মোবাইলের লুকানো ফিচার যা কেউ জানে না
আপনি কি জানেন আপনার মোবাইল ফোনের ভেতরে এমন অনেক লুকানো ফিচার রয়েছে যা বেশিরভাগ ব্যবহারকারী কখনোই খুঁজে পান না? ছোট ছোট এই ফিচারগুলো আপনার দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করে তুলতে পারে। অবাক করার মতো কিছু ফিচার তো হয়তো আপনিও জানেন না!
এই আর্টিকেলে আমরা মোবাইলের এমন সব গোপন ফিচার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব যা আপনার স্মার্টফোন ব্যবহারকে নতুন অভিজ্ঞতায় ভরিয়ে তুলবে। একবার পড়া শুরু করলে শেষ না করে থামতে পারবেন না!
📑 বিষয়বস্তু (সূচিপত্র)
২. মোবাইলের সিক্রেট কোড
মোবাইলের সিক্রেট কোড বা USSD/MMI কোড হলো এমন বিশেষ নম্বর-সিকোয়েন্স যা ডায়ালার থেকে লিখে কল বাটন না চাপিয়েই (বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে) বিভিন্ন হিডেন মেনু, হার্ডওয়্যার টেস্ট, নেটওয়ার্ক তথ্য ও সার্ভিস সেটিংস দেখায়। এগুলো মূলত সার্ভিস সেন্টার/টেকনিশিয়ানদের কাজ দ্রুত করার জন্য, তবে সচেতন ব্যবহারকারীও ডিভাইস ডায়াগনস্টিক, আইএমইআই চেক, কল ফরওয়ার্ডিং স্ট্যাটাস, ব্যাটারি/নেটওয়ার্ক হেলথ ইত্যাদি জানতে কাজে লাগাতে পারেন।
কীভাবে ব্যবহার করবেন: ফোনের Dialer খুলে কোডটি লিখুন—যেমন *#06#
। কিছু কোড
সাথে সাথে তথ্য দেখায়, কিছু কোডে OK/Call চাপতে হতে পারে। ডুয়াল সিম হলে সিম–১/সিম–২ বেছে নেওয়ার পর
রেসপন্স আসতে পারে। মনে রাখবেন, ব্র্যান্ড/মডেল/অপারেটর ভেদে কোড কাজ নাও করতে পারে।
জনপ্রিয় অ্যান্ড্রয়েড সিক্রেট কোড (তথ্য দেখার/টেস্টিং):
আইএমইআই দেখুন *#06#
, ফোন/ব্যাটারি/নেটওয়ার্ক তথ্যের ডিভাইস টেস্ট মেনু *#*#4636#*#*
,
গুগল ম্যাসেজিং সার্ভিস বা কানেক্টিভিটি লগ *#*#426#*#*
, ক্যালেন্ডার ডাটাভিউ
*#*#225#*#*
, ডায়ালার লগ রেকর্ডিং চালু/বন্ধ *#*#8351#*#*
/ *#*#8350#*#*
।
স্যামসাং হার্ডওয়্যার টেস্ট প্যানেল (ডিসপ্লে, স্পিকার, সেন্সর) অনেক মডেলে
*#0*#
। এদের মাধ্যমে স্ক্রিন ডেড-পিক্সেল, সেন্সর কাজ করছে কিনা, ভলিউম/ভাইব্রেশন ইত্যাদি দ্রুত চেক করা যায়।
আইফোন/জিএসএম স্ট্যান্ডার্ড কোড:
আইএমইআই *#06#
, ফিল্ড-টেস্ট/সিগন্যাল ডিটেইলস *3001#12345#*
, কল ফরওয়ার্ডিং স্ট্যাটাস
*#21#
, আনরিচেবল অবস্থায় ফরওয়ার্ডিং নম্বর *#62#
, ভয়েস কলিং ব্যারিং স্ট্যাটাস
*#33#
। এই কোডগুলো বেশিরভাগ জিএসএম নেটওয়ার্কে কাজ করে, অপারেটর সেটিংসের উপর নির্ভর করে ফলাফল বদলাতে পারে।
সতর্কবার্তা (অবশ্যই পড়ুন):
কিছু কোড ডেটা মুছে ফেলতে পারে বা বড় ধরনের সিস্টেম পরিবর্তন করতে পারে—যেমন *#*#7780#*#*
(ফ্যাক্টরি রিসেট/সফ্ট রিসেট)
এবং *#*#7378423#*#*
(কিছু সনি সার্ভিস মেনু), আবার কিছু পুরনো মডেলে *#*#3855#*#*
(হার্ড রিসেট)।
এগুলো ভুলে ব্যবহার করলে কনট্যাক্ট/ছবি/অ্যাপ মুছে যেতে পারে। তাই ব্যাকআপ ছাড়া কখনই রিসেট-ধরনের কোড চালাবেন না।
অপারেটর ইউএসএসডি কোড (যেমন ব্যালেন্স/প্যাক চেক) কখনও কখনও চার্জ নিতে পারে—স্ক্রিনে কনফার্মেশন এলে পড়ে বুঝে নিন।
সমস্যা সমাধান ও ব্যবহারিক টিপস:
সিগন্যাল সমস্যা বা দ্রুত ব্যাটারি ড্রেইন হলে *#*#4636#*#*
থেকে নেটওয়ার্ক টাইপ/সেল ইনফো চেক করে
4G/5G প্রেফারেন্স মিলিয়ে নিন। হার্ডওয়্যার সন্দেহ হলে স্যামসাংয়ের *#0*#
দিয়ে ডিসপ্লে/সেন্সর টেস্ট করুন।
কল না গেলে *#21#
বা *#62#
দিয়ে ফরওয়ার্ডিং/ডাইভারশন স্ট্যাটাস দেখে নিন। আইএমইআই মিলিয়ে নেওয়া
(বক্স/সেটিংস/ওয়ারেন্টি) ডিভাইস আসল কিনা যাচাইয়ে সাহায্য করে।
এসইও-ফ্রেন্ডলি নোট: কন্টেন্টে প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড যেমন “মোবাইলের সিক্রেট কোড”, “অ্যান্ড্রয়েড টেস্ট মেনু”, “iPhone Field Test Code”, “কল ফরওয়ার্ডিং স্ট্যাটাস চেক”, “IMEI দেখার কোড” স্বাভাবিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করুন। ব্যবহারকারী-ইন্টেন্ট ধরে “কোড কীভাবে কাজ করে”, “কখন ব্যবহার করবেন/করবেন না”, “সতর্কতামূলক ধাপ”—এমন প্রশ্নের উত্তর যোগ করলে সার্চে People also ask স্নিপেট পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। অভ্যন্তরীণ লিঙ্ক হিসেবে “ব্যাটারি সেভিং টিপস”, “প্রাইভেসি সেটিংস”, “হার্ডওয়্যার টেস্ট” সেকশনে রেফার করুন।
৩. জেসচার কন্ট্রোল ফিচার
জেসচার কন্ট্রোল হলো স্ক্রিনে টাচ, সোয়াইপ, ট্যাপ বা ফোন নাড়ানোর মতো স্বাভাবিক অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি। সঠিকভাবে কনফিগার করলে ব্যাক/হোম/রিসেন্ট, স্ক্রিনশট, ক্যামেরা, সাইলেন্ট, নোটিফিকেশন প্যানেল, এমনকি নির্দিষ্ট শর্টকাটও এক হাতে দ্রুত করা যায়। এটি আপনার দৈনন্দিন ব্যবহারকে আরও মসৃণ, দ্রুত এবং এক্সেসিবল করে।
কোথায় পাবেন: অ্যান্ড্রয়েডে সাধারণত Settings > System > Gestures (বা Settings > Advanced features > Motions and gestures – স্যামসাং), পিক্সেলে Settings > System > Gestures এবং আইফোনে Settings > Accessibility > Touch থেকে বিভিন্ন জেসচার চালু/বন্ধ করা যায়।
জনপ্রিয় নেভিগেশন জেসচার: স্ক্রিনের নিচ থেকে সোয়াইপ করে Home, ডান/বাম প্রান্ত থেকে সোয়াইপে Back, নিচ থেকে ধরে মাঝখানে থামিয়ে Recent apps—ফিজিক্যাল/অন-স্ক্রিন বাটনের ঝামেলা ছাড়াই বড় স্ক্রিনে এক হাতে ব্যবহার সহজ হয়। যাদের হাত ছোট বা বড় ফোন ব্যবহৃত, তাঁদের জন্য এটি বিশেষ সুবিধাজনক।
দ্রুত অ্যাকশন জেসচার (উদাহরণ): তিন আঙুলে সোয়াইপ করলে স্ক্রিনশট, পাওয়ার বাটন ডাবল-প্রেসে ক্যামেরা, স্ক্রিনে Double Tap করে জাগানো/লক করা, পকেট থেকে তুললে Raise to Wake, কল চলাকালে ফোন উল্টো করলে Flip to Mute, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের উপর সোয়াইপে নোটিফিকেশন শেড নামানো, পিক্সেলে Quick Tap (ব্যাক ট্যাপ) দিয়ে ফ্ল্যাশলাইট/স্ক্রিনশট/অ্যাপ শর্টকাট চালু—এসব ফিচার সময় ও ট্যাপ বাঁচায়।
iPhone Back Tap ও Assistive জেসচার: Back Tap (Double/Triple)–এ স্ক্রিনশট, ক্যামেরা, শর্টকাট অটোমেশন, ম্যাগনিফায়ার ইত্যাদি বেঁধে দিন। AssistiveTouch–এর কাস্টম মেনুতে আপনার পছন্দের অ্যাকশন যোগ করলে এক ট্যাপে একাধিক কাজ সম্ভব হয়—যা বিশেষ করে এক হাতে ও এক্সেসিবিলিটি প্রয়োজনে দারুণ কার্যকর।
Samsung Edge Panel ও One-handed Mode: স্যামসাং-এর Edge Panel–এ প্রিয় অ্যাপ, টুলস, ক্লিপবোর্ড, ক্যালকুলেটর, রুলার—ভাসমান সাইডবার থেকে তৎক্ষণাৎ চালু করতে পারেন। One-handed mode স্ক্রিনকে ছোট করে এনে আঙুলের নাগালে দেয়—বড় ডিসপ্লেতে প্রোডাক্টিভিটি বাড়ে।
কীভাবে কাস্টমাইজ করবেন: অপ্রয়োজনীয় জেসচার বন্ধ রাখুন, প্রয়োজনীয়গুলোর সংবেদনশীলতা (edge sensitivity / back gesture sensitivity) এমনভাবে ঠিক করুন যেন ভুল স্পর্শে অ্যাকশন না হয়। যেসব কাজ প্রতিদিন করেন—টর্চ, স্ক্রিনশট, ক্যামেরা, নোট, পেমেন্ট স্ক্যান—সেগুলোকে জেসচারের সাথে বেঁধে দিন। কাজের ধরন ও অভ্যাস অনুযায়ী ১–২ সপ্তাহ টিউন করুন।
ব্যাটারি ও পারফরম্যান্স টিপস: সব জেসচার চালু রাখলে সেন্সর সবসময় সক্রিয় থেকে সামান্য ব্যাটারি খরচ বাড়াতে পারে। যেগুলো ব্যবহার করেন না—যেমন Lift to Wake, Air gestures—বন্ধ রাখুন। স্ক্রিনশট/ফ্ল্যাশলাইটের মতো বেশি ব্যবহার হওয়া অ্যাকশনগুলোকেই অগ্রাধিকার দিন।
সমস্যা সমাধান: ব্যাক জেসচার ভুলে ট্রিগার হলে স্ক্রিনের প্রান্তের সেনসিটিভিটি কমান। কভার/গ্লাসের কারণে জেসচার কাজ না করলে Touch sensitivity বাড়ান। নির্দিষ্ট অ্যাপে জেসচার কনফ্লিক্ট হলে সেই অ্যাপের Full-screen পারমিশন বা জেসচার এক্সক্লুশন (Edge protection) সেটিং যাচাই করুন।
নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা: লকস্ক্রিনে ক্যামেরা/ফ্ল্যাশ চালু রাখা সুবিধাজনক হলেও, ব্যক্তিগত তথ্যভিত্তিক অ্যাপ (ফাইল, পেমেন্ট, গ্যালারি) জেসচারে সরাসরি না বেঁধে রাখাই ভালো—বায়োমেট্রিক/পিন নিশ্চিত করুন।
এসইও-ফ্রেন্ডলি নোট: কনটেন্টে প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড ব্যবহার করুন—“জেসচার কন্ট্রোল”, “Android navigation gestures”, “iPhone Back Tap”, “Edge Panel”, “One-handed mode”, “Flip to mute”, “Three-finger screenshot” ইত্যাদি। ব্যবহারকারীর প্রশ্নভিত্তিক উপশিরোনাম (যেমন “কোথায় পাবেন”, “কীভাবে কাস্টমাইজ করবেন”, “সমস্যা সমাধান”) যোগ করলে Featured Snippet ও People Also Ask—এ দেখানোর সম্ভাবনা বাড়ে। অভ্যন্তরীণ লিঙ্ক হিসেবে “হিডেন শর্টকাট সেটিংস”, “সিক্রেট কোড”, “প্রাইভেসি টিপস”—এ রেফার দিন।
৫. অ্যাপ ক্লোনিং সিস্টেম
আধুনিক স্মার্টফোনের অন্যতম আকর্ষণীয় একটি ফিচার হলো অ্যাপ ক্লোনিং সিস্টেম। এই ফিচারের মাধ্যমে একই মোবাইলে একই অ্যাপের দুটি আলাদা কপি ব্যবহার করা যায়। যেমন—আপনার যদি দুটি সিম কার্ড থাকে এবং দুটি আলাদা WhatsApp, Facebook বা Messenger অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে চান, তবে অ্যাপ ক্লোনিং সিস্টেম আপনাকে সেই সুযোগ করে দেবে। এতে আলাদা ফোন ব্যবহার করার ঝামেলা কমে যায় এবং ব্যক্তিগত ও অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট সহজে ম্যানেজ করা সম্ভব হয়।
সাধারণত মোবাইলের Settings এ গিয়ে App Clone, Dual Apps অথবা App Twin নামে একটি অপশন পাওয়া যায়। সেখান থেকে যেকোনো সাপোর্টেড অ্যাপ ক্লোন করা যায়। ক্লোনকৃত অ্যাপ আলাদা আইকন হিসেবে হোমস্ক্রিনে দেখা যায় এবং সম্পূর্ণ নতুনভাবে লগইন করার সুযোগ দেয়।
অ্যাপ ক্লোনিং এর সুবিধা:
- একই মোবাইলে একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চালানো।
- অফিসিয়াল ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট আলাদাভাবে ম্যানেজ করা।
- বিভিন্ন অনলাইন সার্ভিসে একাধিক আইডি ব্যবহার করা।
তবে মনে রাখতে হবে, সব অ্যাপ ক্লোনিং সাপোর্ট করে না। সাধারণত WhatsApp, Facebook, Messenger, Instagram, Telegram ইত্যাদি জনপ্রিয় অ্যাপগুলোতে এই ফিচার কাজ করে। তাই আপনার ফোনে এই সিস্টেমটি থাকলে তা ব্যবহার করে স্মার্টভাবে একাধিক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারবেন।
৬. প্রাইভেসি লক ও হিডেন অ্যাপস
বর্তমান ডিজিটাল যুগে প্রাইভেসি লক ও হিডেন অ্যাপস ফিচার মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা। অনেক সময় আমাদের ফোনে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, ডকুমেন্ট বা অ্যাপ থাকে যা আমরা চাই না অন্য কেউ দেখতে পাক। এই ক্ষেত্রে মোবাইলের বিল্ট-ইন প্রাইভেসি লক এবং হিডেন অ্যাপস সিস্টেম আপনাকে সেই সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
অধিকাংশ স্মার্টফোনে এখন App Lock বা Privacy Protection নামে অপশন থাকে। এর মাধ্যমে আলাদা প্যাটার্ন, পিন বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে যেকোনো অ্যাপ লক করা যায়। এমনকি কিছু ফোনে Hidden Apps ফিচার থাকে, যেখানে নির্দিষ্ট অ্যাপ হোমস্ক্রিন থেকে পুরোপুরি অদৃশ্য করে রাখা যায়। ফলে অন্য কেউ ফোন ব্যবহার করলেও সহজে সেই অ্যাপগুলো খুঁজে পাবে না।
প্রাইভেসি লক ও হিডেন অ্যাপস এর সুবিধা:
- ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও ও ডকুমেন্ট সুরক্ষিত রাখা।
- অ্যাপসকে পাসওয়ার্ড বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে লক করার সুবিধা।
- হোমস্ক্রিন থেকে অ্যাপ সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা।
- ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কারো হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি কমানো।
এছাড়াও, অনেক মোবাইলে Private Safe বা Secure Folder নামের বিশেষ স্টোরেজ অপশন থাকে, যেখানে সংবেদনশীল ফাইল সংরক্ষণ করা যায়। তাই যদি আপনি মোবাইলের ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রাখতে চান, তাহলে এই ফিচারগুলো ব্যবহার করা অবশ্যই জরুরি।
৭. ব্যাটারি সেভিং ট্রিকস
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সমস্যার মধ্যে একটি হলো দ্রুত ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়া। তাই ব্যাটারি সেভিং ট্রিকস জানা থাকলে আপনার ফোন দীর্ঘক্ষণ চার্জে রাখতে পারবেন এবং হঠাৎ চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ার ঝামেলা থেকেও বাঁচবেন। স্মার্টফোন নির্মাতারা এখন বিভিন্ন ব্যাটারি অপ্টিমাইজেশন ফিচার দিয়ে থাকে, তবে ব্যবহারকারীদের কিছু কৌশল জানা থাকলে এনার্জি আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।
প্রথমত, Battery Saver Mode অন করে রাখলে ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলমান অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ করে দেয়, স্ক্রিন ব্রাইটনেস কমিয়ে আনে এবং সিস্টেমকে অপ্টিমাইজ করে। এছাড়াও, অপ্রয়োজনীয় Wi-Fi, Bluetooth, Location সব সময় চালু না রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করলে ব্যাটারির আয়ু বাড়ে।
অনেক সময় Background App Refresh বা Auto Sync অপশন চালু থাকলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যাটারি খরচ হয়। তাই এই সেটিংসগুলো কাস্টমাইজ করে রাখা উচিত। পাশাপাশি, ফোনের ডিসপ্লে টাইমআউট কমিয়ে এবং ডার্ক মোড ব্যবহার করলে ব্যাটারি খরচ অনেক কমে যায়।
ব্যাটারি সেভ করার কার্যকর টিপস:
- Battery Saver বা Power Saving Mode চালু রাখা।
- ডার্ক মোড ব্যবহার করা।
- অপ্রয়োজনীয় কানেক্টিভিটি (Wi-Fi, Bluetooth, Location) বন্ধ রাখা।
- ব্যাকগ্রাউন্ডে চলমান অ্যাপ ম্যানেজ করা।
- স্ক্রিন ব্রাইটনেস অটো-অ্যাডজাস্ট মোডে রাখা।
- ফোন চার্জ ২০% এর নিচে নামার আগে চার্জে দেওয়া।
সঠিকভাবে ব্যাটারি সেভিং ট্রিকস মেনে চললে শুধু চার্জ দীর্ঘস্থায়ী হয় না, বরং ফোনের ব্যাটারি লাইফস্প্যানও বাড়ে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ফোন ব্যবহার করা সম্ভব হয়।
✅ সুরক্ষার টিপস ও করণীয়
স্মার্টফোন আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংকিং ডিটেইলস, ছবি ও অফিসিয়াল ডেটার ভাণ্ডার। তাই এর সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অল্প কিছু সুরক্ষার টিপস ও করণীয় মেনে চললে আপনি আপনার ডিভাইসকে হ্যাকিং, ম্যালওয়্যার, বা ডেটা লিক থেকে রক্ষা করতে পারবেন।
প্রথমত, সবসময় স্ট্রং পাসওয়ার্ড, ফিঙ্গারপ্রিন্ট লক বা ফেস আনলক ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া ফোনে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) চালু রাখলে নিরাপত্তা অনেকগুণ বেড়ে যায়। অজানা লিঙ্কে ক্লিক না করা এবং অবিশ্বস্ত অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড না করাও ডিভাইস সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট ইনস্টল করলে আপনার ফোন নতুন সিকিউরিটি প্যাচ পায়, যা সাইবার আক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর। পাশাপাশি, ব্যাকআপ সিস্টেম চালু রেখে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা Google Drive বা অন্য ক্লাউডে সংরক্ষণ করলে ডেটা হারানোর ঝুঁকি কমে যায়।
সুরক্ষার কার্যকর টিপস:
- শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ও বায়োমেট্রিক লক ব্যবহার করুন।
- টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) সক্রিয় করুন।
- অজানা লিঙ্ক বা স্প্যাম মেসেজে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন।
- অ্যাপ শুধুমাত্র Play Store বা অফিসিয়াল সোর্স থেকে ডাউনলোড করুন।
- নিয়মিত সফটওয়্যার ও সিকিউরিটি আপডেট ইনস্টল করুন।
- ব্যাকআপ ও এনক্রিপশন ব্যবহার করে ডেটা সুরক্ষিত রাখুন।
মনে রাখবেন, প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, সাইবার ঝুঁকিও তত বাড়ছে। তাই সঠিক সুরক্ষার করণীয় মেনে চললে আপনি আপনার স্মার্টফোন ও ব্যক্তিগত ডেটা সর্বোচ্চ নিরাপদ রাখতে পারবেন।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url