, তবে সেটি সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ৪) অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে অবশ্যই রসিদ বা প্রমাণপত্র সংগ্রহ করতে হবে এবং অনলাইনে রিভিউ দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এছাড়াও, প্রতারকরা অনেক সময় নকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি চিঠি বা ভুয়া চাকরির অফার লেটার তৈরি করে দেয়। এর ফলে শিক্ষার্থী বা চাকরিপ্রার্থীরা ভিসা ইন্টারভিউতে ব্যর্থ হয় এবং তাদের সময়, অর্থ ও পরিশ্রম সবই নষ্ট হয়। তাই যেকোনো ভর্তি চিঠি বা চাকরির অফার পাওয়ার পর সেটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সবশেষে বলা যায়, জাল ভিসা ও নকল নথি শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং পুরো ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই যে কোনো অফার পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই না করে কখনোই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়। মনে রাখবেন, সৎ উপায়ে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়াই দীর্ঘমেয়াদী সফলতার পথ। আইনগত প্রক্রিয়া মেনে কাজ করলে বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয় এবং ক্যারিয়ারও হয় নিরাপদ ও স্থায়ী।

৪. ভুয়া চাকরির অফার লেটার

আজকের দিনে অনলাইনের মাধ্যমে চাকরির সুযোগ পাওয়া খুবই সহজ। বিভিন্ন ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা ইমেইলের মাধ্যমে চাকরির বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। তবে এই সুবিধার পাশাপাশি একটি বড় প্রতারণার নাম হলো ভুয়া চাকরির অফার লেটার। প্রতারক চক্রগুলো চাকরিপ্রার্থীদের লক্ষ্য করে মিথ্যা অফার লেটার তৈরি করে, যেখানে তারা উচ্চ বেতনের চাকরি, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বা বিশেষ পদে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়। প্রথমে এসব লেটার খুবই আসল মনে হয়, কিন্তু বাস্তবে এগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এর উদ্দেশ্য শুধু টাকা হাতানো।

প্রতারকরা সাধারণত বড় বড় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ভুয়া অফার লেটার তৈরি করে। তারা এমনভাবে লোগো, সিল এবং স্বাক্ষর বসায় যেন আসল মনে হয়। অনেক সময় আন্তর্জাতিক কোম্পানির নাম ব্যবহার করে বিদেশে কাজের সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দেয়া হয়। চাকরিপ্রার্থীরা যখন এসব অফার লেটার পায়, তখন অনেকে ভেবে নেয় স্বপ্নের চাকরি সত্যিই হাতে এসেছে। এরপর প্রতারকরা ভিসা প্রসেসিং ফি, ট্রেনিং চার্জ বা ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনের অজুহাতে টাকা দাবি করে। টাকা পেলেই তারা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

ভুয়া চাকরির অফার লেটারের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দেওয়া। যেমন— "আজই ফি জমা দিন, নইলে অফার বাতিল হয়ে যাবে" বা "সীমিত সংখ্যক প্রার্থীর জন্য সুযোগ দেওয়া হচ্ছে"। এর ফলে অনেকেই ভেবে নেয়, দ্রুত টাকা দিলে সুযোগ হাতছাড়া হবে না। কিন্তু আসল নিয়োগকর্তা কখনোই কাউকে চাপ প্রয়োগ করে না কিংবা আগাম টাকা দাবি করে না। বরং তারা প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাই করে, ইন্টারভিউ নেয় এবং আনুষ্ঠানিক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

ভুয়া অফার লেটার চিনে রাখার জন্য কিছু বিষয় খেয়াল করা জরুরি। যেমন – ১) অফার লেটারে যদি বানান ভুল থাকে বা বাক্য গঠন অস্বাভাবিক হয়। ২) কোম্পানির অফিসিয়াল ইমেইলের পরিবর্তে জিমেইল, ইয়াহু ইত্যাদি ফ্রি ইমেইল ব্যবহার করা হয়। ৩) আগাম টাকা দাবি করা বা সীমিত সময়ের মধ্যে অর্থ জমা দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়। ৪) অফার লেটারে উল্লেখিত কোম্পানির ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য ভুয়া বা যাচাই অযোগ্য।

এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে সবসময় চাকরির অফার যাচাই করতে হবে। প্রথমে কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করে দেখতে হবে তারা সত্যিই নিয়োগ দিচ্ছে কিনা। এছাড়া সরাসরি কোম্পানির HR বিভাগে যোগাযোগ করে অফার লেটারের সত্যতা যাচাই করা যায়। কোনো সন্দেহজনক অফার পেলে পরিবারের সদস্য বা অভিজ্ঞ কারও পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে বিদেশি চাকরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা সরকার অনুমোদিত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির মাধ্যমে যাচাই করা উচিত।

ভুয়া চাকরির অফার লেটারের কারণে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই হয় না, বরং চাকরিপ্রার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। অনেকেই ক্যারিয়ারের শুরুতেই হতাশ হয়ে যায় এবং ভবিষ্যতের সুযোগ হাতছাড়া করে। তাই মনে রাখতে হবে, কোনো চাকরির অফার যদি খুব বেশি লোভনীয় মনে হয় তবে সেটি সন্দেহজনক। আসল চাকরির সুযোগ কখনোই শর্টকাট উপায়ে আসে না। দক্ষতা, পরিশ্রম ও সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদী সফলতা অর্জন সম্ভব।

সবশেষে বলা যায়, ভুয়া চাকরির অফার লেটার প্রতিরোধের সেরা উপায় হলো সচেতন থাকা এবং প্রতিটি অফার যাচাই করা। তাই কোনো অফারের প্রলোভনে না পড়ে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন, তাহলেই ডিজিটাল ক্যারিয়ারের পথ হবে নিরাপদ ও স্থায়ী।

৫. মিথ্যা ট্রেনিং ও কোর্স ফি

বর্তমান ডিজিটাল যুগে দক্ষতা অর্জনের জন্য অনলাইন ও অফলাইনে নানা ধরনের প্রশিক্ষণ কোর্স পাওয়া যায়। কিন্তু এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেক প্রতারক চক্র গড়ে তুলেছে মিথ্যা ট্রেনিং ও কোর্স ফি-এর ফাঁদ। তারা তরুণদের আশ্বাস দেয় যে নির্দিষ্ট একটি কোর্স করলে খুব অল্প সময়ে চাকরি বা ফ্রিল্যান্সিং থেকে বিপুল আয় করা সম্ভব। এই প্রলোভনে পড়ে অনেকে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে ভর্তি হলেও পরবর্তীতে বুঝতে পারে সেটি ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া।

প্রতারক প্রশিক্ষণ প্রদানকারীরা সাধারণত অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেয় যেমন— “৩০ দিনে লাখ টাকা ইনকাম করুন”, “কোর্স শেষ করলেই বিদেশি কোম্পানিতে চাকরি নিশ্চিত”, অথবা “যে কোনো স্কিল ছাড়াই মাসে মোটা অঙ্কের আয়”। এসব প্রতিশ্রুতি শোনার মতো আকর্ষণীয় হলেও বাস্তবে কোনো দক্ষতা অর্জন ছাড়া আয় করা অসম্ভব। এরা মূলত তরুণদের অজ্ঞতা ও তাড়াহুড়ো করে সফল হওয়ার মানসিকতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করে।

মিথ্যা ট্রেনিংয়ের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো— মানসম্মত পাঠ্যক্রমের অভাব। এসব কোর্সে প্রফেশনাল ট্রেইনার থাকে না, বরং অদক্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে ক্লাস নেওয়া হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত স্কিল অর্জন করতে পারে না। আবার কোর্স শেষে কোনো বৈধ সার্টিফিকেট বা চাকরির সুযোগও মেলে না। টাকা দেওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে ট্রেনিং সেন্টার বন্ধ হয়ে যায় কিংবা অনলাইন ক্লাস চালু থাকলেও তা খুব অল্প সময়ের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়।

এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। যেমন – ১) কোর্সে ভর্তি হওয়ার আগে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন, পূর্ববর্তী কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের রিভিউ যাচাই করতে হবে। ২) অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেয় এমন কোর্স থেকে দূরে থাকতে হবে। ৩) সরকারি অনুমোদিত বা পরিচিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কোর্সে অংশগ্রহণ করা উচিত। ৪) যেকোনো প্রশিক্ষণের আগে ডেমো ক্লাস দেখে নেওয়া এবং পাঠ্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানা জরুরি। ৫) সম্ভব হলে সফল শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা জেনে নেওয়া উচিত।

অনেক প্রতারক আবার তথাকথিত আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেটের নামেও কোর্স ফি বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু সেই সার্টিফিকেটগুলোর কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থাকে না। চাকরির বাজারে বা বিদেশে এসব সার্টিফিকেটের কোনো মূল্য নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা অর্থ হারিয়ে হতাশ হয় এবং সময় নষ্ট করে।

মনে রাখতে হবে, সফল ডিজিটাল ক্যারিয়ারের মূল চাবিকাঠি হলো আসল দক্ষতা অর্জন। কোনো কোর্সে ভর্তি হওয়ার আগে তার মান, শিক্ষকদের যোগ্যতা এবং শিক্ষার্থীদের সাফল্যের হার যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। দক্ষতা অর্জন একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, যা ধৈর্য ও নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে সম্ভব।

সবশেষে বলা যায়, মিথ্যা ট্রেনিং ও কোর্স ফি কেবল অর্থের অপচয় নয়, বরং তরুণদের স্বপ্নকেও ভেঙে দেয়। তাই লোভনীয় বিজ্ঞাপন বা অবাস্তব প্রতিশ্রুতির ফাঁদে না পড়ে, সবসময় বিশ্বস্ত ও মানসম্মত প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন। সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করলে ক্যারিয়ার হবে নিরাপদ, আর প্রতারণা এড়ানো যাবে সহজেই।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪